বিজ্ঞাপন
সামান্য বৃষ্টিতেই অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বৃষ্টির পর সড়কে তৈরি হয়েছে জলজট। এই জলজট থেকে তীব্র যানজট আর তার সঙ্গে যুক্ত হওয়া ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
এসময় ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, আসাদগেট, কলাবাগান, লালবাগ, রমনা ও তেজগাঁওসহ রাজধানীর অনেক এলাকায় যানবাহনের গতি থমকে যায়।
দুপুরের বৃষ্টিতে ধানমন্ডি, গ্রিনরোড, নীলক্ষেত ও ঢাকা কলেজের সামনের রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পানির গভীরতার কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
ইঞ্জিনে পানি ঢুকে গাড়ি বন্ধ হওয়ার ভয়ে চালকদের জলজটে সজোরে গাড়ি চালিয়ে যেতে দেখা যায়। আবার কোথাও কোথাও পানির তীব্রতার কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, বাস ও মোটরসাইকেলগুলো বাম্পার-টু-বাম্পার যানজটে থমকে দাঁড়িয়ে থাকে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে জলজটের কারণে সড়কে গণপরিবহন বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট গাড়ি, মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা অত্যন্ত ধীরগতিতে চলতে দেখা যায়।
মঙ্গলবার দুপুরে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন জানান, তার গাড়িচালককে ব্যবসায়িক কাজে আসাদগেটে পাঠান। স্বাভাবিকভাবে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে ফেরার কথা থাকলেও গাড়িচালক জানান কলাবাগানে যানজটে আটকে আছেন। পরে কলাবাগান থেকে ধানমন্ডি আসার ১৫ মিনিটের পথ অতিক্রম করতে তার সময় লাগে ৪৫ মিনিট।
আরও পড়ুন
উল্টোপথে মন্ত্রী মিল্লাতের গাড়ি, দুই মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা
সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়। অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে হাঁটু সমান পানিতে নেমে পথ চলতে দেখা যায়। আবার অনেকে নীলক্ষেত থেকে নিউমার্কেট এক নম্বর গেট এলাকায় জলজট এড়াতে রাস্তার আইল্যান্ড বা ডিভাইডারে উঠে বিপজ্জনকভাবে কসরত করে রাস্তা পার হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থী সালমা খাতুন বলেন, সামান্য একটু বেশি বৃষ্টি হলেই নিউমার্কেটের এ রাস্তায় পানি জমা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতা হলেও সমস্যা দূর হচ্ছে না।
মঙ্গলবার নিউমার্কেট বন্ধ থাকলেও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কেনা-বেচা চলে। কিন্তু রাস্তায় হাঁটুপানি ও বৃষ্টির পর ভ্যাপসা গরমের কারণে ক্রেতা একেবারেই কমে যায় বলে জানান ঢাকা কলেজের বিপরীত দিকের ফুটপাত ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী দুপুর ১২টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৬৯ শতাংশ। সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মেঘলা আকাশ ,দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহ আর বৃষ্টির পর বাতাসের উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষকে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি এবং কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের কথা বলা হয়েছে। তবে নিষ্কাশন ব্যবস্থার টেকসই সমাধান না থাকায় এই সামান্য বৃষ্টিই ঢাকা শহরকে জলজট ও যানজটের পুরোনো দুর্ভোগে ফেলে দিয়েছে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
এমইউ/এমআইএইচএস/
বিজ্ঞাপন