ব্রেকিং নিউজ
জাতীয়

বিগ ব্যাশের বেসরকারিকরণ, ঝাঁপিয়ে পড়বে আইপিএলের ফ্রাঞ্চাইজিরা!

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) একটি সিদ্ধান্তে বদলে যেতে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বৈশ্বিক চিত্র। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) এবার বেসরকারি বিনিয়োগের দরজা খুলে দিচ্ছে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। আর সেই সুযোগে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখাতে পারে ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা। সে ক্ষেত্রে খোদ আইপিএলই ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২৭-২৮ মৌসুম থেকে বিবিএলের দলগুলোর মালিকানায় বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রথম ধাপে মেলবোর্ন রেনেগেডসের শতভাগ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এটি বড় ধরনের পরিবর্তন। কারণ এতদিন বিশ্বের বড় ক্রিকেট লিগগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়াই ছিল অন্যতম প্রধান বাজার, যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো মূলত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও রাজ্য ক্রিকেট সংস্থার নিয়ন্ত্রণেই ছিল। এখন সেই দরজা খুলে যাওয়ায় বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আইপিএল মালিকদের জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা। আইপিএল মালিকদের কেন আগ্রহ থাকবে? আইপিএলের বড় কয়েকটি মালিকগোষ্ঠী ইতোমধ্যেই ভারতের বাইরে একাধিক টি-টোয়েন্টি লিগে দল কিনেছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট, আরপি-সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপ এবং জিএমআর-জেএসডব্লিউ গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠান ভারত ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিজেদের উপস্থিতি তৈরি করেছে। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেট (এমএলসি), ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেডসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় আইপিএল-সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিনিয়োগ রয়েছে। বিবিএলে দল কেনার সুযোগ সেই বৈশ্বিক নেটওয়ার্ককে আরও বড় করতে পারে। একটি অস্ট্রেলিয়ান ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনলে একই মালিকগোষ্ঠীর অধীনে আইপিএল, এসএ২০, এমএলসি এবং বিবিএলের মতো একাধিক লিগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। ফলে কোনো তারকার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বা বছরজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি চুক্তির সম্ভাবনাও বাড়বে। ক্যামেরন গ্রিন, টিম ডেভিড কিংবা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো ক্রিকেটারদের একই মালিকানাধীন বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এতে শুধু খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনাই নয়, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনেও বড় সুবিধা পেতে পারে মালিকগোষ্ঠীগুলো। রেনেগেডস দিয়ে শুরু বিগ ব্যাশের বেসরকারিকরণের প্রথম বড় পরীক্ষা হবে মেলবোর্ন রেনেগেডস। ২০২৭-২৮ মৌসুম থেকে দলটির শতভাগ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো রেনেগেডস কেনার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক দরপত্র বা প্রস্তাব পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের অনুমান, বর্তমানে একটি বিবিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল্য প্রায় ১৫ থেকে ২০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মধ্যে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে অঙ্কটি কয়েক হাজার কোটি টাকার সমান। ফলে অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছে যথেষ্ট আকর্ষণীয় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। তবে পুরো নিয়ন্ত্রণ ছাড়ছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বিগ ব্যাশকে পুরোপুরি বেসরকারি মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার পথে হাঁটছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বরং বোর্ডের পরিকল্পনা অনেকটা ‘নিয়ন্ত্রিত বেসরকারিকরণ’। আন্তর্জাতিক সূচি, খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা, সম্প্রচার স্বত্ব এবং বেতনসীমার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এমনকি সম্ভাব্য কোনো ক্রেতা বা বিনিয়োগকারীকে দল কেনার অনুমোদন দেওয়া বা প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতাও থাকবে বোর্ডের হাতে। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠান শুধু অর্থের জোরে বিবিএলের দল কিনে নিজের ইচ্ছামতো সবকিছু পরিচালনা করতে পারবে না। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে বৈচিত্র্য বজায় রাখতে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা নিয়েও সীমা আরোপ করা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, সর্বোচ্চ দুই বা তিনটি বিবিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি ভারতীয় মালিকানাধীন হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হবে একটি নির্দিষ্ট দেশের বা কয়েকটি বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর হাতে পুরো লিগের মালিকানা চলে যাওয়া ঠেকানো। কারণ আইপিএলের অর্থনৈতিক শক্তি এখন এতটাই বেশি যে বিশ্বের অন্যান্য টি-টোয়েন্টি লিগে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। অস্ট্রেলিয়াও সেই প্রবণতা থেকে নিজেদের লিগকে সুরক্ষিত রাখতে চাইছে। ভারতীয় তারকারা কি খেলবেন বিবিএলে? বিগ ব্যাশে দল কিনলেও আইপিএল মালিকদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা থাকবে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে। বিসিসিআই এখনো ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটারদের বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অনুমতি দেয় না। ফলে কোনো ভারতীয় মালিকানাধীন বিবিএল দল চাইলেই রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি কিংবা অন্য ভারতীয় তারকাদের অস্ট্রেলিয়ায় খেলাতে পারবে না। এটি বিবিএলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটারদের দেখা যায় না। তবে নারী ক্রিকেটে পরিস্থিতি ভিন্ন। স্মৃতি মান্ধানা ও হারমানপ্রিত কৌরের মতো ভারতীয় নারী তারকারা ইতোমধ্যেই বিবিএলে খেলেছেন। অতএব ভারতীয় মালিকানা এলেই যে বিবিএলে ভারতীয় পুরুষ তারকার ঢল নামবে, এমনটা এখনই ভাবার সুযোগ নেই। তাৎক্ষণিকভাবে ভারতীয় তারকাদের দলে নিতে না পারলেও অস্ট্রেলিয়ার বাজারে প্রবেশ আইপিএল মালিকদের দীর্ঘমেয়াদে বড় সুবিধা দিতে পারে। বিবিএলের মাধ্যমে তারা অস্ট্রেলিয়ার তরুণ প্রতিভাদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ ও বিকাশের সুযোগ পাবে। নিজেদের বৈশ্বিক একাডেমি বা স্কাউটিং নেটওয়ার্কের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের প্রতিভাবানদের যুক্ত করার পথও খুলতে পারে। ভবিষ্যতে বিসিসিআই যদি চুক্তিবদ্ধ নন এমন ক্রিকেটার, অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটার কিংবা নির্দিষ্ট শ্রেণির খেলোয়াড়দের বিদেশি লিগে খেলার বিষয়ে নিয়ম শিথিল করে, তাহলে বিবিএলে বিনিয়োগকারী ভারতীয় মালিকেরা বড় সুবিধা পেতে পারেন। আইএইচএস/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>