ব্রেকিং নিউজ
এবার বিশ্ববাজারে কমে গেল স্বর্ণের দাম চুক্তিভিত্তিক বিয়ের বিষয়ে এবার মুখ খুললেন প্রভা সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র অপরাধ দমনে রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইডিএলসি ফাইন্যান্সে নিয়োগ, আবেদন করতে পারবেন ফ্রেশারপ্রার্থীরা IND vs SL Live: চতুর্থ দিন লাঞ্চের সময় ফলো অন করে দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার স্কোর ৮৩/২, লাইভ আপডেট Bengal Cricket: জেলা প্রতিনিধিরা না আসায় পণ্ড সিএবির বৈঠক! আজ অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সভায় AGM-এর দিন ঘোষণা প্যারিসে তাসনিয়া ফারিণ, বললেন ‘আমাদের নিজের বলে কিছুই নেই’ মৌসুম শেষেও বাজারে বাহারি জাতের আম, চাহিদা দেশি ফলে পাংশায় আবাসিক এলাকায় গুল কারখানা, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয়রা
জাতীয়

বিনিয়োগ বোর্ড থেকে ইনভেস্ট বাংলাদেশ, গতি ফিরবে কি বিদেশি বিনিয়োগে?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা নতুন নয়। বরং গত প্রায় চার দশকে সরকার একের পর এক প্রতিষ্ঠান, আইন প্রণয়ন, শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ও নানা ধরনের বিনিয়োগ সুবিধা চালু করেছে। তবে উদ্যোগের সংখ্যা যত বেড়েছে, তার তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ ততটা বাড়েনি। বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের শুরু ১৯৮৯ সালে বিনিয়োগ বোর্ড (বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্ট বা বিওআই) প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। লক্ষ্য ছিল বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, শিল্প স্থাপনে সহায়তা দেওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের সরকারি বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা। এদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লাভজনক বা লোকসানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তর ও বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়ায় গতি আনতে ১৯৯৩ সালে প্রাইভেটাইজেশন বোর্ড গঠন করা হয়। ২০০০ সালে এটি প্রাইভেটাইজেশন কমিশনে রূপ নেয়। পরে ২০১০ সালে দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও পরিচালনার মাধ্যমে শিল্প স্থাপন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে গঠন করা হয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। বেজার মূল লক্ষ্য ছিল বিনিয়োগের জন্য শিল্পভিত্তিক অবকাঠামো ও জায়গা তৈরি করা। লক্ষ্য ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করা। বেজার বোর্ড ৯৭টি জোন অনুমোদন দিলেও ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এক দশকে মাত্র ১০টি জোন কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে ১০০টি জোনের লক্ষ্য ২০৪১ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। একই বছরে (২০১০) সরকারি অবকাঠামো ও জনসেবামূলক প্রকল্পে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি) গঠন করে সরকার। পরে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইনের মাধ্যমে পিপিপি অফিসকে আইনি কর্তৃত্বসম্পন্ন কর্তৃপক্ষে রূপান্তর করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্ব বাড়ানো। বিনিয়োগ বোর্ড গঠনের ঠিক প্রায় তিন দশক পর ২০১৬ সালে বিওআই ও প্রাইভেটাইজেশন কমিশন একীভূত করে গঠন করা হয় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। লক্ষ্য ছিল দেশে দেশি ও বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দেওয়া এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা। এক কথায় বিডার মূল লক্ষ্য ছিল বিনিয়োগকারী আনা এবং তাদের বিনিয়োগ কার্যক্রম সহজ করা। বিনিয়োগ বোর্ড ভেঙে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) প্রতিষ্ঠার এক দশক পর আবারো বিডা, বেজা এবং পিপিপিএ একীভূত করে সরকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে। এসব একীভূতকরণ ও সংস্কারের মূল লক্ষ্য ছিল ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করা, দক্ষতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। তবে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, বাংলাদেশে বিদেশি প্রত্যক্ষ বা সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রার নিচে রয়েছে। আরও পড়ুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ইনভেস্ট বিল পাস এক ছাতার নিচে বিনিয়োগসেবা, বিলুপ্ত বিডা-বেজা-পিপিপিএ সরকার চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশে এবং বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ছিল ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগ ছিল শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ।  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এখন দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা। সম্প্রতি সংস্থাটি তার নতুন ব্র্যান্ড পরিচয়ও প্রকাশ করেছে। নতুন এই পরিচয় তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে একটি জাতীয় বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরকে তুলে ধরবে। নতুন কর্তৃপক্ষ বিনিয়োগ সহায়তা, নীতি সমন্বয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের সক্ষমতাকে এক প্রতিষ্ঠানে এনেছে। ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সারা দেশের বিনিয়োগ সুযোগের জন্য এক জায়গা থেকে সহায়তা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিনিয়োগসেবা, সুবিধা ও নীতির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সহজ ও সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য বিনিয়োগকারী ও অংশীদারেরা দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি একক যোগাযোগকেন্দ্র চেয়ে আসছিলেন, বলে দাবি করা হয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।  ‘আমাদের সক্ষমতাগুলো এক করে আমরা বিনিয়োগের পুরো পথে দায়িত্ব ও জবাবদিহি আরও স্পষ্ট করতে এবং আরও সমন্বিত সহায়তা দিতে চাই। পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জন ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আমরা আরও বড় ও শক্তিশালী দল হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করব।’ - ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী  এছাড়াও, ২০২৬ সালের ১৮০ দিনের বিনিয়োগ কর্মপরিকল্পনাতেও রয়েছে ২৫টি উদ্যোগ। এর মধ্যে ১৩টি অবকাঠামো উন্নয়ন, সাতটি বিনিয়োগ সহায়তা এবং পাঁচটি বিনিয়োগ উন্নয়নসংক্রান্ত। পরিকল্পনায় রয়েছে বন্দর আধুনিকায়ন, প্রস্তুত শিল্প প্লট, জ্বালানি খাতের উদ্যোগ, ইকোনমিক জোনে রূপান্তর, বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাগুলোর একীভূতকরণ, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ উদ্যোগ, বেসরকারি খাতের পরামর্শক কাউন্সিল, বাংলাবিজ এবং চীনে ওভারসিজ অফিস স্থাপনের মতো পদক্ষেপ। তাহলে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের কি সত্যিই অভাব আছে? বরং গত কয়েক দশকের চিত্র বলছে, উদ্যোগের কমতি নেই। একের পর এক সংস্থা, কর্তৃপক্ষ, নীতি, সেবা ও কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীর কাছে শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো—কারখানার জন্য জমি কত দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে, বিদ্যুৎ-গ্যাস কতটা নির্ভরযোগ্য, অনুমোদন পেতে কত সময় লাগছে, বন্দরের সেবা কতটা কার্যকর এবং নীতির ধারাবাহিকতা কতটা নিশ্চিত। বাংলাদেশের বিনিয়োগ সমস্যার কেন্দ্রে এখন আর শুধু নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রশ্ন নয়। বড় প্রশ্ন হলো—নেওয়া উদ্যোগগুলো কতটা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বিনিয়োগকারীর দৈনন্দিন ব্যবসার বাস্তব বাধা দূর করতে পারছে। আরও পড়ুন ১৪ দিনেই ব্যবসার লাইসেন্স, আরও যেসব চমক আনছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ আশিক চৌধুরী / ইনভেস্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য ‘প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে’ বিনিয়োগ গন্তব্য গড়া কেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ব্যবসার অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, বিনিয়োগ-প্রস্তুত স্থান খুঁজে পাওয়া এবং ব্যবসার প্রবৃদ্ধির বাধা মোকাবিলায় বিনিয়োগকারীদের সহায়তা করবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ। ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন কর্তৃপক্ষ ১৪ দিনে ব্যবসায়িক লাইসেন্সিং কাঠামো কার্যকর করতে কাজ করছে। দ্রুত ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসা পরিবেশ গড়ার সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘এটি শুধু তিনটি প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ নয়, বিনিয়োগকারীকে কেন্দ্রে রেখে সরকারের কাজ আরও কার্যকরভাবে সাজানোই এর লক্ষ্য। আমাদের সক্ষমতাগুলো এক করে আমরা বিনিয়োগের পুরো পথে দায়িত্ব ও জবাবদিহি আরও স্পষ্ট করতে এবং আরও সমন্বিত সহায়তা দিতে চাই। পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জন ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আমরা আরও বড় ও শক্তিশালী দল হিসেবে নতুন অধ্যায় শুরু করব।’ ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬ জাতীয় বিনিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার ভিত্তি তৈরি করেছে। এ আইনের আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও অন্যান্য শিল্পাঞ্চলকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার পাশাপাশি লাইসেন্স-অনুমোদন ও সরকারি সেবার সময়সীমা নির্ধারণ, ছোট পিপিপি প্রকল্পের অনুমোদন সহজ করা, অব্যবহৃত সরকারি সম্পদ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসাসংক্রান্ত সেবা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরিবর্তন কি বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা রাখবে? একটি অনুমোদনের আবেদন অনলাইনে করা সহজ হলেই কি কোনো বহুজাতিক কোম্পানি বাংলাদেশে ১০০ মিলিয়ন বা ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে?  এ প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেওয়া কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগকারীরা উত্তরে—না বলছেন। কারণ, একটি বড় বিদেশি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত শুধু কোম্পানি নিবন্ধন বা অনুমোদন পাওয়ার প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে না। বিনিয়োগকারীকে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ, নীতির স্থিতিশীলতা, জমি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিশ্চয়তা, অবকাঠামো, কর ও শুল্কব্যবস্থা, মুনাফা ও মূলধন ফেরত নেওয়ার সুযোগ এবং বাজার ও রপ্তানি সুবিধাসহ সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশ বিবেচনা করতে হয়। এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘মূলত তিনটি প্রতিষ্ঠান—বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ—একীভূত করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে আলাদাভাবে সেবা নেওয়ার যে মাল্টি-স্টপ ব্যবস্থা আছে, সেটি কমিয়ে আনা। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের যেসব কাজ আগে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে করতে হতো, সেগুলো এক জায়গায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ ‘তবে প্রশ্ন হলো, শুধু প্রতিষ্ঠান একীভূত করলেই কি বাংলাদেশে এফডিআই বা বিনিয়োগ আসবে? আমার উত্তর—না’, দাবি করেন এ অর্থনীতিবিদ। আরও পড়ুন বাংলাদেশিদের প্রণোদনার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে নীতিমালা অনুমোদন বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লেও শেয়ারবাজারে কমেছে জাহিদ হোসেন বলেন, একজন বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে গেলে শুধু নিবন্ধন বা অনুমোদনের বিষয়টিই দেখে না। বিনিয়োগের পথে আরও অনেক বাধা রয়েছে। যেমন কাস্টমসের প্রক্রিয়া, অর্থ বা তহবিল আনা-নেওয়ার নিয়ম, শ্রমিক সংগ্রহ, জমি পাওয়া, ইউটিলিটি সার্ভিস, রেডি-টু-ইনভেস্ট জমি, পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স এবং বিভিন্ন সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থা। ব্যবসা শুরু করা ও চালু রাখার জন্য এসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিনিয়োগকারীকে যুক্ত হতে হয়। প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ বিনিয়োগ আকর্ষণে ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. জাহিদ বলেন, অবশ্যই যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, সেগুলোও সমাধান করতে হবে। জমি, ইউটিলিটি, কাস্টমস, অর্থ আনা-নেওয়া, শ্রমিক, পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স, সার্টিফিকেশন—সব জায়গায় সংস্কার দরকার। এসব সমস্যা একদিনে সমাধান হবে না। কিন্তু বিনিয়োগকারীকে যদি প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা জায়গায় যেতে হয়, তাহলে শুধু নতুন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যাবে না, বলে এই অর্থনীতিবিদ। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের চিত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে, যা মে মাসের ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশের তুলনায় কম। জুনের এ প্রবৃদ্ধি ১৯৯৩ সালের পর সর্বনিম্ন, যখন সর্বনিম্ন ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ৪৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ৪৪৭ মিলিয়ন ডলারে নেমেছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ৭৯৭ মিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো এফডিআই ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে, ওই বছর এর পরিমাণ ছিল ১.০৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর থেকে দেশে বার্ষিক এফডিআই প্রবাহ সাধারণত ২ বিলিয়ন ডলারের আশপাশে ছিল। ২০১৮ সালে জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনালের (জেটিআই) প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের বড় বিনিয়োগের ফলে এফডিআই সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে বাংলাদেশে এফডিআই এসেছে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৩৬ বেশি। আরও পড়ুন ২০২৫ সালে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ৩৯.৩৬ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ আনলে দেড় শতাংশ কমিশন দেওয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগের পথে অন্তরায় কী দেশের বিনিয়োগকারী ও অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নাম পরিবর্তন ও একীভূতকরণের সঙ্গে চিহ্নিত ও বিদ্যমান সমস্যার সমাধান অতীব জরুরি। বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। যেমন: শিল্পের জন্য প্রস্তুত জমি, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও গ্যাস, নীতির ধারাবাহিকতা, বৈদেশিক মুদ্রা ও মুনাফা দেশে আনা-নেওয়ার নিশ্চয়তা, জটিল কর ও শুল্কব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং স্থানীয় সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক। নিষ্কণ্টক ও প্রস্তুত জমির অভাব জমির ক্ষেত্রে সমস্যা শুধু জমির পরিমাণ নয়। জমির প্রকৃত মালিকানা ও প্রস্তুত থাকা, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও অন্যান্য সুবিধা পাওয়া, সড়ক যোগাযোগ এবং দ্রুত দখল বুঝে পাওয়াসহ প্রস্তুত শিল্পজমির ঘাটতি রয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণা করলেই বিনিয়োগ আসে না; জমির সঙ্গে প্রস্তুত অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সেবা থাকতে হয়। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগের দীর্ঘসূত্রতা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ পেতে দীর্ঘসূত্রতা ও নির্ভরযোগ্যতা বিনিয়োগে বড় বাধা। এতে দীর্ঘ সময় লাগে। বিপুল পরিমাণ ঘুস দিতে হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংযোগ পাওয়ারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমনকি বর্তমানে নতুন গ্যাস সংযোগও অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নীতির পূর্বানুমেয়তা নীতির পূর্বানুমেয়তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। যেমন ১৫ থেকে ২০ বছরের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারী জানতে চান, করনীতি, শুল্ক কাঠামো, বৈদেশিক মুদ্রা, মুনাফা প্রত্যাবাসন এবং নিয়ন্ত্রক বিধান ভবিষ্যতে কতটা স্থিতিশীল থাকবে। আরও পড়ুন দেশে নতুন বিনিয়োগের ৯২ শতাংশই চীনের: বিডা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার তাগিদ দক্ষ জনবলে ঘাটতি দক্ষ জনবলের ঘাটতিও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে সীমিত করছে। শুধু কম মজুরির শ্রমিক দিয়ে এখন আর যথেষ্ট নয়; বহুজাতিক কোম্পানির প্রয়োজন প্রকৌশলী, কারিগরি কর্মী, তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কর্মী, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থায় বিশেষজ্ঞ, মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপক ও গবেষণা-কর্মী। সরবরাহব্যবস্থা ও অবকাঠামোর দুর্বলতা বিনিয়োগের আরেকটি বড় সমস্যা হলো দেশীয় সরবরাহব্যবস্থা ও অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা। তৈরি পোশাক খাতে স্থানীয় সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হলেও ইলেকট্রনিকস, মোটরযানের যন্ত্রাংশ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, রাসায়নিক পণ্য, শিল্পযন্ত্র, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক সেবাখাতে তা এখনও পর্যাপ্ত নয়। এর পাশাপাশি বন্দর ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, পণ্য খালাসের গতি, সড়ক ও মহাসড়কের মান, পরিবহনব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় আরও উন্নত করা প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে দুর্বলতার কারণে পণ্য পরিবহন ও উৎপাদনে সময় ও খরচ বাড়ে। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের ব্যবসার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে কম প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে। আরও পড়ুন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা / দেশীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে না বিদেশি বিনিয়োগ টানতে ‌‘থ্রি-আর’ কৌশল বাস্তবায়ন করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী বিনিয়োগ আকর্ষণে করণীয় বিনিয়োগ আকর্ষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত বাধাগুলো দূর করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং জোরদার করা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জাগো নিউজকে বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সমস্যা শুধু ‘বিনিয়োগ কম’ নয়। মূল সমস্যা হলো বিনিয়োগের প্রচার ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ব্যবধান। এ অর্থনীতিবিদ জানান, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিনিয়োগকারীকে শুধু বললেই হবে না—‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন’। তাকে নিশ্চিত করতে হবে—জমি প্রস্তুত, বিদ্যুৎ-গ্যাস নির্ভরযোগ্য, অনুমোদনের সময়সীমা নির্ধারিত, কর ও শুল্কনীতি স্থিতিশীল এবং ব্যবসা পরিচালনা ও মুনাফা দেশে নেওয়ার পথ সহজ ও পূর্বানুমেয়। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আসবে তখনই, যখন বিনিয়োগকারী মনে করবেন—বাংলাদেশে শুধু বিনিয়োগের সুযোগ নেই; বিনিয়োগ করা, ব্যবসা পরিচালনা করা এবং বৈধভাবে মুনাফা দেশে নেওয়াও সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহসভাপতি ইনামুল হক বাবলুর মতে, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ গঠন প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়াতে পারে। তবে শুধু সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করলেই বিনিয়োগ বাড়বে না। ইনামুল হকের মতে, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে বিদ্যমান বাধাগুলোও দূর করতে হবে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট বড় চ্যালেঞ্জ। দেশীয় বিনিয়োগকারীরাই যখন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে নিশ্চিত নন, তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও বেশি নিশ্চয়তা চাইবেন। তাই জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় সুবিধার নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা ছাড়া শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন। আইএইচও/এমএমএআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>