বিজ্ঞাপন
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর ‘মব সন্ত্রাস’ ও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের শিল্পীরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘আমরা শিল্পীবৃন্দ’র আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা রিয়াজুল রিজু বলেন, ‘আমরা শিল্পী, আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের নই। দেশকে ভালোবেসে ’২৪-এর জুলাইয়ে রাস্তায় নেমেছিলাম। কিন্তু গত দুই বছরে আমাদের ওপরই বেশি হামলা হয়েছে। শোরুম উদ্বোধন করতে দেওয়া হয়নি, বিভিন্ন জায়গায় কনসার্ট বন্ধ হয়েছে, নৌকাবাইচ বন্ধ হয়েছে।’
আরও পড়ুন
বাঁধনের দৃঢ় ঘোষণা, ‘কেস ফাইল না করে ভেনিস ছাড়ছি না’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাস হাজার বছরের। সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ মানে দেশের ওপর আক্রমণ, অস্তিত্বের ওপর আক্রমণ। বাঁধন সব সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। আমরা শিল্পীরাও তা-ই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময় আমরা সোচ্চার আছি, থাকব।’
সংগীতশিল্পী মুহিন খান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তারা সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এর সঙ্গে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে মব সন্ত্রাস হয়েছে, তা আমরা আর মেনে নেব না। দেশের কোনো অংশে এমন মব হলে আমরা বসে থাকব না।’
অভিনেতা ইভান সাইর বলেন, ‘আমরা ’২৪-এর জুলাইয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলাম। বর্তমান সরকারও যদি গণবিরোধী কিছু করে, আমরা প্রতিবাদ করব। বাঁধনের প্রশংসা করে বলব, এ পরিস্থিতিতে সে এতটা শক্ত থেকে প্রতিবাদ করে যাচ্ছে, যা আমাদের মনোবল শক্ত করছে।’
তিনি বলেন, ‘তার ওপর হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। বাংলাদেশের শিল্পীরা গান গাইবেন, নাটক করবেন, অন্য সব সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন-আমরা এমন একটি পরিবেশ চাই।’
আরও পড়ুন
সালমান শাহর সঙ্গে কেমন সম্পর্ক ছিল, জানালেন শাবনূর
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোনো শিল্পী বা সাংস্কৃতিক কর্মীর ওপর হামলা কিংবা মব সন্ত্রাস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিল্পীদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাধীনভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
সম্প্রতি ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার দলের সঙ্গে অংশ নেন বাঁধন। উৎসবের প্রতিযোগিতামূলক অরিজন্তি বিভাগে জায়গা পেয়েছে সিনেমাটি। ৬ সেপ্টেম্বর সালা দারসেনা থিয়েটারে সিনেমাটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।
প্রিমিয়ার শেষে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঘুরতে বের হলে হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বাঁধন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারা হয়। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার হাত থেকে মুঠোফোন ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার সময় তার ভাইয়ের স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুসন্তানও সঙ্গে ছিল।
বাঁধনের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী এবং ‘বঙ্গবন্ধুর সৈনিক’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বাঁধন আরও জানান, তাকে জোর করে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলতে বলা হয়। পরে সেই দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার ও প্রকাশের চেষ্টা করেন হামলাকারীরা।
এমএমএফ
বিজ্ঞাপন