বিজ্ঞাপন
বিয়ে কেবল দুটি মানুষের মিলন নয়, এটি দুটি পরিবার, ভিন্ন জীবনধারা, মূল্যবোধ ও মানসিকতার সমন্বয়। তাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু পাত্র-পাত্রীর পছন্দ বা পারিবারিক সামঞ্জস্যই নয়, বয়সের পার্থক্য নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। প্রচলিত সামাজিক ধারণায় বয়সের ব্যবধান নিয়ে নানা মত রয়েছে।
বিয়ের আলোচনা শুরু হলেই যে প্রশ্নটি সবার আগে উঠে আসে, তা হলো-পাত্র ও পাত্রীর বয়সের পার্থক্য কতটা হওয়া উচিত? সমাজে বহুল প্রচলিত কিছু ধারণা থাকলেও আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিষয়টিকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে।
সমবয়সী সম্পর্ক, গভীর বন্ধুত্ব ও সমসাময়িক দৃষ্টিভঙ্গি
বর্তমানে সমবয়সী বা খুব কম বয়সের ব্যবধানে বিয়ের প্রবণতা বাড়ছে। এই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো গাঢ় বন্ধুত্ব। দুজনেই একই সময়ের সন্তান হওয়ায় জীবনের টানাপোড়েন, পছন্দ-অপছন্দ কিংবা দৃষ্টিভঙ্গি প্রায় একই রকম হয়। ফলে খুব সহজে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। তবে বয়স ও অভিজ্ঞতা সমান হওয়ায় অনেক সময় অহংবোধ, সংঘাত বা একসঙ্গে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
প্রচলিত হিসেব ও ৩-৫ বছরের ব্যবধান
আমাদের সমাজে সাধারণত বর কনের চেয়ে ৩ থেকে ৫ বছর বড় হওয়াকে আদর্শ ধরা হয়। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো মানসিক পরিপক্কতা। সাধারণত একই বয়সে পৌঁছালেও নারী ও পুরুষের মানসিক পরিপক্কতা ও অভিজ্ঞতার বিকাশে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। বয়সের এই সামান্য ব্যবধান সম্পর্কে এক ধরনের নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্য তৈরি করে।
ব্যবধান যখন কিছুটা বেশি
বয়সের ব্যবধান ৭-১০ বছর বা তার বেশি হলে সম্পর্কের রূপরেখা কিছুটা বদলে যায়। বয়সে বড় সঙ্গী সাধারণত জীবন ও ক্যারিয়ারে স্থিতিশীল থাকেন, যা অপর সঙ্গীকে এক ধরনের অর্থনৈতিক ও মানসিক সুরক্ষা দেয়। তবে বয়সের বেশি পার্থক্যে \'জেনারেশন গ্যাপ\' বা চিন্তাভাবনার পার্থক্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বয়স বৃদ্ধির সাসঙ্গে সঙ্গে জীবনের অগ্রাধিকার ও শারীরিক শক্তির পার্থক্যের কারণে সমঝোতার প্রয়োজন বেশি হয়।
আরও পড়ুন
সঙ্গীকে প্রতিদিন ১০ মিনিট সময় দিন, ব্যস্ততার মাঝেও সম্পর্ক থাকবে ঠিক
সুখী দাম্পত্যের আসল ভিত্তি
দাম্পত্যের স্থায়িত্ব বা আনন্দের পেছনে বয়সের পার্থক্যের ভূমিকা গৌণ। আসল ভিত্তি গড়ে ওঠে কয়েকটি বিশেষ পর্যায়ে এই যেমন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মানসিক পরিপক্কতা, উন্মুক্ত যোগাযোগ, একই জীবন লক্ষ্য থাকা উচিত।
আরও পড়ুন
অফিসে রসিকতার আড়ালে হয়রানি, বুঝবেন কীভাবে?
এছাড়া যেকোনো সমস্যা বা ভুল বোঝাবুঝি হলে খোলাখুলি কথা বলার অভ্যাস থাকতে হবে, বয়স যাই হোক না কেন, কঠিন পরিস্থিতিতে আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা রাখা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জীবনের মৌলিক নীতিতে মিল থাকা দাম্পত্য জীবনে বিশেষ দরকার।
দিনশেষে বয়সের সংখ্যার হিসেব কেবল কাগজে-কলমেই থেকে যায়। মূল বিষয় হলো, দুটি মানুষ পরস্পরের হাত ধরে জীবনের দীর্ঘ পথ কতটা আস্থার সঙ্গে হাঁটতে প্রস্তুত।
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন