বিজ্ঞাপন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর একটি ব্যক্তিগত অনলাইন গ্রুপে নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও হয়রানিমূলক আলোচনার অভিযোগ উঠেছে। এ-সংক্রান্ত কয়েকটি কথোপকথনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এক শিক্ষকও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তারা ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের নকিব মুনসিফ, ওয়ার্ল্ড রিলিজিয়ন অ্যান্ড কালচার বিভাগের আশরাফুল ইসলাম শিমুল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের আজরাফ রাফিদ এবং ফলিত রসায়ন বিভাগের জারিফ হাসান।
গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদের একটি পোস্টে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ও অন্যান্য নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ব্যক্তিগত গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নারীদের ছবি সংগ্রহ করে ওই গ্রুপে শেয়ার করা এবং তাদের নাম জড়িয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগও করেন তিনি।
অভিযোগের সঙ্গে বেশ কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশট যুক্ত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ওই শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে, একই ঘটনায় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভুঁইয়া (মোনামী) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ক্লাসের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের পাশাপাশি তাকেও ওই ধরনের আলোচনার মধ্যে রেখেছেন।
মোনামীর দাবি, বিষয়টি জানার পর তিনি অভিযুক্তদের পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে অভিযোগ করার উদ্যোগ নেন। তবে এরপরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ট্যাগ করে বিভিন্ন মন্তব্য ও টিপ্পনীর মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত নকিব মুনসিফ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষমা চান। তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, পড়াশোনা, ক্যারিয়ার ও পার্টটাইম চাকরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার জন্য তারা ‘ব্যর্থ ঢাবিয়ান’ নামে একটি অনলাইন গ্রুপ তৈরি করেছিলেন।
নকিব দাবি করেন, সেখানে বিভিন্ন আলোচনার একপর্যায়ে নারী-সংক্রান্ত প্রসঙ্গ উঠে আসে এবং নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, অসংবেদনশীল ও আপত্তিকর ভাষায় আলোচনা করা হয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট নারী শিক্ষার্থী, সহপাঠী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।
এদিকে, অভিযোগ প্রকাশের পর নকিব মুনসিফের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কয়েকজন নেতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে উল্লেখ করা হলেও, তার সাংগঠনিক পরিচয়ের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ‘স্লাট-শেমিং’-এর অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামনে এসেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অশালীন মন্তব্যের কথাও বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের পর নারী শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেও প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংগঠনটির শাখা সেক্রেটারি কাজী আশিকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অভিযোগপত্র জমা দেয়।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক বাবা-মায়ের মতো হওয়া উচিত। সেখানে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরও জানান, সহকারী অধ্যাপক মোনামী এ ঘটনায় একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে এক থেকে দুই দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্তের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠনের পর অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এসএনআর
বিজ্ঞাপন