রেকর্ড তৈরিই হয় ভাঙার জন্য—খেলাধুলায় বহুল প্রচলিত এই আপ্তবাক্যে বিশ্বাস করার মানুষের অভাব নেই। কিন্তু জার্মান ফুটবলের ইতিহাস অন্য গল্প বলে। গার্ড মুলারের ৩৬৫ গোল কিংবা এক মৌসুমে ৪০ গোলের রূপকথা যখন দশকের পর দশক ধরে অলঙ্ঘনীয় দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, তখনো মানুষ ভাবেনি সেই অচলায়তন কখনো ভাঙবে। কিন্তু রবার্ট লেভানডফস্কি এসে সেই অসম্ভবের সমীকরণ বদলে দিয়েছিলেন। ২০২০-২১ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ গোলমেশিন যখন বুন্দেসলিগায় ৪১টি গোলের ইতিহাস লিখলেন, জার্মান ফুটবল সাক্ষী হয়েছিল এক নতুন ইতিহাসের।
সেই ইতিহাসের হাতছানি নিয়েই বায়ার্নে পা রেখেছিলেন হ্যারি কেইন। টটেনহামের ট্রফি-খরা পেছনে ফেলে বাভারিয়ার সবুজ ঘাসে একের পর এক গোল করে আর শিরোপা জিতে যাচ্ছেন ইংলিশ এই স্ট্রাইকার।
এরই মধ্যে বায়ার্নের জার্সিতে ১৪৯ ম্যাচে ১৪৬ গোল হয়ে গেছে তাঁর। টানা তিন মৌসুম জিতেছেন গোল্ডেন বুট। বুন্দেসলিগায় ১০০ গোলের মাইলফলকের মুখে (আপাতত ৯৫ ম্যাচে ৯৮ গোল) দাঁড়িয়ে থাকা ৩৩ বছরের কেইন যেন গোল করার এক অলৌকিক যন্ত্র। দুই মৌসুমে করেছেন ৩৬টি করে গোল। এ যেন কাছাকাছি গিয়েও শেষ ধাপে থেমে যাওয়া। সাবেক জার্মান মিডফিল্ডার ডিটমার হামান তাই বলছেন, লেভানডফস্কির সেই এক মৌসুমে ৪১ গোলের রেকর্ড ভাঙাটা কেইনের জন্য ‘মিশন ইম্পসিবল’ হতে পারে।

হামান মনে করেন, কেইনের সামর্থ্য নিয়ে কোনো সংশয় না থাকলেও আধুনিক ফুটবলের সূচি এবং পরিস্থিতির বাস্তবতা এই রেকর্ড ভাঙার পথে সবচেয়ে বড় বাধা। ফুটবল ওয়েবসাইট গোল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামান বলেছেন, ‘৪০-৫০ বছর ধরে ওই রেকর্ড টিকে ছিল। সবাই বলত এটা ভাঙা অসম্ভব। কিন্তু লেভানডফস্কি গিয়ার বদলে মুলারকে এক গোলে টপকে গেলেন। কেইন টানা দু-তিনটি চমৎকার মৌসুমে অনেক গোল করেও সেই রেকর্ডের চার-পাঁচ গোল দূরে আটকে গেছেন।’
কেন লেভানডফস্কির রেকর্ড ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যেতে পারে, তার এক সহজ হিসাব কষেছেন হামান। তাঁর মতে, লিগে এত বড় মাইলফলক ছুঁতে হলে অন্তত ৩০ থেকে ৩২টি ম্যাচের পুরো সময় খেলতে হয়। কিন্তু ইউরোপের রাজত্ব দখলের লড়াই যেখানে বায়ার্নের প্রধান লক্ষ্য, সেখানে কেইনকে সব ম্যাচে খেলানোর ঝুঁকি বায়ার্ন নেবে না। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল বা সেমিফাইনালের কড়া নাড়ার মাঝে লিগের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেইনকে বিশ্রাম দেওয়াই স্বাভাবিক।
হামান তাই বলছেন, ‘যদি বায়ার্ন চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে অনেক দূর যায়, তবে নিশ্চিতভাবেই লিগের অন্তত দু-তিনটি ম্যাচে সে খেলবে না বা বদলি হিসেবে নামবে। তবে তারা যদি গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিত, যা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তবে হয়তো কেইনের সম্ভাবনা থাকত। তবে বাস্তবতা হলো কেইনের এই বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগের বাড়তি চাপের মধ্যে বায়ার্ন তাঁকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেবে না।’ হামানের তাই স্পষ্ট কথা, ‘সে পারবে কি না? অবশ্যই তার সেই সামর্থ্য আছে। কিন্তু আমি মনে করি, সে পারবে না।’
তবে এক মৌসুমে ৪১ গোলের রেকর্ড না হলেও অন্য এক জায়গায় লেভানডফস্কিকে স্পর্শ করার বড় সুযোগ রয়েছে কেইনের সামনে। বায়ার্নের সঙ্গে বর্তমান চুক্তির শেষ বছরে দাঁড়িয়ে থাকা এই ইংলিশ স্ট্রাইকার নতুন চুক্তিতে সই করতে যাচ্ছেন বলেই খবর। যদি তিনি আগামী দু-তিন বছর বায়ার্নে থাকেন এবং ফিট থাকেন, তবে লেভানডফস্কির টানা পাঁচবার গোল্ডেন বুট জেতার কীর্তিতে ভাগ বসানো কেইনের জন্য স্রেফ সময়ের ব্যাপার।

হামানও বললেন, ‘সে যদি ফিট থাকে, তাহলে প্রতি মৌসুমেই ২০ থেকে ২৫ গোল ধরেই শুরু করে। এরপর যেটা করবে, সেটা বাড়তি। আমি এমন কোনো পরিস্থিতি দেখি না, যেখানে সে ২০ গোল করবে না। আর বেশির ভাগ সময়েই এই সংখ্যাই গোল্ডেন বুট জিততে যথেষ্ট।’
তবে সামনে আরও বড় লক্ষ্যও আছে। লেভানডফস্কি বায়ার্নের হয়ে করেছেন ৩৪৪ গোল। রেকর্ড এখনো গার্ড মুলারের সেই ৩৬৫ গোল। সেই উচ্চতায় যেতে হলে কেইনকে আরও বেশ কয়েক বছর মিউনিখে থাকতে হবে। সময় হয়তো বলবে, কেইন সেই লক্ষ্যের পেছনে ছোটেন কি না।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>