বিজ্ঞাপন
সারাদেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ লাখের মতো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এরমধ্যে শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অটোরিকশা রয়েছে। এসব অটোরিকশার ব্যাটারি অবৈধভাবে চার্জ করায় সরকার বছরে চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সংসদে নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা চলাচল নিয়ে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানুর এক নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব তথ্য তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এই রিকশাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সমস্যাও তৈরি করছে। বিশেষত, স্বাস্থ্যঝুঁকির মত বিষয় রয়েছে।
তিনি বলেন, অটোরিকশার বিপুল চাহিদার বিপরীতে বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার ৩০০টি। অন্যদিকে, শুধু ঢাকাতেই ৪৮ হাজারের বেশি অনানুষ্ঠানিক অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে আমাদের ধারণা। এর ফলে জাতীয় গ্রিড ও স্থানীয় বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
আরও পড়ুন
অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের দাবি সংসদে
মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে সবদিক বিবেচনা করে নীতিমালা ও বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। শিগগির তা বাস্তবায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে সরকার বেশ কয়েকটি দিক বিবেচনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে- চালক নিয়ন্ত্রণ, রোড নির্ধারণ, পরিবেশ উপযোগী ব্যাটারি ও রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করা।
তিনি বলেন, বিকল্প ও বেকারত্বের বিষয়টি মাথায় রেখে সবদিক বিবেচনা করে এ বিষয়ে নীতিমালা ও বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। অচিরেই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
এর আগে বিষয়টি নিয়ে নোটিশ দেন রেহেনা আক্তার রানু। নোটিশে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর সড়কেও কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরেছে। বিশেষ করে বেশ কিছু এলাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের পর সড়কে বেশ ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। লালবাতি অমান্য, লেন পরিবর্তন অথবা নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘনের মতো অনিয়ম বেশ কমে এসেছে।
তিনি বলেন, কিন্তু হতাশার কথা হলো, এরমধ্যেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া চলাচল করছে। নম্বর প্লেট না থাকায় এসব রিকশা এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হলেও জরিমানা করা সম্ভব হচ্ছে না।
আরও পড়ুন
মিরপুরে বস্তিতে অবৈধ রিকশা চার্জিং, ৫০০ পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন
নোটিশে তিনি বলেন, রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ অতীব জরুরি। এছাড়া অটোরিকশার কাঠামোগত ত্রুটি থাকায় যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে ভাবা দরকার, যদিও কিছুটা সাশ্রয়ী ও সহজেই পাওয়া যায় বলে অটোরিকশা অনেকের দৈনন্দিনের বাহন হয়ে উঠেছে।
রেহেনা আক্তার রানু বলেন, একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, অটোরিকশার কারণে দুর্ঘটনাও কম ঘটছে না। কাজেই এই বেপরোয়া বাহন নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। অন্তত প্রধান সড়কগুলো থেকে এসব রিকশা সরাতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এমওএস/এমকেআর
বিজ্ঞাপন