বিজ্ঞাপন
ধারাবাহিকটির একটি পর্বে অভিনেতা মারজুক রাসেলের মুখে ‘যৌন কর্মীর ছেলে’ সংলাপটি তুমুল সমালোচনার জন্ম দেয়। নাটকের ওই সংলাপের অংশটুকুর ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে! যার ফলে অনেক সমালোচনা শুনতে হয়েছে পরিচালক ও তার টিমকেও! নাটকের আরেকটি সিজনের কিছু পর্ব এতোটাই বিতর্কিত ছিল যে বাধ্য হয়ে সেই পর্বগুলো ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিলো।
বলা হচ্ছে সময়ের তুমুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’র কথা। এ নাটকের নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি। সহকারী পরিচালক হিসেবে যাত্রা করে আজ তিনি ছোট পর্দার সবচেয়ে হিট ‘কন্টেন্ট মেকার’। তার নির্মিত নাটক-টেলিছিব বা ওটিটি সিরিজগুলো দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে। সমালোচনা-বিতর্ক মাথায় নিয়েই হিটের বাজারে কাজল আরেফিন অমি মানেই প্রযোজকের লগ্নির জন্য শিউর শট। আজ এই নির্মাতার জন্মদিন।
বাংলা নাটকের দর্শকদের কাছে ‘কাজল আরেফিন অমি’ নামটি এখন আলাদা একটি ব্র্যান্ড। তার নির্মাণে হাসি, আড্ডা, বন্ধুত্ব, প্রেম কিংবা নাগরিক জীবনের গল্প; সবকিছুই যেন দর্শকের খুব পরিচিত। আর সেই পরিচিত গল্প বলার ধরনই তাকে এনে দিয়েছে জনপ্রিয়তা। সমালোচনা ও বিতর্কও অবশ্য তার পথের সঙ্গী হয়েছে। তবু নতুন কোনো কাজ নিয়ে অমি হাজির হলে দর্শকের আগ্রহ তৈরি হয়, আর অনেক ক্ষেত্রেই সেই কাজ পায় বিপুল দর্শকপ্রিয়তা।
সহকারী থেকে নির্মাতানির্মাতা হওয়ার স্বপ্নটা অমির মধ্যে তৈরি হয়েছিল অনেক আগে। এসএসসি শেষ করার পর নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট দেখতেন তিনি। সেখান থেকেই পরিচালনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর চেষ্টা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন। এক সাক্ষাৎকারে অমি বলেছিলেন, সিনেমা নির্মাণ করতে পারলে তার পরিচালকের স্বপ্নটি পুরোপুরি পূরণ হবে।
কাজল আরেফিন অমির সঙ্গে কাজ করে পরবর্তী সময়ে পরিচিতি পাওয়া অনেক শিল্পী ও নির্মাতার ক্যারিয়ারেও তার প্রভাব রয়েছে। তার সহকারী ও সহযোগী হিসেবে কাজ করা শিমুল শর্মা যেমন পরবর্তী সময়ে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ বদলে দেয় হিসাবঅমির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বাঁক আসে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ দিয়ে। ২০১৮ সালে প্রচার শুরু হওয়া এই ধারাবাহিকের কাবিলা, নেহাল, শুভ, আরেফিন, হাবু, পাশাসহ একাধিক চরিত্র দ্রুত দর্শকের প্রিয় হয়ে ওঠে। শুধু বিনোদন নয়, তরুণদের জীবনযাপন, বন্ধুত্ব, সম্পর্ক, টানাপোড়েন ও সামাজিক বাস্তবতার নানা দিকও উঠে এসেছে সিরিজটিতে।
অমির ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রথম লক্ষ্য দর্শককে বিনোদিত করা; সেই বিনোদনের মধ্যেই সমাজ ও আশপাশের মানুষের জীবনবোধের গল্প তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও কম দেখেনি। বিশেষ করে কয়েকটি পর্বের সংলাপ ও বিষয়বস্তু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে সমালোচনাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেন অমি। তার বক্তব্য, কাজ করলে সমালোচনা থাকবেই এবং ইতিবাচক সমালোচনা থেকে শেখার চেষ্টা করেন তিনি।
২০২২ সালে চতুর্থ সিজনের সমাপ্তির পর অমি জানিয়েছিলেন, আপাতত আরেকটি সিজনের পরিকল্পনা নেই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত বদলায়। বর্তমানে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট সিজন ৫’ নিয়েও দর্শকের আগ্রহ অব্যাহত।
নাটক থেকে ওয়েবে অমি‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর সাফল্যের পর অমির কাজের পরিধি আরও বড় হয়। ২০২৩ সালে ‘হোটেল রিল্যাক্স’ দিয়ে ওয়েব সিরিজে অভিষেক করেন তিনি। প্রচলিত ক্রাইম-থ্রিলারের বাইরে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার লক্ষ্যেই সিরিজটি নির্মাণের কথা জানিয়েছিলেন অমি।
এরপর আসে ‘অসময়’। এখানে অমি তার পরিচিত কমেডি ঘরানার বাইরে গিয়ে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের গল্প এবং সামাজিক বাস্তবতার অন্য একটি দিক তুলে ধরেন। ওয়েব ফিল্মটি প্রশংসাও কুড়ায়।
এ ছাড়া তার উল্লেখযোগ্য ওয়েব কনটেন্টের মধ্যে রয়েছে ‘ঠাণ্ডা’, ‘দুঃখিত’ ও ‘হাউ সুইট’। ‘দুঃখিত’ ও ‘অসময়’-এর পাশাপাশি ‘হাউ সুইট’-এও গল্প ও নির্মাণে নিজের পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
‘হাউ সুইট’ থেকে নতুন অভিজ্ঞতাওয়েব কনটেন্টে একের পর এক কাজের পর অমি নিজেকে আরও বড় পরিসরে পরীক্ষা করার পথে এগিয়েছেন। তার কাজের তালিকায় কমেডি, পারিবারিক গল্প, রোমান্টিক গল্প থেকে শুরু করে সামাজিক বাস্তবতাভিত্তিক কনটেন্ট- বৈচিত্র্যও দেখা গেছে।
তার নিজের ভাষায়, তিনি শুধু এক ধরনের গল্পে কাজ করতে চান না। ফ্যামিলি ড্রামা, রোমান্টিক ও কমেডি- বিভিন্ন ধরনের গল্প বলার আগ্রহ রয়েছে তার।
বিতর্কও ছিল সঙ্গীজনপ্রিয়তার সঙ্গে অমির নির্মাণ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা হয়েছে। ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর কিছু সংলাপ ও দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক যেমন হয়েছে, তেমনি নির্মাতার দল, শিল্পী নির্বাচন ও বিভিন্ন কাজ ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালে একটি কোকাকোলা বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্কের সময়ও অমির নাম সামাজিক আলোচনায় আসে, যদিও ওই বিজ্ঞাপনটির পরিচালক তিনি ছিলেন না। এ নিয়ে সে সময় বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছিল।
তবে অমির নিজের অবস্থান বরাবরই, ‘সমালোচনা কাজের স্বাভাবিক অংশ’। তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো দর্শকের প্রতিক্রিয়া থেকে শেখা এবং পরের কাজটিকে আরও ভালো করার চেষ্টা করা।
এবার লক্ষ্য বড় পর্দানাটক ও ওয়েবের পর অমির পরবর্তী বড় স্বপ্ন সিনেমা। বড় পর্দায় তার অভিষেক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। ২০২৪ সালেও তার সিনেমা নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এরও আগে একাধিক সাক্ষাৎকারে অমি জানিয়েছিলেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলে সিনেমায় যেতে চান।তার কাছে বিষয়টি শুধু সিনেমা বানানো নয়; দর্শক যেন হলে গিয়ে হতাশ না হন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি নিজের সিনেমা নিয়ে তার আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য ছিল, ‘আমার সিনেমা দেখতে গিয়ে ঘুম আসবে না।’
তিনি এও বলেছেন, সিনেমা বানাতে পারলে তবেই পরিচালক হিসেবে তার স্বপ্ন পূর্ণ হবে।
অমির সেই স্বপ্নযাত্রায় শুভেচ্ছা.....
এলআইএ
বিজ্ঞাপন