ব্রেকিং নিউজ
শাহজালালে ৫ যাত্রীর ব্যাগে মিললো ২৪ লিটার মদ সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমেই অপসংস্কৃতির মোকাবিলা সম্ভব: জামায়াত আমির টাঙ্গাইলে বাসের ধাক্কায় নিহত এক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে যাওয়ার আমন্ত্রণ শায়রুল কবির খানের ব্যক্তিস্বার্থ বাদ দিয়ে দেশের ও মানবতার জন্য কাজ করার লোকের বড়ই অভাব নটর ডেম কলেজের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কবে, যা জানা গেলো ঢাবি কক্সবাজার স্টুডেন্টস ফোরামের নতুন নেতৃত্বে এমরান-তারেক দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই সেঞ্চুরি তরুণ ব্যাটারের, বিশাল জয়ে সিরিজ প্রোটিয়াদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু মাদক কারবারিকে আশ্রয়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার পদ স্থগিত
জাতীয়

দুর্গাপূজার বদলে শারদোৎসব লেখা যাবে না, নির্দেশ শুভেন্দুর

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আগামী ১৬ অক্টোবর। পূজার এই প্রাক্কালে গতকাল নতুন এক নির্দেশ জারি করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, এবার দুর্গাপূজার বদলে শারদোৎসব লেখা যাবে না।

বামপন্থী দলগুলো প্রতিবছর পূজামণ্ডপের কাছে মার্ক্সীয় সাহিত্যের যে স্টল দেয়, মূলত সেসব স্টলের কথা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী এই নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওই সব স্টলে দুর্গাপূজার বদলে শারদোৎসব লেখা হয়ে থাকে। এবার আর তা লেখা যাবে না; লিখতে হবে দুর্গোৎসব।

গতকাল বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। তাঁর এই বক্তব্য ছিল ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি–মার্ক্সবাদীকে (সিপিএম) উদ্দেশ করে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা দুর্গাপূজা বলে না। বলে শারদোৎসব। আমি সব পূজা কমিটিকে অনুরোধ করব, এই তথাকথিত কমিউনিস্টরা পূজার স্টলে দুর্গাপূজার জায়গায় শারদোৎসব লেখে। এবার আর দুর্গাপূজার জায়গায় শারদোৎসব লেখা যাবে না। যদি তা-ই লেখে, তবে ওদের একটা স্টলও করতে দেবেন না। এটা সামাজিক উৎসব নয়, হিন্দুদের পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান।’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছেন—পূজায় বাম দল বইয়ের স্টল দিতে চাইলে সেখানে শারদোৎসবের জায়গায় দুর্গোৎসব লিখতে হবে। কারণ, এটি হিন্দুদের কাছে পবিত্র এক ধর্মীয় অনুষ্ঠান। তিনি এই ইঙ্গিতও দিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে পত্রপত্রিকার পূজাসংখ্যাকে শারদসংখ্যা হিসেবে লেখা হচ্ছে। এটা কাম্য নয়।

এ প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘উনি জানেন না, বাংলায় দুটি শব্দ আছে—লক্ষ্য আর উপলক্ষ। দুর্গাপূজা উপলক্ষে নানা ক্ষেত্রের মানুষ নানা লক্ষ্যে ধাবিত হন। কেউ ম্যাগাজিন করেন, কেউ গানের অ্যালবাম করেন, কেউ অন্য শিল্পকলার প্রদর্শন করেন। সবটা মিলেই এটা হয়ে ওঠে উৎসব। মুখ্যমন্ত্রী বোধ হয় জানেন না, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও শারদোৎসব লিখেছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘এই সরকার বহুত্ববাদী চিন্তাকে ধ্বংস করার পথে যেতে চাইছে। লড়াই হবে।’

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী ঘোষণা দিয়েছেন, আগের মতো এবারও তাঁরা পুরোনো ধারা মেনে পূজামণ্ডপের কাছে বইয়ের স্টল দেবেন। তিনি বলেন, ‘উনি অবশ্য বই এবং মুক্তচিন্তাকে ভয় পান। শারদ উৎসবে বইয়ের স্টল হবেই। কেউ ঠেকাতে পারবে না। চ্যালেঞ্জ রইল। তৃণমূল ফ্যাসিবাদীরা বই পুড়িয়েছে। আপনিও তা–ই করবেন। বাংলা, বাঙালির উৎসব এই শারদোৎসব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শারদোৎসব।’

এ প্রসঙ্গে সাহিত্য একাডেমির সাবেক পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান, সাহিত্যিক রামকুমার মুখোপাধ্যায় বলেছেন, ‘শারদোৎসব শব্দে বাঙালির সমন্বয়ী সংস্কৃতির ধারা বহমান। শ্রীচৈতন্যদেব, শ্রীরামকৃষ্ণদেব এই পথের পথিক। রবীন্দ্রনাথ ধর্মের আচারসর্বস্বতার বাইরে বৃহত্তর ব্যঞ্জনা অনুভব করতেন। শান্তিনিকেতনের শারদোৎসব, বসন্ত উৎসব শব্দগুলো বাঙালির অভিজ্ঞানে মিশেছে।’

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>