ব্রেকিং নিউজ
ধনিয়াপাতা তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল শ্রমিকের দুই ফুল ও টাঙ্গনপারের উদ্যান ২৪ মিনিট ৩০ সেকেন্ড ধরে দাঁড়িয়ে করতালি! ভেনিসে রেকর্ড গড়ল গাজায় ইসরায়েলের অভিযান নিয়ে তথ্যচিত্র ২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে স্পেন-মরক্কোর টানাটানিতে যা বলল ফিফা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে সচেতন হতে হবে: মেয়র শাহাদাত ৯০০ টাকা দিলেই পেশিবহুল সুদর্শন পুরুষকে জড়িয়ে ধরা যাবে নাগেশ্বরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে চার মাদকসেবীর কারাদণ্ড মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে ফরহাদকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, অভিযোগ পরিবারের ইতালির সমুদ্রে আকাশ থেকে নেমে এল ফানেল রোগীর পরীক্ষা হয় বাইরে, হাতেনাতে প্রমাণ পেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জাতীয়

নওগাঁয় আরও কমেছে চাল ও ধানের দাম, তবে ধানের দামে হতাশ কৃষক

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

দেশের অন্যতম বড় চালের মোকাম নওগাঁয় ধান ও চালের দাম কমেছে। চালের দাম কমায় ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও ধানের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকের হতাশা বেড়েছে। এক থেকে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নওগাঁর বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিপ্রতি এক থেকে দুই টাকা পর্যন্ত কমেছে। আর আউশ ধানের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে মণপ্রতি কমেছে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোকামে চালের পাইকারি বেচাকেনা কমে গেছে। এ কারণে গুদামেও চালের মজুত বাড়ছে। তাই চালের দামও কিছুটা কমে গেছে। স্থানীয়ভাবে চালের চাহিদা কমে যাওয়ায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছে ‘পুশিং সেল বা অনুরোধে বিক্রি’ করা হচ্ছে। এ জন্য দাম কমিয়ে চাল বিক্রির চেষ্টা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল আমদানি করা হয়। এ কারণে দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণে চাল মজুত রয়েছে। মজুত চালের কারণে মোকামে চাহিদা কমে গেছে। তাতে গত তিন-চার বছরের তুলনায় এ বছর ধান-চালের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। চালের চাহিদা না থাকায় মিলমালিকেরা ধান কেনাও কমিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে বাজারে আউশ ধানের দামও কমে গেছে। কৃষকেরা যাতে ধানের ন্যায্যমূল্য পান, সে জন্য আউশ মৌসুমেও সরকারের চাল বা ধান কেনা উচিত। সরকারের সঠিক উদ্যোগই পারে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে।

স্থানীয় ধান-চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে নওগাঁর বাজারে আউশ ধান (পারিজা ও ব্রি ধান-৪৮) প্রতি মণ ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে ধানের এই দাম ছিল ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই ধানের দাম ছিল ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা। গত ইরি–বোরো মৌসুমে উৎপাদিত কাটারি ধান বর্তমানে প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায়। গত বছর এ সময়ে কাটারি ধানের দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা। এ ছাড়া প্রতি মণ জিরা ধান এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। গত বছর এই সময়ে এই ধানের দাম ছিল ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় আউশ, কাটারি ও জিরা—তিন ধরনের ধানের দামই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে জিরা ধানের দাম, মণপ্রতি সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা।

ধান-চালের মজুত ও বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সভা। গতকাল নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে

ধানের পাশাপাশি কমেছে চালের দামও। বর্তমানে নওগাঁর মোকামে পাইকারিতে প্রতি কেজি জিরা চাল ৫৬ থেকে ৬১ টাকা, কাটারি চাল ৭৩ থেকে ৭৪ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দুই ধরনের চালের দাম কেজিতে প্রায় দুই টাকা কমেছে। আর এক মাসের ব্যবধানে কমেছে তিন থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত।  মোটা চাল হিসেবে পরিচিত স্বর্ণা চাল বর্তমানে নওগাঁর বাজারে পাইকারিতে প্রতি কেজি ৪২ থেকে ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এই চালের দাম ছিল প্রতি কেজি ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালের মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে মিলমালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার চালকল মালিকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এই সতর্ক করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফরহাদ খোন্দকার ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ আছে চালে কৃত্রিমভাবে সুগন্ধি মেশানো হয়। কোনোভাবেই এ ধরনের প্রতারণা করা যাবে না। একই সঙ্গে চাল সাদা করার জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘হাইড্রোজ’ ব্যবহার না করার জন্যও মিলমালিকদের তিনি নির্দেশ দেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ফরহাদ খোন্দকার বলেন, বর্তমানে দেশে চালের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে আগামী তিন মাসে চালের দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। কোনো ব্যবসায়ী অবৈধভাবে মজুত গড়ে তুলে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চালের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, চালের বাজার স্থিতিশীল থাকলেও ধানের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকেরা কীভাবে উৎপাদন খরচ তুলবেন, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। কৃষকেরা যাতে ধানের ন্যায্য দাম পান, সে জন্য আউশ মৌসুমে সরকারিভাবে চাল কেনার পাশাপাশি ধান থেকে বায়োফুয়েল উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>