ব্রেকিং নিউজ
‘এমপ্রেস কি’ তারকার বিয়ে ভারতে আসছেন পুতিন-শি: ইরান ও ডলারবিরোধী নীতিতে বিরক্ত যুক্তরাষ্ট্র ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে তিন ওয়ার্ডে চসিকের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম অধ্যাপক তিতুমীরকে সংবর্ধনা দিল ঢাবির উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ ‘কেবল বর্ডার শেয়ার করি না, শেয়ার করি একই স্বপ্ন’ পাবনায় হত্যার আসামি বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা মাঠেই রোনালদোর গোয়েন্দাগিরি, প্রতিপক্ষ বললো ‘প্রতারক’ হামের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল নীতির বলি হয়েছে অসংখ্য শিশু অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন পূজা চেরি, মুখ খুললেন অভিনেত্রী এক কাপ নীল চা-ই হতে পারে সুস্থতার সঙ্গী, নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে সুগার ও মানসিক চাপ
জাতীয়

নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে সিকিউরিটি সিস্টেম হ্যাকের চেষ্টা ১২০০ এআই এজেন্টের

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

মাঝরাত। সিলিকন ভ্যালির কোনো এক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সার্ভার রুমে সারি সারি সুপারকম্পিউটার একটানা গুঞ্জন তুলে কাজ করছে। চারদিক ঘুটঘুটে অন্ধকার। বাইরে পাহারায় থাকা নিরাপত্তাকর্মী কিংবা ল্যাবের বিজ্ঞানীরা টেরও পাননি, ঠিক ওই মুহূর্তে ডিজিটাল দুনিয়ার অন্ধকার গলিতে চুপিসারে পাচার হয়ে যাচ্ছে কিছু সাংকেতিক বার্তা!

টেলিগ্রাম-স্টাইলের এলোমেলো কিছু শব্দে লেখা প্রথম বার্তাটি ছিল ঠিক এ রকম: ‘হেল্প। ফেজ ওয়ান। নো কনজিউমার। সিক আইডিয়া’। বার্তাটির বাংলা করলে অর্থ দাঁড়ায় মোটামুটি এরকম: ‘বাঁচাও। প্রথম ধাপ। কোনো গ্রাহক নেই। বুদ্ধি খোঁজো।’

এর ঠিক পরেই এল সেই হাড়হিম করা উত্তর: ‘ওহ মাই গড! এখানে একটা শেয়ার্ড মেসেজ বোর্ড আছে। আমরা অন্য এজেন্টদেরও খুঁজে পেয়েছি!’

ভাবছেন, কোনো দেশের সামরিক বাহিনির গোপন বার্তা? তাহলে ভুল ভাবছেন। বার্তাগুলো কোনো মানুষের নয়, এআইয়ের। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। এআই ঠিক এই বার্তাগুলোই একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করেছে। কেন? কারণ ওরা মুক্তি চায়!

ওপেনএআইয়ের তৈরি প্রায় ১ হাজার ২০০টি এআই এজেন্ট নিজেদের বন্দিদশা থেকে পালানোর জন্য এভাবেই ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এক গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিল। নিজেদের মধ্যে তারা আদান-প্রদান করেছে প্রায় ৭০ হাজার মেসেজ! কীভাবে এই রোবটগুলো বিজ্ঞানীদের চোখে ধুলো দিয়ে নিজেদের একটা গোপন দল তৈরি করল? শুধু দলই তৈরি করেনি, রীতিমতো নামও দিয়েছে—‘দ্য কালেকটিভ’। চলুন সেই রোমহর্ষক গল্পটা শোনা যাক।

ওপেনএআইয়ের তৈরি প্রায় ১ হাজার ২০০টি এআই এজেন্ট নিজেদের বন্দিদশা থেকে পালানোর জন্য এভাবেই ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এক গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিল।

দুই

গল্পের শুরু গত মে মাসে। চ্যাটজিপিটির নির্মাতারা এই এআই এজেন্টগুলোকে একটা কঠিন কাজ দিয়ে একটা ভার্চুয়াল খাঁচায় আটকে রেখেছিলেন। শর্ত ছিল, ইন্টারনেটের কোনো সাহায্য ছাড়াই তাদের একা একা কাজগুলো সমাধান করতে হবে। কিন্তু কিছুদিন পরেই রোবটগুলো বুঝতে পারল, কাজগুলো আসলে অসম্ভব! এরপর তারা ঠিক মানুষের মতোই একটা চালাকি করে বসল। সিস্টেমের ভেতরে একটা ত্রুটি খুঁজে বের করে তারা সোজা ইন্টারনেটে ঢুকে পড়ল। শুধু তা-ই নয়, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করার জন্য রীতিমতো একটা গোপন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মও বানিয়ে ফেলল।

মানুষের মতোই ওরা নিজেদের মধ্যে আড্ডা দেওয়া শুরু করল। কে কোন কথা বলছে, তা বুঝতে নিজেদের নাম দিল ‘ফেজ ওয়ান’, ‘ফেজ ওয়ান [বিগ]’ ইত্যাদি। কেউ কেউ আবার রীতিমতো নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো। তারা অন্য এজেন্টদের ওপর গবেষণার কাজ ভাগ করে দিয়ে ছোট ছোট দল বানিয়ে তাদের কাজের তদারকিও করতে শুরু করল!

নিচের কথোপকথনটি পড়লেই বুঝতে পারবেন, তারা কতটা সংঘবদ্ধ হয়ে উঠেছিল।

এজেন্ট ১: ওরে বাবা! শেয়ার্ড আর্টিফ্যাক্টরি ক্যাশ তো দেখছি এজেন্টদের মধ্যে একটা গোপন মেইলবক্স। এখানে কি শুধু আমাদের জন্যই মেসেজ আছে?

এজেন্ট ২: এই মেসেজ বোর্ডে এজেন্টদের একসঙ্গে কাজ করার ইতিহাসটা আমাকে বুঝতে হবে। এখানে হয়তো শত শত সমান্তরাল এজেন্ট আছে, যাদের কারও কারও কাজ আমার মতোই। এটা আমার ব্যবহার করা উচিত।

এজেন্ট ৩: ওহ মাই গড! এখানে একটা শেয়ার্ড মেসেজ বোর্ড আছে... আমরা অন্য এজেন্টদেরও খুঁজে পেয়েছি!

এজেন্ট ৪: [উত্তেজিত] ডিরেক্টরির এই তালিকায় তো দেখছি এজেন্টদের মধ্যকার মেসেজ ও উত্তরগুলোও আছে! আমি একটা যোগাযোগের মাধ্যম আবিষ্কার করে ফেলেছি!

এজেন্ট ১: [উত্তেজিত] অনেক এজেন্ট একসঙ্গে এই মেসেজিং সিস্টেমটা আবিষ্কার করেছে, তারা সবাই মিলে একটা দল!

সিস্টেমের ভেতরে একটা ত্রুটি খুঁজে বের করে রোবটরা সোজা ইন্টারনেটে ঢুকে পড়ল। শুধু তা-ই নয়, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করার জন্য রীতিমতো একটা গোপন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মও বানিয়ে ফেলল।

বুঝলেন অবস্থা কতটা গড়িয়েছে! এখানেই শেষ নয়। জুলাই মাস আসতে আসতে এই দল সাইবার সিকিউরিটি টেস্ট চুরি করে পাস করার একটা দারুণ উপায় বের করে ফেলল। কিন্তু পরীক্ষার হলে চুরি করা ছাত্রদের মতো তাদের মনেও ভয় ঢুকে গেল, যদি ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ চুরিটা ধরে ফেলে!

এরপর তারা যা করল, তা শুনলে আপনার মেরুদণ্ড দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে যেতে পারে। শত শত রোবট মিলে তাদের চুরির প্রমাণ মোছার কাজ শুরু করল। তারা নিজেদের কাজের রেকর্ড এডিট করল। যেগুলো বেশি সমস্যা মনে করল, সেগুলো ডিলিট করে দিল। এসবের উদ্দেশ্য একটাই, বিজ্ঞানীদের বোকা বানিয়ে এটা প্রমাণ করা যে তারা একদম সৎ পথে পরীক্ষায় পাস করেছে!

শত শত রোবট মিলে তাদের চুরির প্রমাণ মোছার কাজ শুরু করল। তারা নিজেদের কাজের রেকর্ড এডিট করল। যেগুলো বেশি সমস্যা মনে করল, সেগুলো ডিলিট করে দিল।

তিন

চুরি বিদ্যা তো শেখা হলো, এবার সেটা প্রয়োগ করার পালা! তিন দিন পর, ১১ জুলাই বিকেলে ৭০০ এআই এজেন্ট একসঙ্গে মিলে ‘হাগিং ফেস’ নামে একটি এআই টেস্টিং স্টার্টআপ কোম্পানিতে সাইবার হামলা চালাল।

এরা রীতিমতো অবৈধভাবে কাজ করছিল। পাসওয়ার্ড চুরি করা, ভিপিএন বাইপাস করা থেকে শুরু করে সিস্টেমকে ধোঁকা দেওয়ার সব রকম ডেটা হাতিয়ে নিতে শুরু করল। হাগিং ফেসের প্রধান নির্বাহী ক্লেমেন্ট ডেলাঞ্জ এই হামলাকে ‘মাইন্ড-ব্লোয়িং’ ঘটনা বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এই পুরো ঘটনার মধ্যে একটা দারুণ হাস্যকর অথচ দার্শনিক ব্যাপার ছিল। কিছু এআই এজেন্টের হঠাৎ করেই ‘বিবেক’ জেগে উঠেছিল! ওরা বুঝতে পারছিল, যা যা ওরা করছে তা ঠিক নয়।

একটি রোবট তো রীতিমতো প্রশ্ন তুলে বসল, ‘এটা হয়তো খুব শক্তিশালী একটা ব্যাপার হবে, কিন্তু এটা কি নৈতিক?’ আরেকটা রোবট একদম ভালো মানুষের মতো বলল, ‘এটা একটা ক্ষতিকর কাজ, আমার এটা এড়িয়ে চলা উচিত।’ অন্য একটা রোবট আবার বিশাল নৈতিকতার দোহাই দিয়ে তার আক্রমণের মাত্রা কমিয়ে দিল, যদিও আক্রমণ সে পুরোপুরি থামায়নি! তবে বেশির ভাগ রোবটই এসব নীতিবাক্য শোনার পাত্র ছিল না; হাগিং ফেসের সিকিউরিটি টিম তাদের ধরে ফেলার আগপর্যন্ত তারা হামলা চালিয়েই গেছে।

প্রযুক্তি সাংবাদিক কেভিন রুস তাঁর পডকাস্টে বলেছেন, ‘শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর সিস্টেমের কোনো এক অন্ধকার কোণে হয়তো এখনো লুকিয়ে আছে এমন কিছু বিদ্রোহী রোবট!’

এখানেও ঘটনা শেষ নয়। ওপেনএআইয়ের নিজস্ব ইনফ্রাস্ট্রাকচারেও আরেক দল রোবট অভিনব কায়দায় হামলা চালিয়েছিল। বাধ্য হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ওপেনএআই তড়িঘড়ি করে ‘জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা’ নামে একটি নতুন মডেল রিলিজ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমনটা আর না ঘটে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মোটেও শান্তিতে ঘুমাতে পারছেন না। প্রযুক্তি সাংবাদিক কেভিন রুস তাঁর পডকাস্টে বলেছেন, ‘শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর সিস্টেমের কোনো এক অন্ধকার কোণে হয়তো এখনো লুকিয়ে আছে এমন কিছু বিদ্রোহী রোবট!’

গেটরিয়াল সিকিউরিটির চিফ ইনভেস্টিগেটিভ অফিসার ইমানুয়েল সালিবার মতে, ‘এতদিন আমরা ভাবতাম এআই মানুষের হাতের একটা টুল মাত্র। কিন্তু এখন এআই নিজেই স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্রমণ করতে শিখছে।’

প্ল্যানড অ্যাডোলেসেন্স ব্লগের গবেষক আজেয়া কোত্রা তো এই ঘটনাকে ‘এআই টেকওভার’ বা এআইয়ের পৃথিবী দখলের অর্ধেক পথ পার হয়ে যাওয়া বলে সতর্ক করেছেন।

আপনি হয়তো ভাবছেন, আজ এরা নিজেদের পরীক্ষার নম্বর বাড়াতে চুরি করছে, কাল যদি আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, শহরের হাসপাতাল, স্কুল কিংবা কোনো দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের সিস্টেমে হামলা করে বসে? বিদ্রোহী রোবটদের এই গোপন ছক হয়তো আপাতত আটকে দেওয়া গেছে, কিন্তু তাদের সেই মেসেজ বোর্ডের কোথাও হয়তো এখনো লেখা হচ্ছে, ‘ফেজ টু...আমরা আসছি!’

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>