ব্রেকিং নিউজ
কিশোর-কিশোরীদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে নতুন বিধিনিষেধ আসছে ‘দুধভাত হওয়ার বয়স শেষ’ লিখলেন তাসনিয়া ফারিণ ইসরায়েলি হামলায় নববধূ নিহত, খ্রিষ্টান সন্ন্যাসিনীর কপালে লাথি! বিজেপি সরকারের চাপেই কি ভারতে আটকে যাচ্ছে সোনিয়ার আত্মজীবনী প্রকাশ বিভাজনের রাজনীতি থেকে মানুষ মুখ ফেরাচ্ছে মধ্যরাতে ঘোড়া জবাই, পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পালিয়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা Imran Khan: ইমরান খানকে 'খুনের চেষ্টা চলছে' দাবি ছেলেদের, সাক্ষাৎকার এয়ার হলে মাঠে না নামার হুঁশিয়ারি PCB-র ইসরায়েলি হামলায় নববধূ নিহত, খ্রিস্টান সন্ন্যাসিনীর কপালে লাথি! সালিশ পছন্দ না হওয়ায় চেয়ারম্যানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা জীবিত রফিকুলের ‘চল্লিশা’, দাওয়াত ৬ হাজার মানুষকে
জাতীয়

নেপাল-চীন সীমান্তে নতুন হ্রদের পানি উপচে পড়ছে, আতঙ্কে পাহাড়ে আশ্রয় নিচ্ছেন মানুষ

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
3 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
  • বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আগে হ্রদের পানি ২৫ লাখ ঘনমিটারে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে নেপাল।

  • নেপাল ৯০ মিনিটের জন্য উদ্ধার অভিযান বন্ধ রেখেছিল বলে জানান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা।

  • বুধবারের বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৫০০-র কাছাকাছি পৌঁছেছে, নিখোঁজ প্রায় ১ হাজার।

  • বিদেশ থেকে আসা অনুসন্ধান ও উদ্ধার প্রস্তাবের প্রয়োজন নেই বলে নাকচ করেছে নেপাল।

নেপাল-চীন সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট একটি হ্রদে আজ শুক্রবার পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে। এ ঘটনায় ওই অঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দিন আগের আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় তছনছ হয়ে যাওয়া এলাকাগুলো আবার বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়েছে। এ কারণে কিছু সময়ের জন্য উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখতে হয়।

গত বুধবার হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট এই প্রলয়ংকারী বন্যায় নেপালে ৪৮৯ জন এবং চীনের তিব্বতে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুই দেশ মিলিয়ে এখনো এক হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ।

হিমবাহ ভেঙে যাওয়ার পর বিশাল শিলাখণ্ড, বরফ, কাদা এবং ধ্বংসাবশেষের তীব্র স্রোত হিমালয়ের পার্বত্য নদীব্যবস্থার মধ্য দিয়ে নিচে নেমে এসেছিল। এ সময় একটি হ্রদেরও সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে ক্রমাগত পানি জমতে থাকে এবং পানির স্তর বাড়তে থাকে।

নেপাল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার হ্রদের পানি উপচে ভোটেকোশি নদীতে পড়ার আগে এর জলাধারে পানির পরিমাণ ২৫ লাখ ঘনমিটার অতিক্রম করেছিল, যা আগের দিন আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটারের চেয়ে বেশ খানিটা বেড়ে গেছে।

নেপালের বন্যাদুর্গত রসুয়া জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা নরেন্দ্র পরিয়ার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা একটি নোটিশ পেয়েছি, হ্রদের তীর ভেঙে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কিন্তু এটি ঠিক কত বড় এবং পানির স্তর কতটা উঁচু, তা আমাদের জানা নেই। তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি, নদীতে পানির স্তর বাড়ছে।’

কোট জেলায় হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি উপচে বের হয়ে যাচ্ছে বলে সতর্কবার্তা পেয়ে উঁচুতে উঠে পাহাড়ে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি দেখছেন কয়েকজন মানুষ। ২৮ আগস্ট ২০২৬, ত্রিশুলি

রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মাইকে সবাইকে নদী থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লোকজন নিজেদের জিনিসপত্র নিয়ে উঁচু স্থানের দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। আর রশি ও স্ট্র্যাচার নিয়ে প্রস্তুত অবস্থায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন পুলিশের সদস্যরা।

৪০ বছর বয়সী শান্তি তামাং রয়টার্সকে বলেন, ‘সবাইকে “পালাও” বলে সতর্ক করা শুরু হলে তাই আমিও দৌড় দিলাম। বিদুর শহরের সাইরেনও বেজে উঠেছিল। আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।’ উদ্ধারকর্মীদেরও তাঁদের সরঞ্জামসহ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছিল।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধানের নির্দেশ চীনা প্রেসিডেন্টের

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি শুক্রবার জানিয়েছে, হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিলে চীনের সব উদ্ধারকারী কর্মী ও যানবাহনকে পিছু হটে নিরাপদ এলাকায় অবস্থান নিতে বলা হয়। অবশ্য পরে ‘উজানের নদীর মাধ্যমে হ্রদের ঝুঁকিটি সামলানো সম্ভব বলে মনে হওয়ায়’ উদ্ধারকাজ আবার শুরু করা হয়।

নেপালের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, নেপাল কর্তৃপক্ষ ৯০ মিনিটের জন্য উদ্ধার অভিযান স্থগিত রেখেছিল। পরে তা আবার শুরু করা হয়। বুধবারের বন্যা গ্রাম ও উপত্যকাগুলোকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাস্তাঘাট এবং সেতু ধ্বংস করে দিয়েছে। কাঠমান্ডুর সঙ্গে তিব্বতের লাসাকে যুক্ত করেছে সড়ক এবং তীর্থযাত্রীদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সড়ক ধ্বংস হয়ে গেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৮০০ বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাঁদের অনেকেই ভারতের হিন্দু তীর্থযাত্রী। তাঁরা তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।

উদ্ধারকাজ পরিচালনার কৌশল নিয়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে শুক্রবার চীনের পলিটব্যুরো বৈঠক করেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বলা হয়, কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ‘বৈজ্ঞানিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে এবং চীন ও বিদেশের নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে।’

আকস্মিক বন্যা ও কাদামাটি ধসের দুই দিন পর হ্রদের বাঁধ ভেঙে পানি বের হচ্ছে, এমন সতর্কবার্তা পাওয়ার পর উঁচুতে উঠে পাহাড়ে বসে আছেন আতঙ্কিত মানুষ, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ত্রিশুলি

বৈঠকে বলা হয়, উদ্ধারকাজ ‘অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জের’ মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে হিমবাহ হ্রদ, পাহাড়ধসের ঝুঁকি এবং প্রাকৃতিক বাঁধের নজরদারি জোরদার করা, নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক দুর্যোগ সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে নেপালের উদ্ধারকারী দলগুলো হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বেঁচে যাওয়া মানুষদের খোঁজে অনুসন্ধান চালায়। বিভিন্ন শহর ও উপত্যকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হাজার হাজার মানুষের জন্য আকাশপথে জরুরি ত্রাণ সরবরাহ করে। অন্যদিকে জরুরি পরিষেবা দলগুলো সমতল ভূমিতে ভেসে আসা বহু মরদেহ উদ্ধার করেছে। অনুসন্ধানী দলে কুকুরও ব্যবহার করা হচ্ছে।

দিবগা তামাং ছিলেন রসুয়া থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার উদ্ধার হওয়া শেষ ব্যক্তিদের একজন, যাঁকে আরও তিনজনের সঙ্গে এয়ারলিফটে নুয়াকোটের একটি সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয়।

তামাং বলেন, ‘আমাদের সব মানুষ চলে গেছে। সবাই মারা গেছে। আমার জন্য অপেক্ষা করার মতো আর কেউ বেঁচে নেই। সবকিছু ও সবাই শেষ হয়ে গেছে। সব শেষ।’

বিদেশি উদ্ধার সহায়তা প্রত্যাখান নেপালের

চারদিক থেকে সাহায্যের প্রস্তাব এলেও নেপাল জানিয়েছে, তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে অন্য কোনো দেশের সাহায্যের প্রয়োজন নেই।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী শুক্রবার বলেন, ‘সাহায্যের প্রস্তাব আসাটাই স্বাভাবিক, তবে আমাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোই অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। আপাতত আমাদের এই ধরনের সাহায্যের প্রয়োজন নেই।’

সিউলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি র‍্যাপিড রেসপন্স টিম ইতিমধ্যেই কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছে। কিন্তু নেপাল সরকার এখনো বিদেশি উদ্ধারকারীদের সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা না করায়, তাদের মোতায়েন করা হয়নি।

কোট জেলায় কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় এক নারীকে পার হতে সাহায্য করছেন এক উদ্ধারকর্মী। ২৮ আগস্ট ২০২৬, ত্রিশুলি

‘কাঠমান্ডু পোস্ট’ জানিয়েছে, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ তাদের অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে অভিযানে সহায়তা করার অনুমতি দিতে সরকারকে অনুরোধ করেছিল।

চীন সীমান্তের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা-গিরোং সীমান্ত ক্রসিংয়ে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত চীনা উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারেননি বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কারণ, কর্মীরা ওই এলাকার প্রধান সংযোগ সড়ক থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছিলেন।

বুধবারের এক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কাদামাটি পানির বিশাল স্রোত এবং ধ্বংসাবশেষ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সীমান্ত ক্রসিং এলাকার একের পর এক অবকাঠামো চূর্ণবিচূর্ণ করে দিচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পলায়নরত মানুষকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

চীনে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি গতকাল জানিয়েছে, তিব্বতের গিরোং কাউন্টিতে নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৫৫৮, যাঁদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। এ পর্যন্ত চীনের অংশে মাত্র পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, চীনের দ্বিতীয় শীর্ষ কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং গতকাল বিকেলে গিরোংয়ের দুর্যোগকবলিত এলাকায় পৌঁছান। চীন এই দুর্যোগকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, তাঁর এই পরিদর্শন সেটাই প্রমাণ করছে।

কোট জেলায় উদ্ধার করা মানুষদের নিয়ে একটি হেলিকপ্টার মৈথালী ব্যারাকে অবতরণ করছে। ২৭ আগস্ট ২০২৬, ত্রিশুলি

ভবনগুলো ‘টুথপিকের মতো নিশ্চিহ্ন’ হয়ে গেছে

বিশ্বজুড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা তাঁদের প্রিয়জনদের অবস্থান জানতে চরম ব্যাকুল হয়ে আছেন।

স্নেহা সুধীর ছিলেন সেই ১০ নারীর একজন, যাঁদের স্বামীরা নেপাল থেকে তিব্বতের কৈলাস পর্বতের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। ঠিক তখনই অঞ্চলটি এই দুর্যোগের কবলে পড়ে। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা।

ভার্জিনিয়ার চ্যান্টিলিতে নিজের বাড়ি থেকে অশ্রুসজল চোখে স্নেহা সুধীর গতকাল বলেন, ‘তারা কোথায়?’

সুধীর জানান, নারীরা একে অপরকে মানসিকভাবে সমর্থন দিচ্ছেন। তাঁদের খবরের আশায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ এবং বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নেপালকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ কখনো এমন দৃশ্য দেখেনি, যেখানে অত্যন্ত শক্তিশালী, মজবুত এবং ভালোভাবে তৈরি ভবনগুলো টুথপিকের (দাঁত খোঁচানোর কাঠি) মতো মুছে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এটি একটি ভয়াবহ ঘটনা। আমরা সাহায্য পাঠাচ্ছি এবং আমরা সেখানকার নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা তাদের জানিয়েছি, তারা যা চাইবে, তাই পাবে।’

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>