বিজ্ঞাপন
পরিচ্ছন্নতার লড়াইয়ে এবার জরিমানার পথ বেছে নিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। রাস্তায় থুতু ফেলা, প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা মলত্যাগ এবং যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলার মতো দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলাতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে এসব কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়লে গুনতে হবে জরিমানা।
ভারতের বিভিন্ন এলাকায় এখনো প্রকাশ্যে মলত্যাগ একটি বড় সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফের যৌথ মনিটরিং প্রোগ্রামের বিভিন্ন উপাত্ত ও বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ খোলা জায়গায় মলত্যাগ করেন। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এ হার প্রায় ৬ দশমিক ৭ থেকে ১১ শতাংশ। তবে, এ সমস্যা গ্রামাঞ্চলে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
এ বাস্তবতার মধ্যেই শহর পরিষ্কার রাখা ও নাগরিকদের আচরণে পরিবর্তন আনতে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নতুন জরিমানার আইন কার্যকর করেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন রাস্তায় থুতু ফেললেই গুনতে হবে ১০০ রুপি। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা মলত্যাগ করলে ২০০ রুপি। জনসমক্ষে আবর্জনা ফেলা বা পরিবেশ নোংরা করার জন্যও একই পরিমাণ জরিমানা করা হবে। এছাড়া, ১২৫ মাইক্রনের নিচের একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করলেও দিতে হবে ২০০ রুপি জরিমানা।
রাজ্যের নগর উন্নয়ন ও পৌরবিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেছেন, জরিমানা থেকে অর্থ সংগ্রহ করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। বরং নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি ও শহর পরিষ্কার রাখার বিষয়ে দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য শহরকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করে তোলা শুধু সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। নাগরিকদের নিজেদের শহরের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি না হলে কঠোরতা বা জরিমানা দিয়েও স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না।
গাড়ির জানালা খুলে বাইরে কোনো প্যাকেট ফেলা বা বাস থেকে থুতু ফেলার আগে মানুষকে একবার ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তার মতে, মানুষের মধ্যে এ ধারণা তৈরি করতে হবে যে শহর ও রাজ্য তাদের নিজেদের। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই পরিবেশ নোংরা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বছরে কয়েকটি সচেতনতামূলক কর্মসূচি করলেই মানুষের আচরণ বদলাবে না। এ পরিবর্তন মানুষের ভেতর থেকেই আসতে হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ উদ্যোগের প্রভাব দেখা যাবে বলে আশা করছে রাজ্য সরকার।
তবে, জরিমানা কার্যকর হলেও সব এলাকায় এখনো প্রয়োজনীয় ডাস্টবিন ও গণশৌচাগারের ব্যবস্থা পুরোপুরি তৈরি হয়নি। বিশেষ করে বাজার ও রেলস্টেশনের আশপাশে ডাস্টবিন বসানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে গণশৌচাগারের সংখ্যাও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেছেন, সরকার জানে যে এ ব্যবস্থা কার্যকরে এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। তবে, জরিমানা কার্যকরের পাশাপাশি ডাস্টবিন বসানো ও শৌচাগার নির্মাণের কাজও চলবে।
আবাসিক এলাকার ভেতরে ডাস্টবিন বসানোর পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। এর পরিবর্তে বাসিন্দাদের দুই ধরনের ব্যাগে আলাদা করে বর্জ্য রাখার জন্য উৎসাহিত করা হবে। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছে সেই বর্জ্য দেওয়া হবে।
নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যাগের বিকল্প ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতকারকদেরও উৎসাহ দিচ্ছে সরকার। বাজার এলাকায় ভেন্ডিং মেশিন বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এক ধরনের মেশিন থেকে প্রতি পিস এক রুপিতে ভুট্টা থেকে তৈরি ব্যাগ ও অন্য ধরনের মেশিনে ৫ থেকে ১০ রুপির মধ্যে কাপড়ের ব্যাগ পাওয়া যাবে।
রাজ্যজুড়ে বাজারের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু করতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
পশ্চিমবঙ্গে জনসমক্ষে থুতু ফেলা ও আবর্জনা ছড়ানোর বিরুদ্ধে আগে থেকেই আইন ছিল। ২০১৯ সালের সংশোধিত পৌর আইনে জনসমক্ষে থুতু ফেললে সর্বোচ্চ ১ হাজার রুপি জরিমানার বিধান রয়েছে। কলকাতায় অবৈধভাবে আবর্জনা ফেললে ৫০ থেকে ৫ হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানার ব্যবস্থাও আছে।
তবে, এসব আইন কার্যকর করতে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যার মুখে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন অভিযান শুরু হওয়ার পর নিয়মগুলো কতটা কঠোরভাবে কার্যকর করা যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
এমআরএইস/এসএএইচ
বিজ্ঞাপন