জাতীয়

বন্যায় বাঁশখালী-সাতকানিয়ার ১৫৮ কিমি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, দুর্ভোগ চরমে

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
2 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
বাঁশখালীতে ৬০ সড়কে ১১০.৭, সাতকানিয়ায় ৬১ সড়কে ৪৭ কিমি ধস বাঁশখালীতে ২৭টি, সাতকানিয়ায় ৬টি ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাহত যোগাযোগ ব্যবস্থা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী রাস্তা চলাচল উপযোগী করতে প্রয়োজন প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বন্যার পানি নেমে গেছে, কিন্তু চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের স্রোতে দুই উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোর কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও সড়কের অংশ ধসে পড়েছে। এতে স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন অন্তত ১২১টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়কের প্রায় ১৫৮ কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি দুই উপজেলায় ৩৩টি ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাঁশখালীতে ৬০টি সড়কের ১১০ দশমিক ৭০ কিলোমিটার এবং ২৫টি কালভার্ট ও দুটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে সাতকানিয়ায় ৬১টি সড়কের প্রায় ৪৭ কিলোমিটার, ছয়টি কালভার্ট ও একটি পানি নিষ্কাশন কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলজিইডির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বাঁশখালীতে এসব অবকাঠামো সংস্কারে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। সাতকানিয়ায় সড়ক ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রয়োজন হবে অন্তত ৩০ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো সংস্কারে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গেছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সড়ক, ছবি: জাগো নিউজ বাঁশখালীতে ৬০ সড়ক, ২৭ ব্রিজ-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত বন্যার পানি ও পাহাড়ি ঢলের স্রোতে বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরল, কাথরিয়া, শেখেরখীল, চাম্বল, শীলকূপ, জলদী, পুইছড়ি, নাপোড়া, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধনপুর, খানখাবাদ ও পুকুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের কার্পেটিং ও ইট উঠে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলার এমন কোনো সড়ক নেই, যেটি বন্যার পানিতে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এতে গ্রামীণ জনপদের মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ছনুয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনোয়ারুল আজিম সাইফি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ছোট ছনুয়া থেকে ছনুয়া বাজার সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং এলাকার বিভিন্ন সংযোগ সড়ক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে এসব সড়কে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়বে।’ আরও পড়ুন চট্টগ্রামের বাঁশখালী / এলাকাজুড়ে এখনো বন্যার ক্ষত, পর্যাপ্ত নয় পুনর্বাসন কার্যক্রম পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ, ঘরহারা মানুষের সামনে টিকে থাকার নতুন লড়াই এলজিইডির বাঁশখালী উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাদ বিন মুনীর বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার ৬০টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ১১০ দশমিক ৭০ কিলোমিটার। এছাড়া ২৫টি কালভার্ট ও দুটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট ও পানি সম্পদ অবকাঠামো সংস্কারে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫ কোটি ৮ লাখ টাকা।’ বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন জাগো নিউজকে বলেন, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর তালিকা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করা হবে। পাশাপাশি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পানিতে ডুবে আছে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছোট ছনুয়া থেকে ছনুয়া বাজার সড়ক, ছবি: জাগো নিউজ সাতকানিয়ায় ৬১ সড়কের ৪৭ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়ায়ও বন্যার তীব্র স্রোতে সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার ৬১টি সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার সড়ক। পাশাপাশি ছয়টি কালভার্ট ও একটি পানি নিষ্কাশন কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেঁওচিয়া, এওচিয়া, চরতী, ছদাহা, বাজালিয়া, কালিয়াইশ, কাঞ্চনা, ঢেমশা, সোনাকানিয়া ও নলুয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অবস্থা নাজুক। কোথাও কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও সড়কের বাঁধ ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোথাও সড়কের পাশের মাটি ধসে পড়ায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গাটিয়াডেঙ্গা-দেওদিঘী-মির্জাখীল, চরতী-খোদারহাট-বাজালিয়া-বোমাংহাট, উপজেলা সদর-কেরানীহাট, ফুলতলা-খোদারহাট, চরতী দারুস সালাম মার্কেট-সাঙ্গুঘাট, এওচিয়া-পুকুরিয়া বাজার, ছদাহা-দস্তিদারহাট, কাঞ্চনা-চানপুর ও কালিয়াইশ-মাস্টারহাট সড়কের বিভিন্ন অংশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও পড়ুন চট্টগ্রাম / পানির নিচে ৪ কিলোমিটার মহাসড়ক, অবরুদ্ধ ২০ লাখ মানুষ ‘বন্যায় বাপ-দাদার শেষ স্মৃতিটুকু নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো’ নলুয়া এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বন্যার পানির স্রোতে দূরদুরী-খোদারহাট মৌলভীর দোকান সড়কের বেশকিছু অংশ ভেঙে গেছে। ফলে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী অসংখ্য মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’ পূর্ব গাটিয়াডেঙ্গার বাসিন্দা আনিসুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘বন্যার পানির তীব্র স্রোতে কেরানীহাট-হাঙ্গরমুখ সড়কের কার্তিকের দোকান এলাকায় বড় গর্ত ও ভাঙন তৈরি হয়েছে। সড়কটির এমন বেহাল দশায় যানবাহন তো দূরের কথা, পথচারীদেরও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।’ সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে জাগো নিউজকে বলেন, উপজেলার ৬১টি সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার সড়ক। ব্রিজ-কালভার্টসহ অনেক কিছু ধসে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁশখালীর বশিরউল্লাহ বাজার সড়ক। চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে লোকজনকে। ছবি: জাগো নিউজ দুর্ভোগে কৃষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী দুই উপজেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দারা। কৃষকরা উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে পারছেন না স্বাভাবিকভাবে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় রোগী পরিবহনেও ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত সংস্কার করা না হলে বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর অবস্থা আরও খারাপ হবে। এতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি ভবিষ্যতে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। আরও পড়ুন বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম / পানিবন্দি সাড়ে ৪ লাখ মানুষ, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট ‌‘পানি এত দ্রুত এলো, কিছুই সরানোর সুযোগ পাইনি’ চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এজন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা করে পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামো সংস্কার করা হবে। জনদুর্ভোগ কমানোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’ চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রথমে যেসব সড়কে যান চলাচল বন্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, সেগুলো দ্রুত সচল করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সড়কের স্থায়ী সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ করা হবে।’ এমআরএএইচ/এমএমএআর/ এমএফএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>