ব্রেকিং নিউজ
কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের কাছে হার মেয়েদের পেঁয়াজের গায়ে কালো দাগ থাকলে খাবেন নাকি ফেলে দেবেন স্ত্রীর মামলায় ভারতে পালানোর চেষ্টা, ইমিগ্রেশনে গ্রেফতার নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থী ফুয়াদ খালাস রাত থেকে টানা ২০ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায় জাতীয় কবি নজরুল ইসলামকে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবী বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত দুই শিক্ষক, দেন না শোকজের জবাবও শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে বিএনপি তিন মাস মাদক-কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজির মামলায় জামিন চাইবেন না আইনজীবীরা ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জাতীয়

ডাকসুর এক বছর: সাফল্যের দাবি, ব্যর্থতার অভিযোগ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দায়িত্ব হস্তান্তরে প্রস্তুত বর্তমান নেতৃত্ব দ্রুত নির্বাচন চান শিক্ষার্থীরা ৩৬ দফার বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ এক বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়ে বেছে নিয়েছিলেন নিজেদের প্রতিনিধি। দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত সেই ডাকসু নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার কমতি ছিল না। নির্বাচনের আগে ৩৬ দফার ইশতেহার সামনে রেখে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজয়ী প্যানেল। নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন সংকটের সমাধান, মানসম্মত খাবার, স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত পরিবহন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ক্যারিয়ার ও একাডেমিক পরিবেশ—প্রতিশ্রুতির তালিকা ছিল দীর্ঘ। শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধিকে ভোট দিতে পারে এবং নির্বাচিত নতুন প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে তারা প্রস্তুত। এক বছর পর সেই প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে—এখন সামনে উঠছে সেই প্রশ্নই। আরও পড়ুন ডাকসু / শিবির সমর্থিত প্যানেলের ৩৬ দফা প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়ন হলো? ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্ব বলছে, নানা বাধা, প্রশাসনিক অসহযোগিতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তারা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তাদের দাবি, গত এক বছরে পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং হলের পড়াশোনার পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী ছাত্রসংগঠন ও বিভিন্ন শিক্ষার্থীর অভিযোগ—৩৬ দফার অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি। বরং খাদ্য, আবাসন, নিরাপত্তা ও একাডেমিক পরিবেশের মতো মৌলিক সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে। কারো কারো অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা ও ক্ষমতার চর্চাই ডাকসুর কার্যক্রমে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। আরও পড়ুন ছাত্রসংসদ মানে ক্ষমতা নয়, সেবা; আধিপত্য নয়, প্রতিনিধিত্ব: ডাকসু ভিপি ফলে এক বছর পূর্তিতে ডাকসুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সাফল্যের দাবি ও ব্যর্থতার অভিযোগ—দুই বিপরীত বয়ান। ক্যাম্পাসে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের গণরুম-গেস্টরুমের মতো নিপীড়নমূলক সংস্কৃতি ফিরে আসার পথও বন্ধ হয়েছে। ক্ষমতা চর্চার উৎস নয়, পবিত্র দায়িত্ব এক বছর পূর্তিতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের। তিনি বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একদিনও পদ আঁকড়ে থাকার ইচ্ছা তাদের নেই। ডাকসুকে তারা ক্ষমতা চর্চার উৎস হিসেবে নয়, পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে দেখেছেন। তার ভাষায়, পরবর্তী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে তারা প্রস্তুত। নানা বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা কোনো ঘাটতি না রেখে কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। আরও পড়ুন ডাকসুর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিলেন ঢাবির ৬৫০০ শিক্ষার্থী এবি জুবায়েরের দাবি, বিভিন্ন পর্যায়ে অসহযোগিতা ও বিরোধিতা থাকলেও আল্লাহর রহমতে তারা একটি উদাহরণ সৃষ্টি করতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে প্রতিবছর ডাকসু নির্বাচন এবং দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়মিত নির্বাচিত ছাত্র সংসদ চান বলেও জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। নানা দিক থেকে বাধা ও প্রতিকূলতা থাকলেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে উদ্যোগ অব্যাহত ছিল। ভিপির চোখে ‘ইতিবাচক রূপান্তরের সূচনা’ ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এক বছর পূর্তিতে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, নানা অসহযোগিতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তার দাবি, ক্যাম্পাসে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের গণরুম-গেস্টরুমের মতো নিপীড়নমূলক সংস্কৃতি ফিরে আসার পথও বন্ধ হয়েছে। পরিবহন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় উদ্বুদ্ধকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং হলের পড়াশোনার পরিবেশ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আরও পড়ুন ডাকসু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে বৈঠক, চূড়ান্ত হয়নি তফসিল সাদিক কায়েমের ভাষায়, ছাত্র সংসদ মানে ক্ষমতা নয়—সেবা; আধিপত্য নয়—প্রতিনিধিত্ব; ভয় নয়—স্বাধীনতা। নতুন হল নির্মাণ ও আবাসন সংকট দূর করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। নতুন অবকাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী হলে থাকার সমস্যাও পুরোপুরি দূর হবে না। তিনি নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধিকে ভোট দিতে পারে এবং নির্বাচিত নতুন প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে তারা প্রস্তুত। জিএসের বক্তব্যে ‘লড়াইয়ের এক বছর’ ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এক বছরকে দেখছেন দীর্ঘ লড়াইয়ের সময় হিসেবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। নানা দিক থেকে বাধা ও প্রতিকূলতা থাকলেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে উদ্যোগ অব্যাহত ছিল। তার দাবি, গত এক বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য সহস্রাধিক কল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নে তারা কাজ করেছেন। হল দখল ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের পুরোনো সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে ফরহাদ বলেন, এবার হলগুলোকে কোনো রাজনৈতিক দলের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেওয়া হয়নি। হল শিক্ষার্থীদেরই থাকবে—এমন অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি। আরও পড়ুন শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে ডাকসু সভায় ২৯ সিদ্ধান্ত একই সঙ্গে দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে এবং নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া যায়—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন জিএস। ৩৬ দফার পর অপ্রকাশিত ‘৩৭ নম্বর ইশতেহার’ যেন ছিল—‘প্রশাসনিক অসহযোগিতায় বাকি ৩৬টিও বাস্তবায়ন করতে পারবো না।’ আত্মমূল্যায়নে ডাকসুকে ১০-এ ৬.৫ তবে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমার মূল্যায়ন কিছুটা ভিন্ন। তিনি নিজের ব্যক্তিগত মূল্যায়নে ডাকসুর এক বছরের কার্যক্রমকে ১০-এর মধ্যে ৬.৫ দিয়েছেন। তার মতে, একজন শিক্ষার্থী নিজের খাতা নিজে মূল্যায়ন করলে যেমন নিজের ভুল-ত্রুটিও সামনে আসে, ডাকসুর ক্ষেত্রেও তেমন কিছু প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ডাকসু ও হল সংসদ কার্যকর থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহির মধ্যে আসতে হয়েছে। বিশেষ করে খাদ্য, আবাসন ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়ে এখনো প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে যথেষ্ট ব্যবধান রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। আবাসন সংকটের বিষয়ে তিনি জানান, নতুন হল নির্মাণ ও আবাসন সংকট দূর করার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় প্রয়োজন। নতুন অবকাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিক্ষার্থী হলে থাকার সমস্যাও পুরোপুরি দূর হবে না। খাবারের মান ও শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তুকির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হলেও খাদ্যসংক্রান্ত সমস্যা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন তিনি। আরও পড়ুন ডাকসুর উদ্যোগে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আসছে ইকো-ফ্রেন্ডলি বাস শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যায় দ্রুত সাড়া দেওয়াকে তিনি ডাকসুর অন্যতম অর্জন হিসেবে দেখছেন। হাসপাতালে শয্যার ব্যবস্থা, আইসোলেশনে সহযোগিতা, মোবাইল বা ব্যাগ চুরির মতো সমস্যায় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ৩৬ দফা নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ডাকসুর এক বছরের মূল্যায়নে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে নির্বাচনের আগে দেওয়া ৩৬ দফা ইশতেহার। বিরোধীদের অভিযোগ, যে ছয়টি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল—নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন সংকট সমাধান, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, উন্নত পরিবহন এবং ক্যারিয়ার গঠনে তথ্য ও সেবা—সেগুলোর কোনো ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। ছাত্রদলের ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক মায়েদ কটাক্ষ করে বলেন, ৩৬ দফার পর অপ্রকাশিত ‘৩৭ নম্বর ইশতেহার’ যেন ছিল—‘প্রশাসনিক অসহযোগিতায় বাকি ৩৬টিও বাস্তবায়ন করতে পারবো না।’ তার দাবি, বর্তমান ডাকসু তাদের মেয়াদের প্রথম ছয় মাস এক প্রশাসন এবং পরের ছয় মাস আরেক প্রশাসনের অধীনে কাজ করেছে। তবে প্রথম ছয় মাস তারা ডাকসুর কার্যক্রমের চেয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বেশি ব্যস্ত ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রশাসনকে দায় দিয়ে দায় এড়ানো যাবে না শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ডাকসুর কার্যক্রম নিয়ে রয়েছে ভিন্নমত। ঢাবির শিক্ষার্থী মনোয়ার হোসাইন মনে করেন, প্রশাসনের ওপর দায় চাপিয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের জন্য দেওয়া ভোটের মূল্যকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। যে ছয়টি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল—নিরাপদ ক্যাম্পাস, আবাসন সংকট সমাধান, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, উন্নত পরিবহন এবং ক্যারিয়ার গঠনে তথ্য ও সেবা—সেগুলোর কোনো ক্ষেত্রেই প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। তার অভিযোগ, ৩৬ দফা ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর কোনোটিই প্রত্যাশিতভাবে পূরণ হয়নি। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাশনুন স্নিগ্ধও ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করেছেন। তার প্রশ্ন—ইশতেহার দেওয়ার সময় এসব বাস্তবায়নের কথা মাথায় ছিল না কি? তার অভিযোগ, মেয়াদ শেষের দিকে কিছু কাজ তড়িঘড়ি করে করে সেগুলোর প্রচারণা চালানোই হয়তো বর্তমান নেতৃত্বের লক্ষ্য। ডাকসু প্রশাসনের জন্য জবাবদিহির জায়গা তৈরি করেছে তবে সব শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন নেতিবাচক নয়। ঢাবির শিক্ষার্থী হোছাইন আহমেদ জুবায়েরের মতে, ডাকসু ও হল সংসদ কার্যকর থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহির মধ্যে আসতে হয়েছে। তার ভাষায়, প্রশাসনের কাজের গতি বাড়াতে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ছাত্র সংসদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আরেক শিক্ষার্থী সুহাইল মাহদীন মনে করেন, ডাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা উচিত। তার মতে, প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে ডাকসু নির্বাচন হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি। বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের অভিযোগ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হকও বর্তমান ডাকসুর কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন পর ডাকসু নির্বাচন হলেও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারেনি ডাকসু। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিবর্তে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ও দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার বেসরকারীকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণসহ প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও ডাকসু যথাযথ অবস্থান নেয়নি বলে দাবি করেন তিনি। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। ছাত্রদলের সমালোচনা, শিবিরের পাল্টা বক্তব্য ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের অন্যতম সমালোচক ছাত্রদল নেতা হামিমের বক্তব্যেও উঠে এসেছে ৩৬ দফার প্রসঙ্গ। তার দাবি, ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি। খাবার, পানি, শিক্ষক মূল্যায়ন, হলের মৌলিক সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। ডাকসু নির্বাচন মূলত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। বিষয়টি নিয়ে হল, বিভাগ, অনুষদ ও বিভিন্ন কমিটি পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে কবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও জরুরি সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিবর্তে ডাকসু কার্যালয়ে বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে অনিক খন্দকার বর্তমান ডাকসুর নেতৃত্বকে আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, ৩৬ দফার প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে নানা অজুহাত দেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য—‘নির্বাচনের সিদ্ধান্ত এগোচ্ছে’ পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ইসরাফিল রতন বলেন, ডাকসু নির্বাচন মূলত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়। তার ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে হল, বিভাগ, অনুষদ ও বিভিন্ন কমিটি পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তবে কবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—পরবর্তী ডাকসু কবে? এক বছর আগে যে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচন হয়েছিল, এক বছর পর সেই ডাকসুর সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এরপর কী? বর্তমান নেতৃত্ব দায়িত্ব হস্তান্তরে প্রস্তুত। কেউ বলছেন, প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। কেউ নিজের কার্যক্রমকে ১০-এর মধ্যে ৬.৫ নম্বর দিয়ে স্বীকার করছেন প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান। আবার বিরোধীরা বলছেন, ৩৬ দফার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি। এই পরস্পরবিরোধী মূল্যায়নের মধ্যেই শেষ হচ্ছে বর্তমান ডাকসুর মেয়াদ। তবে একটি বিষয়ে প্রায় সবাই একমত—ডাকসু নির্বাচন নিয়মিত হওয়া প্রয়োজন। কারণ ছাত্র সংসদ শুধু একটি নির্বাচিত কমিটির নাম নয়; এটি শিক্ষার্থীদের কথা বলার, দাবি জানানোর এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহির মধ্যে রাখার অন্যতম সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম। তাই এখন শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা—পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা হবে? এক বছর আগে যে ভোটে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এবার সেই ভোটই ঠিক করবে—আগামী এক বছরের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব কার হাতে যাবে। আরটি/এসএইচএস
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>