জাতীয়

নাটকের অবসান হবে কবে?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
হ্যাঁ, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথাই বলছি। আপনি কতটুকু জানেন? আর কতটুকু জানা বাকি? সেটাও বা কখন জানবেন? সবকিছু ঘটে যাওয়ার পর? আগে জানলে ক্ষতি কী? দেশের মানুষ তো সারাক্ষণই কোনো না কোনো নাটক দেখে চলেছে। তাই প্রশ্নটা এখন আর নতুন নাটক কবে শুরু হবে তা নয়, প্রশ্ন হলো, এই নাটকের অবসান হবে কবে? ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশের মানুষ শুধু একটি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরায়নি, তারা দীর্ঘদিনের একটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট ২০২৪-এর মধ্যে প্রায় ১,৪০০ মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারে এবং সাবেক সরকার ও নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, এত রক্তের বিনিময়ে আমরা কী পেলাম? শুধু একজন শাসকের বিদায়, নাকি রাষ্ট্রের চরিত্র বদলের একটি সুযোগ? এরপর অন্তর্বর্তী সরকার এলো। ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলেন। সংস্কারের কথা হলো, সংস্কার কমিশনগুলো কাজ করল, জাতীয় ঐকমত্যের চেষ্টা হলো, জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি হলো। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটও হলো। কিন্তু গণভোটের পর মূল প্রশ্নটি শেষ হয়নি, বরং আরও বড় হয়েছে: জনগণের দেওয়া সংস্কারের ম্যান্ডেট কীভাবে এবং কোন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়িত হবে? জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন নিয়েও বিরোধীরা আপত্তি জানিয়েছে এবং সনদে নির্ধারিত কাঠামো অনুসরণ করার দাবি তুলেছে। আর এখানেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশ্নটি আসে। ইউনূসের নাম শুনলেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেউ কেউ এত তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান কেন? তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে অভিযোগের প্রমাণ কী? তার সিদ্ধান্তের ভুল থাকলে ভুলগুলো কী? তার সরকারের ব্যর্থতা থাকলে সেগুলোর হিসাব কোথায়? অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, প্রমাণ থাকলে বিচার হোক, ভুল হলে সমালোচনা হোক। কিন্তু প্রমাণের আগে রায় কেন? আবার উল্টো দিকেও একই প্রশ্ন। ইউনূস নোবেলজয়ী বা আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত বলেই কি তিনি প্রশ্নের ঊর্ধ্বে? অবশ্যই না। কোনো মানুষই প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। কিন্তু কোনো মানুষকেই প্রমাণ ছাড়া অপরাধী বানানোও যায় না। তাই “ইউনূসকে কেন ভয়?” প্রশ্নটি কোনো অপরাধের রায় নয়, একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। তার কোন পদক্ষেপ কার স্বার্থে আঘাত করেছে? তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা কি কোনো পুরোনো রাজনৈতিক সমীকরণকে অস্বস্তিতে ফেলেছে? নাকি এর পেছনে সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণ আছে? জানতে হবে। অনুমান দিয়ে নয়, তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে। আর এখানেই আসে ভারতের প্রশ্ন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই কেন এত অস্বস্তি? ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র এবং দুই দেশের নিরাপত্তা, সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্বার্থ গভীরভাবে পরস্পর যুক্ত। ২০২৪-এর পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনও প্রকাশ্য। শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি এখনো দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ২০২৪-এর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একটি কঠিন পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বলে দেখা হচ্ছে। তাহলে প্রশ্ন করা যাবে না? অবশ্যই যাবে। ভারত বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে এত উদ্বিগ্ন কেন? বাংলাদেশের পরিবর্তনে ভারতের কী ধরনের কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে? বাংলাদেশের সঙ্গে চীন, পাকিস্তান বা অন্য শক্তির সম্পর্ক বদলালে ভারতের হিসাব কীভাবে বদলায়? বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের কোন দিক ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থকে প্রভাবিত করতে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার। কিন্তু উত্তর খোঁজার অর্থ ভারতবিরোধিতা নয়। একইভাবে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের অর্থও বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা বিসর্জন দেওয়া নয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি ভারত ঠিক করবে? না। ভারত বাংলাদেশের বন্ধু হতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হতে পারে, তার নিজস্ব নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান কেমন হবে, কোন দল ক্ষমতায় থাকবে, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার কতটা হবে, রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য কেমন হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণের। একই কথা ভারতের জন্য যেমন সত্য, তেমনি চীন, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান বা অন্য যে কোনো রাষ্ট্রের জন্যও সত্য। বাংলাদেশের বন্ধু অনেক হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের মালিক বাংলাদেশের জনগণ। আরও পড়ুন ডিগ্রির পাহাড় নয়, আচরণই আসল শিক্ষার পরিচয় এই জায়গা থেকেই ১৯৭২-এর সংবিধানের প্রশ্নটি দেখতে হবে। ১৯৭২-এর সংবিধান বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠনের ঐতিহাসিক ভিত্তি। তাকে সম্মান করা আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু একটি সংবিধানকে সম্মান করা আর তার প্রতিটি বিধানকে চিরস্থায়ী মনে করা এক কথা নয়। ১৯৭২-এর বাংলাদেশ আর ২০২৬-এর বাংলাদেশ কি একই? জনসংখ্যা বদলেছে, অর্থনীতি বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, বিশ্ব বদলেছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা বদলেছে। রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্কও বদলেছে। তাহলে ১৯৭২-এর প্রতিটি বিধান কি ২০২৬-এর বাংলাদেশের জন্যও অপরিবর্তনীয়? যে বিধান প্রয়োজনীয়, থাকবে। যে বিধান পরিবর্তনের প্রয়োজন, জনগণের সম্মতি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন হবে। এটাই তো সংবিধানের শক্তি। তাহলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রশ্নে ভয় কেন? আর এখানেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রশ্নটি আসে। একজন বাংলাদেশি বিদেশে বসবাস করেন, দেশের পরিবারকে সাহায্য করেন, অর্থ পাঠান, বিনিয়োগ করেন, দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন। কিন্তু বিদেশি নাগরিকত্বের প্রশ্নে তার রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সাংবিধানিক সীমা তৈরি হয়। সংবিধানের Article 66 সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণ করে এবং বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বা আনুগত্যের সঙ্গে অযোগ্যতার সম্পর্ক স্থাপন করে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের মাধ্যমে যোগ্যতার সুযোগও রয়েছে। প্রশ্ন হলো, প্রবাসী বাংলাদেশি কি শুধু দেশের অর্থনীতির অংশ, নাকি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণেরও অংশ? অবশ্যই এখানে রাষ্ট্রীয় আনুগত্য, নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন আছে। বিদেশি নাগরিকত্বকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু তাই বলে প্রশ্নটি বন্ধ থাকবে কেন? আজকের বাস্তবতায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের কাঠামো কি নতুন করে ভাবা দরকার? যদি না হয়, কেন নয়? যদি হয়, কীভাবে? প্রশ্নের উত্তর চাই। কারণ গণতন্ত্র মানে প্রশ্ন বন্ধ করা নয়। গণতন্ত্র মানে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সাহস। আর তখন ২০২৪-এর রক্তের দায়ের প্রশ্নটি আরও কঠিন হয়ে ফিরে আসে। সেই রক্তের দায় অবশ্যই তাদের, যারা হত্যা করেছে, যারা নির্দেশ দিয়েছে, যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। কিন্তু শুধু কয়েকজন অপরাধীর বিচার করলেই কি ২০২৪-এর দায় শেষ? না। আরও কঠিন প্রশ্ন আছে: যে রাষ্ট্রীয় কাঠামো এমন ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ সম্ভব করেছিল, সেই কাঠামো কি বদলেছে? যদি ব্যক্তি বদলায়, কিন্তু ক্ষমতার কাঠামো একই থাকে? যদি সরকার বদলায়, কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধীন হয়ে পড়ে? যদি প্রধানমন্ত্রী বদলায়, কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর হাতে একই ধরনের কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা থেকে যায়? তাহলে আমরা আসলে কী বদলালাম? শাসক বদলানো আর রাষ্ট্র বদলানো এক কথা নয়। এই জায়গাতেই জুলাই সনদের আসল পরীক্ষা। গণভোটে জনগণ যে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে, তার রাজনৈতিক অর্থকে এখন সাংবিধানিক বাস্তবতায় রূপ দিতে হবে। কিন্তু সেই বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, কে করবে এবং কোন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় করবে, তা নিয়ে বিরোধ যদি থেকেই যায়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই: জনগণের ভোটের পর জনগণের সিদ্ধান্তের মালিকানা কার হাতে? এই কারণেই ইউনূসও কেবল একজন ব্যক্তি নন। তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার-পর্বের সঙ্গে যুক্ত একটি ঐতিহাসিক চরিত্র। তিনি থাকবেন কি থাকবেন না, ইতিহাস তার উত্তর দেবে। কিন্তু তার নেতৃত্বে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, একজন মানুষ চলে গেলে সেই প্রশ্নগুলোও কি চলে যাবে? যদি যায়, তাহলে বুঝতে হবে আমরা রাষ্ট্র সংস্কার করিনি, একজন মানুষকে কেন্দ্র করে একটি মুহূর্ত তৈরি করেছি। সেটা হতে দেওয়া যাবে না। কারণ একজন নেতা চলে যেতে পারেন। একটি সরকার চলে যেতে পারে। একটি দল ক্ষমতায় আসতে পারে, আবার চলে যেতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রের নিয়ম থেকে যায়। তাই আমাদের লক্ষ্য কোনো নতুন নায়ক তৈরি করা নয়। আমাদের লক্ষ্য এমন প্রতিষ্ঠান তৈরি করা, যেখানে কোনো নায়কের প্রয়োজন হবে না। আমি রাজনীতি করতে চাই না। কিন্তু রাজনীতি যেন জনগণের জন্য কাজ করে, সেটি করাতে চাই। ক্ষমতা চাই না। কিন্তু ক্ষমতাকে জবাবদিহির মধ্যে দেখতে চাই। নেতা হতে চাই না। কিন্তু নেতৃত্বকে প্রশ্ন করতে চাই। কারণ রাজনীতি থেকে দূরে থাকা আর রাষ্ট্রের প্রতি উদাসীন থাকা এক কথা নয়। সারাজীবন আমি একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছি: একটি দেশকে ভালো করার শুরু কোথায়? আজ মনে হয় উত্তরটি কোনো একজন নেতার মধ্যে নেই। উত্তর আছে মানুষের মধ্যে। যে মানুষ সত্য জানতে চায়, যে মানুষ নিজের পক্ষের ভুলও স্বীকার করতে পারে, যে মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় কিন্তু নিজের দলের অন্যায়কে ন্যায্য বলে না, যে মানুষ বিদেশি রাষ্ট্রকে সম্মান করে কিন্তু নিজের রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের মালিকানা কাউকে দেয় না, যে মানুষ সংবিধানকে সম্মান করে কিন্তু প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রশ্ন করতে ভয় পায় না। এটাই নতুন নাগরিক। এটাই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি। এটাই নতুন জাগরণ। ২০২৪-এর জাগরণ মানুষকে ভয় কাটিয়ে ক্ষমতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। নতুন জাগরণ মানুষকে ক্ষমতার মালিক হিসেবে দাঁড়াতে শেখাবে। প্রথম জাগরণ প্রশ্ন করেছিল, কে শাসন করবে? নতুন জাগরণ প্রশ্ন করবে, যে-ই শাসন করুক, তাকে কীভাবে জবাবদিহির মধ্যে রাখা হবে? এই পরিবর্তনটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আর এমন বাংলাদেশ চাই না যেখানে একজন ভালো নেতা এলেই দেশ ভালো থাকবে। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে কোনো খারাপ নেতা এলেও প্রতিষ্ঠান তাকে সীমার মধ্যে রাখবে। আমরা এমন সংবিধান চাই, যা ইতিহাসকে সম্মান করবে কিন্তু ভবিষ্যৎকে বন্দি করবে না। আমরা এমন পররাষ্ট্রনীতি চাই, যেখানে ভারত বন্ধু হতে পারে, চীন বন্ধু হতে পারে, আমেরিকা বন্ধু হতে পারে, ইউরোপ বন্ধু হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশই নেবে। আমরা এমন রাজনীতি চাই, যেখানে কোনো দল রাষ্ট্রের সমার্থক হবে না। আর আমরা এমন নাগরিক চাই, যারা পাঁচ বছর পরপর শুধু ভোট দিয়ে দায়িত্ব শেষ মনে করবে না। প্রতিদিন প্রশ্ন করবে, প্রতিদিন হিসাব চাইবে। প্রয়োজনে নিজের পক্ষের মানুষকেও বলবে, তুমি ভুল করেছ। কারণ সত্যিকারের জাগরণ শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নয়, নিজের পক্ষের অন্যায়ের বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে পারা। এখন তাই প্রশ্নটি শুধু “নাটক রেডি দেখবো কবে?” নয়। প্রশ্ন হলো, নাটক কি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে? আমরা কি আবার পর্দা ওঠার অপেক্ষা করব? নাকি এবার পর্দা ওঠার আগেই মঞ্চের পেছনে তাকাব? কে কী করছে? কোন নিয়ম বদলাচ্ছে? কোন নিয়ম বদলাচ্ছে না? কার হাতে ক্ষমতা যাচ্ছে? কার কাছ থেকে ক্ষমতা ফিরছে? জুলাই সনদের কী হচ্ছে? সংবিধানের কী হচ্ছে? প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অধিকার কোথায় যাচ্ছে? ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কোন দিকে যাচ্ছে? ইউনূসকে ঘিরে এত তীব্র প্রতিক্রিয়ার কারণ কী? আর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ২০২৪-এর রক্ত আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? সবকিছু ঘটে যাওয়ার পর জানা কোনো জাগরণ নয়। আগে জানতে চাওয়া, আগে প্রশ্ন করা, আগে সত্য খোঁজা, আগে সতর্ক হওয়া, এটাই নাগরিক দায়িত্ব। তাই এবার আমরা দর্শক নই। আমরা কোনো নাটকের চরিত্রও নই, যে অন্যের লেখা সংলাপ মুখস্থ করে বলবে। আমরা জানতে চাই, নাটকের স্ক্রিপ্ট কে লিখছে। আর তার চেয়েও বড় কথা, আমরা জানতে চাই, এই স্ক্রিপ্টে বাংলাদেশের জনগণের জায়গা কোথায়? কারণ বাংলাদেশের ভবিষ্যতের স্ক্রিপ্ট কোনো একজন ব্যক্তি লিখবে না। কোনো একটি দল লিখবে না। কোনো বিদেশি শক্তিও লিখবে না। লিখবে বাংলাদেশের জনগণ। এটাই নতুন জাগরণ। এটি কোনো এক বছরের কাজ নয়। এটি সারাজীবনের প্রশ্ন। সারাজীবনের অভিজ্ঞতা। সারাজীবনের দায়। আমি রাজনীতি করতে চাই না। কিন্তু রাজনীতি যেন জনগণের জন্য কাজ করে, সেটি করাতে চাই। আমি ক্ষমতা চাই না। কিন্তু ক্ষমতাকে জবাবদিহির মধ্যে দেখতে চাই। আমি নেতা হতে চাই না। কিন্তু নেতৃত্বকে প্রশ্ন করতে চাই। কারণ পরাজিত সে নয়, যে ক্ষমতায় নেই। পরাজিত সে, যে প্রশ্ন করা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা প্রশ্ন করা বন্ধ করব না। তাই এবার নাটক দেখতে বসে শুধু দর্শক হয়ে থাকব না। আগেই জানব, আগেই বুঝব, আগেই প্রশ্ন করব। কারণ পর্দা নামার পর দর্শকের চিৎকারের কোনো মূল্য নেই। জাগরণ মানে পর্দা ওঠার পর শুধু দেখা নয়, পর্দা ওঠার আগেই জিজ্ঞেস করা, মঞ্চে কী হতে যাচ্ছে। তাই শেষ প্রশ্নটি আবারও থাক: নাটকের অবসান হবে কবে? সবকিছু ঘটে যাওয়ার পর নয়। এবার পর্দা ওঠার আগেই। রহমান মৃধাগবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেনই-মেইল: rahman.mridha@gmail.com এমআরএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>