বিজ্ঞাপন
গরমে একটু পরপর পানি খেতে ইচ্ছা করাটা খুবই স্বাভাবিক। শরীরে পানির ঘাটতি হলে মস্তিষ্ক থেকে তৃষ্ণার সংকেত আসে। প্রচণ্ড গরমে অতিরিক্ত ঘাম, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম, ডায়রিয়া বা বমির কারণে শরীর থেকে বেশি তরল বেরিয়ে গেলেও পিপাসা বেড়ে যেতে পারে।
আবার খাবারে অতিরিক্ত লবণ বা ঝাল, বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও মুখ শুকিয়ে বারবার পানি খেতে ইচ্ছা হতে পারে।
তবে পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও যদি তৃষ্ণা কমতে না চায়, বিষয়টি শুধু পানিশূন্যতা হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কারণ দীর্ঘদিন ধরে অস্বাভাবিক পিপাসা পাওয়া শরীরের অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
পিপাসা ও ঘন ঘন প্রস্রাব হলে সতর্ক
বারবার পিপাসা পাওয়ার সঙ্গে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া ডায়াবেটিসের পরিচিত লক্ষণগুলোর একটি। রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনি অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে।
এর ফলে শরীর থেকে বেশি পানি বেরিয়ে যেতে পারে এবং তৃষ্ণাও বাড়তে থাকে। তাই পানি খাওয়ার পরও বারবার পিপাসা লাগছে এবং স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি প্রস্রাব হচ্ছে-এমন হলে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ।
এর সঙ্গে যদি অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ঝাপসা দেখা, অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা শরীর দুর্বল লাগার মতো উপসর্গও থাকে, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়।
শুধু ডায়াবেটিস নয়, থাকতে পারে অন্য কারণও
অতিরিক্ত তৃষ্ণার পেছনে ডায়াবেটিস ছাড়াও নানা কারণ থাকতে পারে। শরীরে সোডিয়ামসহ ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে তৃষ্ণা বাড়তে পারে। কিছু কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যাতেও শরীরের পানি ও লবণের ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস নামের একটি সমস্যার কারণেও অতিরিক্ত প্রস্রাব ও তীব্র তৃষ্ণা হতে পারে।
তাই শুধু বেশি পানি পান করলেই সমস্যার সমাধান হবেনা। বারবার পিপাসা পাওয়ার কারণটি খুঁজে বের করাও জরুরি।
পিপাসা পেলেই একসঙ্গে অনেক পানি নয়
তৃষ্ণা লাগলে পানি পান করা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে অল্প সময়ের মধ্যে জোর করে প্রচুর পানি পান করাও ঠিক নয়। অতিরিক্ত পানি গ্রহণের ফলে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে, যাকে হাইপোনাট্রেমিয়া বলা হয়। এতে শরীরের কোষে অতিরিক্ত পানি ঢুকে ফুলে যেতে পারে।
বিশেষ করে গুরুতর অবস্থায় মস্তিষ্কের কোষ ফুলে গিয়ে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক তন্দ্রা বা খিঁচুনির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। খুব বেশি মাত্রায় সোডিয়াম কমে গেলে অচেতনতা এবং মস্তিষ্কে বিপজ্জনক ফোলাভাবও হতে পারে। তাই তৃষ্ণা মেটাতে প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে পানি পান করাই ভালো।
আরও পড়ুন
পেট খারাপ হলে যেসব খাবার খাবেন
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
কয়েক দিন ধরে পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও যদি তৃষ্ণা না কমে, তাহলে কারণ খুঁজে দেখা দরকার। বিশেষ করে এর সঙ্গে ঘন ঘন প্রস্রাব, অস্বাভাবিক দুর্বলতা, ঝাপসা দেখা বা অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।প্রয়োজনে চিকিৎসক রক্তে শর্করার মাত্রা, সোডিয়ামসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রোলাইট এবং প্রস্রাবের পরীক্ষা দিতে পারেন।
আরও পড়ুন
জ্বর হলে কি গোসল করা উচিত?
কারণ শরীরের তৃষ্ণা অনেক সময় সাধারণ পানিশূন্যতার সংকেত হলেও, কখনো কখনো এটি ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো স্বাস্থ্যসমস্যার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতও হতে পারে। সূত্র: ওয়েব এমডি, ইন্ডিয়া টুডে
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন