ব্রেকিং নিউজ
ইটবোঝাই ট্রাকের চাপায় সাবেক ইউপি সদস্য নিহত, প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতার সড়ক অবরোধ বুয়েট ছাত্র সানি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ৪৩ বার পেছাল ক্যান্সারের টিকা: যুগান্তকারী এমআরএনএ প্রযুক্তিতে যেভাবে লেখা হচ্ছে নতুন ইতিহাস আনাক ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাত, ইন্দোনেশিয়ার পাঁচ বিমানবন্দরের তিন শতাধিক ফ্লাইট স্থগিত সংকটের সমাধান না হলে স্থানীয়দের সঙ্গে রোহিঙ্গারাও ভুক্তভোগী হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় ১১ বছর কেটেও পদোন্নতি, জাল সনদে প্রধান প্রকৌশলী: খালেকুজ্জামানকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড় ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী-পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত শুভর মরদেহ পৌঁছাল সাতক্ষীরায় প্রায় বিয়ে করে ফেলেছিলেন অক্ষয়–শিল্পা, গোপন কথা ফাঁস করলেন প্রযোজক
জাতীয়

তরুণদের যে পরামর্শ দিলেন টিকটকের সিইও

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

১ আগস্ট সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির সমাবর্তনে বক্তৃতা দিয়েছেন টিকটকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাও জি চ্যু। পড়ুন নির্বাচিত অংশের অনুবাদ।

আজ এখানে দাঁড়িয়ে মনে পড়ে যাচ্ছে সিঙ্গাপুরে কাটানো আমার শৈশবের কথা। সেই অনিশ্চিত যাত্রার কথা, যা আমাকে আপনাদের সামনে এই মঞ্চে এনে দাঁড় করিয়েছে। পেছনে ফিরে তাকালে বুঝি, শিক্ষাই হলো সেই পাসপোর্ট, যার কোনো মেয়াদ লেখা থাকে না। শিক্ষাই আপনার পৃথিবীর সীমানা বারবার নতুন করে তৈরি করে।

আমার জন্ম আশির দশকে। সিঙ্গাপুরের ইউকাংয়ে। প্রাথমিক স্কুলে পড়ার সময়ও নিজ এলাকার বাইরে খুব বেশি ভাবতে পারতাম না। নিজের পাড়া, দৈনন্দিন অভ্যস্ত জীবনযাত্রা আর চেনা চারপাশই ছিল আমার গণ্ডি। কিন্তু একসময় দেশের অন্য প্রান্তে গিয়ে পড়ালেখা করার দারুণ একটা সুযোগ পাই। ইউকাং থেকে বুকিত তিমাহ হয়তো খুব বেশি দূরের পথ ছিল না; কিন্তু সেই ছোট্ট ছেলেটির জন্য এটাই ছিল অনেক। এই দূরত্বই আমাকে ‘আরামের গণ্ডি’ থেকে বের করে এনেছিল।

এটা আদতে পুরো সিঙ্গাপুরেরই গল্প। ভৌগোলিক সীমানায় আমরা হয়তো খুবই ক্ষুদ্র একটা দ্বীপরাষ্ট্র। কিন্তু কৌতূহল আর প্রতিকূলতা জয়ের সামর্থ্য ছিল বলেই বৈশ্বিক পর্যায়ে আমরা বিশাল প্রভাব তৈরি করতে পেরেছি।

আপনাদেরও এখন সেই প্রভাব বিস্তারের দিন। প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বদরবারে নিজের কাজ তুলে ধরার পাসপোর্ট এখন আপনাদের হাতে। গভীর ও বিশেষায়িত একাডেমিক জ্ঞান, অদম্য আবেগ ও প্রচলিত ধারাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো প্রস্তুতি নিয়েই আপনারা স্নাতক শেষ করেছেন।

আমি হয়তো আপনাদের মতো একই পথে হাঁটিনি, তবে ক্যারিয়ারজুড়েই কৌতূহলকে অনুসরণ করেছি। শৈশব থেকেই বিশ্বাস ছিল, সবাই যা আশা করে, তার চেয়ে আলাদা কিছু করার মাধ্যমেই আদতে প্রভাব তৈরি করা সম্ভব। আমি যখন ছোট, বাবা একটা ‘২৮৬’ (১৯৮০-এর দশকের জনপ্রিয় ব্যক্তিগত কম্পিউটার) কিনেছিলেন। সেটার সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিতাম। কোডিং করে দুর্দান্ত কোনো সফটওয়্যার বানিয়ে ফেলেছিলাম, এমনটা বলতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমি প্রচুর গেম খেলতাম। তবু কি–বোর্ডের সামনে কাটানো সেই সময়গুলো প্রযুক্তির প্রতি আমার ভালোবাসা বাড়িয়ে দিয়েছিল।

একসময় ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে অর্থনীতি পড়তে যাই। পরে (বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান) গোল্ডম্যান স্যাক্সে কাজ করি। এমবিএ করতে ভর্তি হই হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে। বিশ্ববাণিজ্য ও বিনিয়োগ কোন দিকে এগোচ্ছে, জানার তীব্র আগ্রহ থেকেই এই পথ বেছে নিয়েছিলাম। সে সময় নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোতে বিপুল বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছিল। চোখের সামনেই একটা বিশাল পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম। চারপাশের জীবন কত দ্রুত বদলে যাচ্ছে, দেখাটা সত্যিই চোখ খুলে দেওয়ার মতো ছিল।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির প্রতি আমার সেই শৈশবের সুপ্ত টান আবার জেগে উঠতে লাগল। সত্যিকারের কৌতূহলের এটাই সবচেয়ে সুন্দর দিক—এর ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। এই কৌতূহল শেষ পর্যন্ত আপনাকে ঠিক সেখানেই ফিরিয়ে আনে, যেখানে আবেগ লুকিয়ে। আমি এমন প্রযুক্তির অংশ হতে চেয়েছিলাম, যা পুরো বিশ্বকে বদলে দেবে; যা মানুষের জগৎ দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকে নতুন রূপ দেবে। আমি আর দর্শক হিসেবে সাইডলাইনে বসে থাকতে চাইনি।

দ্রুতই বুঝতে পারি, ফাইন্যান্সের অভিজ্ঞতা প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির ক্ষেত্রে দারুণ একটা সেতু হতে পারে। অ্যানালগ যুগে বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে ডিজিটাল রূপান্তরের সময় ক্যারিয়ার গড়া, কিংবা এই এআই যুগে টিকটকের নেতৃত্ব দেওয়া—এসব অভিজ্ঞতা থেকে আমি একটা জিনিস শিখেছি—প্রযুক্তি মানে কেবল হার্ডওয়্যার বা কোডিং নয়; প্রযুক্তি মানে মানুষের সুপ্ত সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়া; কোটি কোটি মানুষের কাছে একটা ধারণা পৌঁছে দেওয়া; যার একটা বলার মতো গল্প আছে, তাকে একটা বৈশ্বিক মঞ্চে দাঁড় করিয়ে দেওয়া।

এবার আপনাদের নেতৃত্ব দেওয়ার পালা। আপনারা কর্মজীবনে প্রবেশ করছেন এক নতুন, অচেনা এআইয়ের যুগে। ইতিহাসের এমন এক গুরুত্বপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর মোড়ে আমরা দাঁড়িয়ে, যেখানে পরিবর্তন কেবল সাধারণ হারে নয়, চক্রবৃদ্ধি হারে ও অবিশ্বাস্য গতিতে ঘটছে।

এই সময়টাকে আপনারা কীভাবে গ্রহণ করবেন? আমার শৈশবে যদি এই সময়টা পেতাম, কী করতাম? আমি বলব—অজানাকে উদ্‌গ্রীব হয়ে জানুন। এমন সব জায়গায় যুক্ত হোন, যেখানে আপনিই সবচেয়ে অনভিজ্ঞ। অনিশ্চয়তাকে আপন করে নিন। মেধাবী সহপাঠীদের নেটওয়ার্কের ওপর ভরসা রাখুন। কারণ, এরাই আপনার সমাজ বা কমিউনিটি, আর কঠিন সময়ে এই কমিউনিটিই আমাদের টিকিয়ে রাখবে।

শিক্ষার ‘পাসপোর্ট’ আপনাকে যেখানেই নিয়ে যাক না কেন, কৌতূহল সঙ্গে রাখুন। কারণ, কৌতূহলই আপনাদের সামনে নতুন জগতের মানচিত্র খুলে দেবে। সবশেষে বলব, সৃজনশীলতা ও ভেতরের আনন্দকে বাঁচিয়ে রাখুন। কারণ, আপনারাই সেই প্রজন্ম, যাঁরা ইতিবাচক উদ্ভাবনের এক নতুন যুগ গড়ে তুলবে।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>