বিজ্ঞাপন
চুক্তির মেয়াদ ১০ থেকে ২০ বছর অতিবাহিত হলেও প্লট মালিক ও ক্রেতাদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়ায় ডেভেলপার কোম্পানি ডোম-ইনো লিমিটেডে অস্থায়ী লিকুইডেটর (অবসায়ক) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আইনি ও ব্যবসায়িক পরিভাষায় লিকুইডেটর এমন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যাকে দেউলিয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনো কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে তার ঋণ ও পাওনা পরিশোধ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
ডোম-ইনোর বিলুপ্তি চেয়ে মামলা, সম্পদ বেচে পাওনা মেটানোর দাবি
সম্প্রতি ৭৩ জন ফ্ল্যাট ক্রেতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি সিকদার মাহমুদুর রাজির একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জামিল খান ও অ্যাডভোকেট মাহমুদ খলিল।
অপরপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু তালেব, ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মেহেদী হাসান, অ্যাডভোকেট নুর-ই আলম চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট শায়লা শারমিন।
রায়ে আদালত বলেন, আপাতত ডোম-ইনো প্রমেসা প্রকল্পের সব দায়িত্বে থাকবেন উচ্চ আদালত নিযুক্ত অস্থায়ী লিকুইডেটর।
অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে এ ধরনের আদেশ একটি মাইলফলক। এখন থেকে কোনো আবাসন কোম্পানি কিংবা ডেভেলপার গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করার সাহস পাবে না। ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করলে কোন ধরনের পরিণতি হতে পারে উচ্চ আদালতের এ আদেশ সে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’
আরও পড়ুন
জমছে অভিযোগের পাহাড় / ফ্ল্যাট কিনেও বুঝে পাচ্ছেন না ডোম-ইনোর ক্রেতারা
রাজধানীর শান্তিনগরে ডোম-ইনো প্রমেসা নামক প্রকল্পে ফ্ল্যাট বুকিং দিয়ে প্রায় সব অর্থ পরিশোধ করেও ফ্ল্যাট বুঝে পাননি ক্রেতারা। এর মধ্যে পার হয়েছে ১০ থেকে ২০ বছর। এ সংক্রান্ত বিষয়ে জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ভুক্তভোগীরা। ওই রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে উচ্চ আদালত হাইকোর্ট রুল জারিসহ নির্দেশনা দেন।
আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চুক্তির এত বছরের মধ্যেও বহু প্লট মালিক ও ক্রেতাদের ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দিয়ে ভয়ংকর প্রতারণার অভিযোগ থাকা ডেভেলপার কোম্পানি ডোম-ইনো লিমিটেডে অস্থায়ী লিকুইডেটর প্রকল্পের দায়িত্বে থাকবেন।
একই সঙ্গে ডোম-ইনোতে বিনিয়োগ করে ভুক্তভোগী অন্য প্লট মালিক ও ফ্ল্যাট ক্রেতারা আদালতের শরণাপন্ন হলে তাদের আবেদনও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আইনজীবী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের মধ্যে কোম্পানি ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে কোথাও শুধু স্ট্রাকচার নির্মাণ করে রাখা হয়েছে, কোথাও ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়নি। এভাবে ১০-১৫-২০ বছর ধরে এসব স্থাপনা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, গ্রাহক ও ক্রেতাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে কোম্পানি আইনের ২৪২ ধারায় প্রথমে ডোম-ইনোকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। লিগ্যাল নোটিশে সুনির্দিষ্ট অর্থের উল্লেখ, অর্থ গ্রহণের স্বীকৃতি ও রসিদ ছিল। অর্থাৎ, অর্থ দেওয়া নিয়ে কোম্পানি ও গ্রাহকের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।
৭৩ জনের করা রিটে অভিযোগ করা হয়, ফ্ল্যাট বিক্রেতারা কোম্পানিকে টাকা দেওয়া শুরু করেন ২০১২ সালে। চুক্তি মোতাবেক ভবন নির্মাণ শেষে ফ্ল্যাট বুঝে পাওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ভবনই নির্মাণ করা হয়নি। শুধু স্ট্রাকচার প্রস্তুত করা হয়েছে।
শুনানিতে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন আদালতে এ সংক্রান্ত মামলা রেফারেন্স হিসেবে তুলে ধরেন আইনজীবী। এরপর শুনানি শেষে আদেশ দেন উচ্চ আদালত।
লিকুইডেটরের দায়িত্ব
অস্থায়ী অবসায়কের কার্যক্রম ও কাজের পরিধি সম্পর্কে কোম্পানি আইন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খান জানান, একজন অবসায়ক বন্ধ হতে যাওয়া কোম্পানির সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন। কোম্পানির সম্পদ বা মালামাল বিক্রি করে নগদ অর্থে রূপান্তর করা এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে নিয়ম অনুযায়ী পাওনাদার ও ব্যাংকগুলোর ঋণ পরিশোধ করেন। এছাড়া সব দেনা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত অর্থ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করেন তিনি।
এফএইচ/এএসএ
বিজ্ঞাপন