বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ‘সাদা দল’ নামে নতুন একটি শিক্ষক সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। সংগঠনটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়েদুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত সংগঠনটির ঘোষণাপত্রে এসব তথ্য জানানো হয়।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, পেশাগত সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষক সমাজের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা থেকেই ‘সাদা দল’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে।
আহ্বায়ক কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু জোফার মো. মোসলেহ উদ্দিন, ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহা. ইলিয়াছুর রহমান ভূঁইয়া এবং মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. কে এইচ এম নাজমুল হুসাইন নাজির।
সংগঠনটির ঘোষণাপত্রে ‘সাদা দল’-কে একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক শিক্ষক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সত্য, ন্যায়, সততা, সাম্য ও ইনসাফের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ শিক্ষক সমাজ গড়ে তোলাকে সংগঠনটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায়ের পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি, এলাকাপ্রীতি ও বৈষম্য দূর করে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো, গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমে সহায়তা এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে সংগঠনটির। শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমে পেশাগত দায়িত্বশীলতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ঘোষণাপত্রে।
ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি প্রথমে সংগঠনের পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও সদস্যপদ-সংক্রান্ত নীতিমালা নির্ধারণ করবে। পরবর্তী সময়ে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মুহাম্মদ সোহান/এনএইচআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন