বিজ্ঞাপন
দেশের জ্বালানি তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তিনগুণ বাড়াতে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পে অর্থায়নে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে চুক্তি সই হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রতিষ্ঠার পর এর সম্প্রসারণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও কার্যত বড় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে প্রতিষ্ঠানটির কিছু আধুনিকায়ন করা হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকে আমাদের জন্য একটা বিশেষ দিন। পাকিস্তান আমলে যে ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, অদ্যাবধি সেটির এক্সপ্যানশন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়ে থাকলেও কার্যত কোনো যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন
জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় বাড়তে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা ইস্টার্ন রিফাইনারির সেকেন্ড ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং সে কারণে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার এই প্রজেক্টে ফাইন্যান্স করছে। এই অ্যাগ্রিমেন্টটা আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সই হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রথম ইউনিটে বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা যায়। দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপিত হলে আরও ৩০ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা সম্ভব হবে। ফলে দুই ইউনিট মিলে বছরে মোট ৪৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধনের সক্ষমতা তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই ইস্টার্ন রিফাইনারির সেকেন্ড ইউনিটটা যদি আমরা স্থাপন করতে পারি, তাহলে আমাদের ক্রুড অয়েল পরিশোধন ক্ষমতা আমাদের এখন যা আছে তার তিনগুণ বাড়বে।
তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমরা সারা বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল রিফাইন করতে পারি। আমরা এই সেকেন্ড ইউনিট যদি হয়, তাহলে সারা বছরে আমরা ৪৫ লাখ মেট্রিক টন রিফাইন করতে পারবো।
দ্বিতীয় ইউনিট চালু হলে দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদার ৫০ শতাংশের বেশি দেশীয়ভাবে পরিশোধন করা সম্ভব হবে বলে জানান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রকল্পটি কবে নাগাদ চালু হবে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিপিপি অনুযায়ী ২০৩০ সালে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ শেষ করার উদ্যোগ থাকবে।
তিনি বলেন, আমাদের তো উদ্যোগ থাকবেই, যদি আমরা তার কিছু আগে শেষ করতে পারি, সে ব্যাপারে উদ্যোগ থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট বাস্তবায়ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে দেশে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কিছুটা কমবে।
আরএমএম/এমকেআর
বিজ্ঞাপন