ব্রেকিং নিউজ
ইরান ইস্যুতে চীনা কোম্পানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, কড়া বার্তা দিল বেইজিং হোটেলে ‘সাইবার আস্তানা’, বিপুলসংখ্যক আইফোনসহ ৬ চীনা আটক ভিমরুলের বাসা পোড়াতে গিয়ে ‘কোটি টাকার’ মালামাল পুড়ে ছাই ‘সংখ্যালঘু’ শব্দ ব্যবহার করে নিজেদের খাটো করবো না: পানিসম্পদমন্ত্রী পাকিস্তান দলে ‘ভয় নিয়ে খেলছেন’ ক্রিকেটাররা জমির নামজারিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নতুন নিয়ম, এলো যেসব পরিবর্তন হোটেলে বিদেশিদের ‘সাইবার আস্তানা’, বিপুলসংখ্যক আইফোনসহ ৬ চীনা আটক গিলেস্পির ক্ষোভ, পাকিস্তান দলে ‘ভয় নিয়ে খেলছেন’ ক্রিকেটাররা গোপালগঞ্জে বাইক দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী নিহত সম্প্রীতির বাংলাদেশে বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
জাতীয়

‘বিশ্বাস করি, আমাদের পুরো দলকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব’

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সেই ২০১০ সাল থেকেই কোচিং করাচ্ছেন আশিকুজ্জামান মজুমদার। ব্যাটিং বা বোলিং নয়, ক্রিকেটারদের ক্যাচিং, ফিল্ডিং শেখান তিনি। ১৫ বছরের বেশি কোচিংয়ে থাকার পর গত মে মাসে প্রথমবার জাতীয় দলের ফিল্ডিং কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু হয় আশিকের। গেল ৩ মাসে ড্রেসিংরুমে সেরা ফিল্ডারকে পুরস্কৃত করার উদ্যোগসহ নানা কারণে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন তিনি। ফিল্ডিংয়েও উন্নতি হচ্ছে টাইগারদের। জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা, ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থাসহ নানা বিষয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন আশিক। পাঠকদের জন্য তার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো- প্রশ্ন: জাতীয় দলের সঙ্গে তিন মাস কাজ করলেন। এর আগে লম্বা সময় ঘরোয়া ক্রিকেটে কাজ করেছেন। সব মিলিয়ে জাতীয় দলের এই ছোট সময়ের কাজের অভিজ্ঞতা এখন পর্যন্ত কেমন?আশিকুজ্জামান: কাজের অভিজ্ঞতা অনেক ভালো। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করাটা আমার কাছে অনেক সম্মানের। এটাকে আমি এক ধরনের মেডিটেশনও বলতে পারি। এটা একটা প্যাশন। প্রশ্ন: আপনার অভিজ্ঞতা অনুসারে বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ে এখনো সবচেয়ে দুর্বলতা কোন জায়গায় বলে মনে হয়?আশিকুজ্জামান: দুর্বলতা বলতে...আমি ইতিবাচক মানুষ। আপনার ক্যাচিং, গ্রাউন্ড ফিল্ডিং, থ্রোয়িং-সবই ফিল্ডিং। পজিটিভ দিকটা নিয়ে কাজ করলে তখন কিন্তু দুর্বলতাগুলো আর থাকে না। মানে সবসময় পজিটিভ চিন্তাটাই করি। দুর্বলতা সবকিছুরই আছে, স্ট্রং পয়েন্টও আছে। আমি স্ট্রং পয়েন্টের দিকে বেশি মনোযোগ দিই, যার জন্য দুর্বলতাগুলো আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যায়। প্রশ্ন: ফিল্ডিং তো তিন ধরনের-ক্যাচিং, গ্রাউন্ড ফিল্ডিং ও থ্রোয়িং। তুলনামূলক কোন জায়গায় আপনাকে বেশি কাজ করতে হয়েছে এই সময়ে?আশিকুজ্জামান: সবচেয়ে বেশি ক্যাচিংয়ে। আমরা তিন ধরনের ক্যাচিং নিয়ে কাজ করেছি-স্লিপ ক্যাচিং, হাই ক্যাচিং এবং ক্লোজ ক্যাচিং। ক্যাচিং খুব ইম্পর্ট্যান্ট, তাই জিম্বাবুয়ে থেকেই ক্যাচিংয়ে আমাদের মনোযোগ বেশি ছিল। এছাড়া ডিরেক্ট থ্রো। ম্যাচে অনেক ডিরেক্ট থ্রো রানআউট মিস হয়। ক্যাচিং ও ডিরেক্ট থ্রো আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো হয়েছে। হাই ক্যাচিংয়ের দিকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, কারণ ওখানে বাতাস থাকে। প্রশ্ন: ডিরেক্ট থ্রোর কথা বলছিলেন। বাংলাদেশ ডিরেক্ট থ্রোতে যতটা সাকসেসফুল হওয়ার কথা, ততটা না। এই সাফল্য না পাওয়া কি টেকনিক্যাল নাকি মানসিক?আশিকুজ্জামান: ডিরেক্ট থ্রোতে টেকনিক্যাল ও মেন্টাল দুইটাই কাজ করে। অভ্যাসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, অনুশীলনটা। আমি আসার পর আমরা ডিরেক্ট থ্রো নিয়ে অনেক কাজ করেছি। ওরা অনেকগুলো চান্স পেয়েছিল এবং ডিরেক্ট থ্রোতে অনেকগুলো রানআউট হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, ডিরেক্ট থ্রোতে ওরা অনেক কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। প্রশ্ন: আপনি তিন মাস কাজ করেছেন এবং এই সময়েই ডিরেক্ট থ্রোতে উইকেট বেশি ভেঙেছে। ডিরেক্ট থ্রোতে এর আগে ওইভাবে দেখা যায়নি। এই তিন মাসে আপনি কি কোনো বিশেষ কাজ করেছেন, যাতে সাফল্য হঠাৎ করে বেড়ে গেল?আশিকুজ্জামান: ডিরেক্ট থ্রোতে আমরা অনেক ড্রিল করেছি, যেখানে আমরা একটা সিচুয়েশন তৈরি করতাম। আপনি যদি মিস করেন, তাহলে রান হবে আর হিট করলে রানআউট হবে। এই সিচুয়েশনগুলো তৈরি করার ফলে প্লেয়ারদের ভিতরে কনফিডেন্স তৈরি হয়েছে, যা ম্যাচে কাজে লেগেছে। আর বিশেষ কোনো টেকনিক তো আলাদাভাবে নেই। খেলোয়াড়দের মধ্যে আমি তেমন কোনো কৃতিত্ব নিতে চাই না। খেলোয়াড়রাই আসলে কাজটা করছে। আমরা তো কোচ। কোচেস উইন নাথিং, ইটস অল অ্যাবাউট প্লেয়ারস। এখানে আমরা কিছু কিছু বিষয় অনুসরণ করার চেষ্টা করি। মূল কাজটা আসলে খেলোয়াড়রাই করে। আমরা কোচরা শুধু তাদের গাইড করি, আর আল্লাহ প্লেয়ারদের সাহায্য করেন। প্রশ্ন: ম্যাচের ক্রাঞ্চ মোমেন্টে যদি কোনো ফিল্ডার ক্যাচ মিস করে ফেলে, তবে সে মানসিকভাবে ডাউন হয়। ওই সময় তাকে উৎফুল্ল করার জন্য কি আলাদা কোনো কাজ করা হয়?আশিকুজ্জামান: খুব ভালো প্রশ্ন করেছেন। ওই সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যখন কেউ ক্যাচ ড্রপ করে বা নেগেটিভ সিচুয়েশন তৈরি হয়, তখন পাশে কোনো ফিল্ডার থাকলে বা আমি থাকলে তাকে উৎফুল্ল করার জন্য কিছু কথা বলা হয়। প্লেয়াররা মিলে এই কাজটাই করার চেষ্টা করি। যখন কেউ ক্যাচ ড্রপ করে, তখন পাশের প্লেয়াররা তাকে সাপোর্ট দেয়। এই সাপোর্টটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন: আধুনিক যুগে সবকিছুতেই ডাটা ইউজ হচ্ছে। ফিল্ডিং অনুশীলনেও কি প্রযুক্তি বা ডাটা ব্যবহার করেন?আশিকুজ্জামান: ফিল্ডিংয়ে আমার ডাটা এন্ট্রি থাকে। ডাটা কালেকশন, সফটওয়্যার বা মার্কিংয়ের মাধ্যমে ক্যাচ ড্রপ, ক্যাচ মিস-এসবের হিসাব রাখা হয়। আমি প্রতিদিন সেই ডাটা নিয়ে কাজ করি। জিপিএস ডাটাতেও খেলোয়াড়দের রানের গতি, গ্রাউন্ডে আমরা কত রান সেভ করছি, কতগুলো রানআউট তৈরি করেছি, কতগুলো ক্যাচ ধরেছি-এসব তথ্য থাকে। আমার একটি ব্যক্তিগত নোটবুকও থাকে। ম্যাচের পর এসব তথ্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে শেয়ার করা যায়। এই ডাটাগুলো নেক্সট ম্যাচে আমাদের সাহায্য করে। প্রশ্ন: আপনি জয়েন করার পরে প্রত্যেক ম্যাচে সেরা ফিল্ডারকে মেডেল দেওয়া বা ড্রেসিংরুমে ইন্সপায়ারিং কিছু বলার প্রথা চালু করেছেন। এই চিন্তার পেছনে কী ছিল এবং ফিল্ডারদের মধ্যে এর প্রভাব কেমন?আশিকুজ্জামান: মেডেলের চিন্তাটা আমি যখন ছোট ছিলাম, ওয়াহিদ স্যারের কাছে অঙ্কুর ক্রিকেট একাডেমিতে অনুশীলন করতাম। তখন স্যার ভালো খেললে বিভিন্ন পুরস্কার দিতেন। ওখান থেকেই আইডিয়াটা আসে, এরপর প্রথমে ‘এ’ দলে চালু করি। প্রত্যেক মানুষই চান, তিনি যখন কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন, তখন যেন সেখান থেকে কোনো না কোনো পুরস্কার বা সম্মান পান। এটা আসলে তেমনই একটি ছোটখাটো পুরস্কার ব্যবস্থা। এরপর জাতীয় দলে আসার পর ম্যানেজার নাফিস ইকবাল বলল জাতীয় দলেও এটা চালু করতে। আমাকে খুব উৎসাহ দিল এটা চালু করতে। তার উৎসাহে আমি এটা চালু করলাম এবং প্লেয়ারদের মধ্যে পজিটিভ ইমপ্যাক্ট ফেলেছে। ওরা এখন মেডেল পাওয়ার জন্য উৎসাহী থাকে। আমি যখন পানি নিয়ে যাই, তখন প্লেয়াররা জিজ্ঞেস করে কত পয়েন্ট পেল বা মেডেল পাবে কি না। এটা ড্রেসিংরুমে বাড়তি এনার্জি তৈরি করে। প্রশ্ন: জাতীয় দলের বাকি কোচিং প্যানেল বা ক্রিকেটারদের সঙ্গে আপনার বন্ডিং কেমন?আশিকুজ্জামান: অনেক ভালো। বন্ডিং তো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার বলেন, চাকরির জায়গা বলেন কিংবা কোনো একটি দেশে—যেকোনো পর্যায়ে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা, বন্ডিং ও সাপোর্ট থাকলে ভালো ফল আসতে বাধ্য। আর ভালো-খারাপ সময় তো সবসময় একভাবে যায় না। আমাদের টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে-সবার সঙ্গেই আমাদের বন্ডিং খুব ভালো। টিম ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি হেড কোচ, ফিজিও ও ট্রেনারদের সঙ্গেও আমাদের সমন্বয় খুব ভালো। প্রশ্ন: আপনি অনেকদিন ধরে কোচিংয়ে আছেন, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটেও কাজ করেছেন। এজ লেভেল ক্রিকেটার আর ন্যাশনাল টিমের ফিল্ডিং সেশনে বেসিক পার্থক্য কী রাখেন?আশিকুজ্জামান: প্রথমত, এখানে মানসিক বিকাশের বিষয়টা থাকে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে ক্যাম্পিং বা ট্রেনিংয়ের জন্য অনেক সময় পাওয়া যায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আসলে সময়টা কম। প্রতিদিনের কার্যক্রমের মধ্যেই সবকিছু করতে হয়। পার্থক্য বলতে এটুকুই। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলা বোঝা বা শেখার জন্য সময়টা বেশি পাওয়া যায়। আর ‘এ’ লেভেল বা এলিট লেভেলে এসে পারফর্ম করতে হয়। মূল পারফরম্যান্সটা আসলে এলিট লেভেলেই করতে হয়। তবে আমি একই জিনিসই শেখাব, শেখানোর পদ্ধতিও একই থাকবে। পার্থক্য হলো, এলিট লেভেলে এসে শুধু পারফর্ম করতে হবে এবং নিজের স্কিলটা কাজে লাগাতে হবে। প্রশ্ন: আপনি ২০১০ সালে কোচিংয়ে আসেন। শুরুটা কীভাবে ছিল এবং শুরু থেকেই কি ফিল্ডিং কোচ হওয়ার ইচ্ছা ছিল?আশিকুজ্জামান: আসলে কোচিংয়ে আমার যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালের দিকে। ওল্ড ডিওএইচএস ক্রিকেট একাডেমিতে সহকারী কোচের প্রয়োজন ছিল। তখন সোহেল ভাই আমাকে ডাকেন। নিয়াজ ভাইও বলেছিলেন, ‘ফিল্ডিংয়ে তোমাদের কাজ করা দরকার।’ তখন প্রধান কোচ বাবুল ভাই (মিজানুর রহমান বাবুল), ম্যানেজার সাইফুল ভাইয়ের কাছে পাঠান। দলটির পরামর্শক ছিলেন সুজন ভাই (খালেদ মাহমুদ সুজন)। তখন বাংলাদেশে ফিল্ডিং নিয়ে সেভাবে চিন্তাভাবনা ছিল না। সোহেল ভাই ও নিয়াজ ভাই আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন এবং ভালো করার জন্য উৎসাহ দিয়েছেন। তখন তাদের সঙ্গেই কাজ শুরু করি। তারা আমাকে অনেক উৎসাহ দিতেন। পরবর্তীতে প্রাইম ব্যাংকে সালাউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করি। ফিল্ডিং ট্রেনার হিসেবে আমার পথচলার পেছনে সোহেল ভাই, সালাউদ্দিন ভাই ও ফাহিম ভাই-এই তিনজন মানুষকে আমি বিশেষভাবে কৃতিত্ব দেব। তারা আমাকে এই প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন, প্রস্তাব দিয়েছেন এবং সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন। ওল্ড ডিওএইচএস ও প্রাইম ব্যাংকে যখন অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ শুরু করি, তখন খেলোয়াড়রা আমার সঙ্গে কাজ করে খুব উপভোগ করত। খেলোয়াড়দের সেই আগ্রহ ও আনন্দ দেখে আমার মনে হয়েছিল, ‘আমি পারব।’ এরপর একে একে ‘এ’ দল ও এইচপিতে কাজ করার সুযোগ পাই। এইচপিতে আমার একজন অস্ট্রেলিয়ান কোচ মেন্টর হিসেবে ছিলেন। জুনিয়রদের সঙ্গে কাজ করার সময় তিনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। বিসিবির অধীনে ফিল্ডিং পজিশন ও অন্যান্য বিষয়ে ডমিনিক নামের একজন অস্ট্রেলিয়ান কোচও আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন এবং উৎসাহ দিয়েছেন। আসলে আমি যখন কোচিং শুরু করি, তখন থেকেই ফিল্ডিংয়ের প্রতি আমার আলাদা একটা ভালো লাগা ছিল। আমি বিভিন্ন লেভেলে কাজ করেছি এবং ধীরে ধীরে ফিল্ডিং কোচ হিসেবে নিজেকে তৈরি করেছি। আমি মনে করি ফিল্ডিং এমন একটা জায়গা, যেখানে অনেক কাজ করার সুযোগ আছে। প্রশ্ন: একজন ফিল্ডিং কোচের জীবন কেমন? টিমে ব্যাটিং কোচ বা হেড কোচ থাকে, তাদের তুলনায় ফিল্ডিং কোচের লাইফ কেমন?আশিকুজ্জামান: একজন ফিল্ডিং কোচ কিন্তু অনেক স্পোর্টি ও ব্যস্ত একজন ক্রিকেট পারসন। একজন খেলোয়াড়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতি, ফিজিক্যাল ও মেন্টাল-দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। আমি যদি বলি, আমার ক্রিকেট পছন্দ, তাহলে প্রশ্ন আসবে-আমি কেন ফিল্ডিং কোচ হলাম? এটা যদি আমি ফিল্ডারদের বোঝাতে পারি-আমি কেন ফিল্ডিং করব, কেন রান বাঁচাব, কেন উইকেট নেওয়ার সুযোগ তৈরি করব। একজন খেলোয়াড় যখন বুঝতে পারে, ‘আমি কেন এটা করছি? জীবনে আমি কেন এসেছি? আমার দায়িত্বটা কী?’ তখনই তার ভেতর থেকে একজন ফিল্ডার হিসেবে দায়িত্ববোধ ও কাজ করার শক্তি আসে। সে বুঝতে পারে, এটা আমার কাজ এবং আমাকে আমার কাজটা করতে হবে। মূলত ফিল্ডিং কোচের কাজই হলো ফিল্ডারদের এই বিষয়গুলো বোঝানো। কারণ খেলাটা একটা মেন্টাল গেম। মানসিকতা ঠিক থাকলে সেটা আমার বডি ল্যাঙ্গুয়েজেও প্রকাশ পায়, আমার মাইন্ডসেটেও প্রভাব ফেলে। প্রশ্ন: আপনি অস্ট্রেলিয়া সিরিজেই বলছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ডিংয়ে সেরা তিন দলের একটি। শীর্ষে যেতে হলে বাংলাদেশের আর কী কী উন্নতির জায়গা আছে?আশিকুজ্জামান: শীর্ষেই আমি আমাদের দেখতে চাই, একেবারে ওপরের দিকে। আমার মনে হয়, সারা দেশেই ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে একটা ভালো পাইপলাইন তৈরি হয়ে গেছে। আমাদের খেলোয়াড়রা এখন যত বেশি ম্যাচ খেলবে, ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হোক কিংবা আন্তর্জাতিক ম্যাচ-জয়ের অভিজ্ঞতা যত বেশি তৈরি হবে, খেলোয়াড়দের ভেতরের আত্মবিশ্বাস তৈরি করাও তত সহজ হবে। তখন আমাদের ম্যাচের মান ও পুরো সিস্টেমটাই আরও ওপরে উঠবে। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের পুরো দলকে এলিট অর্থাৎ সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। আর এ জন্য আমাদের বেশি বেশি ম্যাচ খেলতে হবে। হাই ইনটেনসিটির ম্যাচ খেলা আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন। শীর্ষে যেতে হলে ধারাবাহিকতা দরকার। এটা ঠিকভাবে ধরে রাখতে পারলে আমরা শীর্ষে যেতে পারব। খেলোয়াড়রা অনেক পরিশ্রম করছে। আমাদের আরও বেশি করে হাই-ইনটেনসিটি ড্রিল করতে হবে। প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ ঐতিহাসিক জয় পেল। যখন দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামল, তখনই জয় প্রায় নিশ্চিত ছিল। ওই সময় ড্রেসিংরুমের পরিবেশ কেমন ছিল?আশিকুজ্জামান: খেলার আগে মিটিংয়ে ক্যাপ্টেন শান্ত বলেছিল আমরা অস্ট্রেলিয়াকে হারাব এবং আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। প্র্যাকটিস ম্যাচে হারার পরেও প্লেয়াররা প্রচুর পরিশ্রম করেছে। জয়ের মুহূর্ত তৈরি হওয়ার পর সবার চোখে আনন্দ ও শক্তি দেখা যাচ্ছিল। এক নম্বর টিমকে আমাদের দেশে হারিয়েছি, যা দারুণ বিষয়। ড্রেসিংরুমে সবাই খুব খুশি ছিল। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে আমরা সবাই শুকরানা নামাজ পড়েছি। দিনটা খুব ভালো লেগেছে। প্রশ্ন: জয়ের পরে মাঠে থাকা মুমিনুল ও সাদমান খুব বেশি উদযাপন করেনি। মনে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়াকে হারানো খুবই নরমাল বিষয়। এটা কি কোনো প্ল্যান ছিল?আশিকুজ্জামান: না, কোনো প্ল্যান ছিল না। মুমিনুল ও সাদমান সবসময়ই অনেক শান্ত থাকে, তাই হয়তো ওইভাবে সেলিব্রেশন করেনি। এসকেডি/এমএমআর
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>