জাতীয়

তথ্য গোপন করে হাদি হত্যা মামলার আসামির জামিন আবেদন, সরাসরি খারিজ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি মো. আমিনুল ইসলাম রাজুর জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। জামিন আবেদনে মামলার হত্যা-সংক্রান্ত দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা উল্লেখ না করে তথ্য গোপনের অভিযোগে আদালত এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে শুনানির সময় মামলার প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন না করায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সতর্ক করেছেন আদালত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মশিউর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রুকনুজ্জামান সুজা। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন তিনি। যেভাবে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে জামিন আবেদনের শুনানির শুরুতে আদালত আসামির পক্ষে উপস্থিত আইনজীবীর কাছে জানতে চান, আমিনুল ইসলাম রাজু হত্যা মামলার আসামি কি না। জবাবে আইনজীবী ‘হ্যাঁ’ বলেন। এরপর আদালত মামলার ভুক্তভোগীর নাম জানতে চাইলে আইনজীবী শুধু ‘ওসমান’ বলেন। তখন আদালত জানতে চান, ‘ওসমান’-এর আগে বা পরে আর কোনো নাম আছে কি না। এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে আইনজীবী নীরব থাকেন। এতে আদালতের সন্দেহ হয়। পরে জামিন আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত নথিপত্র যাচাই করে আদালত নিশ্চিত হন, এটি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলা। এরপর আদালত আমিনুল ইসলাম রাজুর জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে তথ্য গোপনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সতর্ক করেন। ৩০২ ধারা গোপনের অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রুকনুজ্জামান সুজা বলেন, জামিন আবেদনের শুরুতে ‘কজ টাইটেল’-এ আসামির বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলার তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি বলেন, মামলার চার্জশিটের প্রথম পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে দ্বিতীয় পৃষ্ঠা আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল। ফলে চার্জশিটের প্রথম পৃষ্ঠায় থাকা দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিষয়টি কজ টাইটেলে ছিল না। রুকনুজ্জামান সুজা বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী, জামিন আবেদনের শুরুতে কজ টাইটেলে আসামির বিরুদ্ধে থাকা মামলার ধারাগুলো উল্লেখ করার কথা। কিন্তু আমিনুল ইসলাম রাজুর আবেদনে হত্যা মামলার ৩০২ ধারা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে কজ টাইটেল দেখে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে—এমন তথ্য সহজে জানা যাচ্ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আদালত যখন জানতে চান মামলায় ভিকটিম কে, তখন জামিন আবেদনের পক্ষে থাকা আইনজীবী শুধু “ওসমান” বলেন। আদালত জানতে চান, ওসমানের আগে বা পরে আর কোনো নাম নেই কি না। এ সময় আইনজীবী কোনো জবাব দেননি।’ পরে আদালত নথিপত্র যাচাই করে দেখতে পান, আমিনুল ইসলাম রাজু শরীফ ওসমান বিন হাদী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর জামিন আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তার অভিযোগ এর আগে শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে সীমান্ত এলাকায় আত্মগোপনে সহায়তা করার অভিযোগে মো. আমিনুল ইসলাম রাজুকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকা থেকে আমিনুলকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে যান। মামলায় আরও ৯ জন গ্রেফতার এ মামলায় এর আগে আরও নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন—ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার ও তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী, মোটরসাইকেলের মালিক মো. কবির এবং ভারতে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ফয়সালের মা-বাবা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। যেভাবে হত্যা মামলা হয় মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। এর দুইদিন পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাদির মৃত্যু হলে মামলায় হত্যার ধারা ৩০২ যুক্ত করা হয়। তবে হাদি হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আমিনুল ইসলাম রাজু পরবর্তী সময়ে জামিনের আবেদন করার সময় মামলায় যুক্ত হওয়া দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বিষয়টি গোপন করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী জামিন আবেদনের শুরুতে কজ টাইটেলে মামলার সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো উল্লেখ করার কথা থাকলেও তার আবেদনে হত্যা মামলার ৩০২ ধারাটি উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণেই তথ্য গোপন করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তার জামিন আবেদন খারিজ করেন হাইকোর্ট। এফএইচ/জেএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>