বিজ্ঞাপন
নকল ও ভেজাল পণ্য বাজারে প্রবেশের আগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নকল পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে একটি জাতীয় সমন্বয় সেল গঠনের প্রস্তাবও এসেছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের (ডিএনসিআরপি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ’ শীর্ষক কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলাম। অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সেবাস্টিন রেমার সভাপতিত্বে এতে পরিচালক (কার্যক্রম ও গবেষণা) আতিয়া সুলতানাসহ অধিদপ্তরের বিভাগীয় ও ঢাকা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
কর্মশালায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায্যমূল্যে সঠিক, মানসম্মত ও নিরাপদ পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। অধিদপ্তরের বিভিন্ন বাজার অভিযান পরিচালনার সময় নকল ও ভেজাল পণ্য শনাক্তকরণের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের পণ্য কীভাবে চিহ্নিত করা যায়, সে বিষয়ে যথাযথ ধারণা থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ও পণ্যের নকল সংস্করণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ পণ্য নিশ্চিতকরণে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, ভোক্তা এবং অন্যান্য অংশীজনদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নকল-ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।’
কর্মশালায় নকল ও ভেজাল পণ্যের বাস্তব চিত্র, কীভাবে এসব পণ্য বাজারে প্রবেশ করছে এবং তা প্রতিরোধে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে-এসব বিষয়ে শিল্পখাতের অভিজ্ঞতার আলোকে একটি উপস্থাপনা তুলে ধরে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
অনুষ্ঠানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল নকল পণ্য প্রতিরোধে একটি ‘জাতীয় সমন্বয় সেল’ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও শিল্পখাতকে নিয়ে একটি স্থায়ী ন্যাশনাল অ্যান্টি-কাউন্টারফিট কো-অর্ডিনেশন সেল গঠন করা জরুরি। এই সেলের মাধ্যমে তথ্য বিনিময়, প্রতিটি অভিযোগের একটি ইউনিক কেস নম্বর, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা নির্ধারণ, নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কেসের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মতো একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে।’
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) সেবাস্টিন রেমা বলেন, ‘নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধ এবং ভোক্তাদের নিরাপদ পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক বিচক্ষণতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। বাজারে নকল বা ভেজাল পণ্যের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।’
তিনি বলেন, ‘নকল পণ্য প্রতিরোধে ব্র্যান্ড মালিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। নিজ নিজ ব্র্যান্ডের পণ্য যাতে নকল বা অবৈধভাবে বাজারজাত না হয়, সে বিষয়ে ব্র্যান্ড মালিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স পণ্য নির্দিষ্ট ও অনুমোদিত ডিলারের মাধ্যমে বিক্রয় নিশ্চিত করা গেলে নকল পণ্যের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’
কর্মশালায় বক্তারা নকল ও ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে সরকারি ও শিল্পখাতের মধ্যে নিয়মিত তথ্য বিনিময়, অভিযান জোরদার, পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ, পুনরাবৃত্তি অপরাধ প্রতিরোধে দ্রুত মামলা পরিচালনা ও নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এমএএইচ/
বিজ্ঞাপন