বিজ্ঞাপন
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, পরস্পরকে ভালোবাসে এমন দুইজন মানুষের জন্য বিয়ের চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই। (সুনানে ইবনে মাজা: ১৮৪৭)
এ হাদিসের অর্থ হলো, যদি কোনো পুরুষ ও নারী পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলে, তাহলে কোনো পাপাচারের পথে না গিয়ে তাদের মধ্যে বিয়ে হওয়াই সর্বোত্তম সমাধান। তাদের মধ্যে বিয়ে হতে কোনো সমস্যা বা বাধা না থাকলে বিয়ের ব্যবস্থা করা উচিত।
ইমাম আল-মুনাভি ‘ফয়জুল কাদির’ গ্রন্থে এই হাদিস উল্লেখ করার পর বলেছেন, ‘যখন কোনো পুরুষ কোনো পরনারীর দিকে তাকায় এবং ওই নারী তার পুরো হৃদয় জুড়ে স্থান করে নেয়, তখন তাকে বিয়ে করা তার হৃদয়ের ভালোবাসার আরও বাড়িয়ে দেয়।’
এ হাদিসে বিবাহপূর্ব অবৈধ সম্পর্ককে অনুমোদন করা হয়নি
এ হাদিসে পুরুষ-নারীর মধ্যে বিবাহপূর্ব অবৈধ সম্পর্ক গড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং নারী-পুরুষের মধ্যে ভালোবাসা বা আসক্তি তৈরি হলে বিয়েকে সর্বোত্তম সমাধান বলা হয়েছে, বিয়ে করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
ইসলামে ব্যাভিচার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, ব্যাভিচারের দিকে নিয়ে যায় এমন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ব্যাভিচারের কাছাকাছি যেতেও নিষেধ করে বলেন, তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না, তা হচ্ছে অশ্লীল কাজ আর অতি জঘন্য পথ। (সুরা ইসরা: ৩২)
কিন্তু কোনো ধরনের অবৈধ সম্পর্ক বা যোগাযোগ ছাড়া যদি কারো মনে প্রেমের অনুভূতির সঞ্চার হয়, তাহলে তার কোনো গুনাহ হবে না। কোনো অনৈতিক সম্পর্ক ছাড়াও অন্তরে প্রেমের অনুভূতি জাগ্রত হতে পারে। যেমন কাউকে এক নজর দেখে ভালো লেগে যেতে পারে, কারো রূপ-গুণের বর্ণনা শুনে ভালো লেগে যেতে পারে।
আরও পড়ুন
স্ত্রী একা থাকতে ভয় পেলে স্বামী কি ঘরে নামাজ পড়তে পারবেন?
বিয়ের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে মহানবীর (সা.) ৩ হাদিস
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে সে যেন অবশ্যই বিয়ে করে। কেননা বিয়ে দৃষ্টি অবনত করে ও লজ্জাস্থানের অধিক হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। রোজা তার জন্য ঢালস্বরূপ (অর্থাৎ রোজা তার যৌনচাহিদা দমন করে রাখবে)। (সহিহ বুখারি: ৫০৬৬, সহিহ মুসলিম: ১৪০০)
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, মানুষ যখন বিয়ে করে তখন সে তার ইমানের অর্ধেক পূর্ণ করে, অবশিষ্টাংশ লাভের জন্য সে যেন আল্লাহভীতি অর্জন করে। (শুআবুল ইমান: ৫১০০)
আবু হোরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই সাহায্য করেন। এক. ক্রীতদাস যে তার মুক্তিপণ পরিশোধ করে স্বাধীন হতে চায়। দুই. যে নিজের চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষার উদ্দেশ্যে বিয়ে করতে চায়। তিন. যে আল্লাহর পথে জিহাদ করে। (সুনানে তিরমিজি: ১৬৫৫)
আরও পড়ুন
স্ত্রীকে ‘আপু’ বললে কি তালাক হয়ে যাবে বা কোনো কাফফারা দিতে হবে?
ওএফএফ
বিজ্ঞাপন