জাতীয়

‘ভর্তি দরকার, সিট পাচ্ছি না, এখন কথা বলার সময় নেই’

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দুপুর ১২টা। প্রখর রোদ। নিচে ফ্লোরের আঁচ। সঙ্গে মানুষের ভিড়ের ভ্যাপসা গরম। রাজধানীর শিশু হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের চাপে এক বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা। সিরিয়ালে একে একে রোগী ডাকা হচ্ছে। চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়াদের অধিকাংশেরই মুখ ভার। এরই মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি ছোট্ট বাচ্চা কোলে নিয়ে দৌড়াচ্ছেন। পেছনে এক নারী দৌড়াচ্ছেন স্যালাইন উঁচু করে ধরে। কোথায় যাচ্ছেন, এভাবে ছুটছেন কেন? এমন প্রশ্নে উত্তর- হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে সিট পাচ্ছি না। বাসায় যাওয়া ছাড়া তো উপায় নেই। আরও পড়ুন ভর্তি হতে মাসের পর মাস অপেক্ষা, ভোগান্তিতে রোগীরা প্রখর রোদে বাচ্চাকে সুরক্ষা দিতে তাদের দৌড়ানো ছাড়া উপায় কোথায়। রোগীর নাম মিনহাজ। বয়স সাত মাস। ডেঙ্গু আক্রান্ত। তার বাবা রিপন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের বাসা মহাখালী। সেখান থেকে মহাখালী কোভিড হাসপাতালে গেছি। তাদের ওখানে রাখে নাই। শিশুতে আসছি এখানে সিট নাই। ছোটভাইকে দিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠাইছি। ওখানেও সিট নাই। তাহলে আমাদের বাসায় যাওয়া ছাড়া উপায় কী?’ সিরিয়ালে বসে আছে অসংখ্য রোগী/ছবি: জাগো নিউজ এভাবে স্যালাইন অবস্থায় যে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডাক্তারই বলছে, স্যালাইন চলবে। বাচ্চার অবস্থা খারাপ। যে কোনো জায়গায় ভর্তি করান। ভর্তি থেকে চিকিৎসা দেওয়া লাগবে।’ উদ্বেগ-আতঙ্ক নিয়ে ছোটাছুটি করা এই শিশুর বাবার সঙ্গে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সড়কে রিকশায় ওঠা পর্যন্ত কথা হয়। কারণ তাদের এক মিনিট দাঁড়ানোর ফুরসত ছিল না। ফের হাসপাতালে ফিরতে ফিরতে আরও দুজন শিশুকে নিয়ে যেতে দেখে কথা বলতে গেলে, আনুমানিক ১১ মাস বয়সী আবু সাঈদের বাবা ক্ষোভ নিয়েই বললেন, ‘বাচ্চা ভর্তি করা দরকার, সিট পাচ্ছি না। এখন আপনার সঙ্গে কথা বলার সময় নেই।’ একই অবস্থা আরেকটি মেয়ে শিশুরও। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসেন তারা। ডাক্তার বলছে, ‘অবজারভেশনে থাকতে হবে। ভর্তি লাগবে। কিন্তু আমাদের সিট খালি নেই।’ আরও পড়ুন সরেজমিনে নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল / কেউ ফেরেন হাসিমুখে, কেউ কাঁদতে কাঁদতে কেন সিট খালি নেই? এমন প্রশ্নের জবাবে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আপনি তো একদিন এখানে দাঁড়িয়ে মানুষের ভোগান্তি দেখলেন। এটাই সহ্য হচ্ছে না। আমরা তো প্রতিদিন দেখি। আমরাও তো মানুষ। এজন্য আমাদের দায়ী না করে সরকারকে জিজ্ঞাসা করেন। ডেঙ্গু ও হামের রোগীর এত চাপ। ৭২০ বেডের বেশির ভাগ তাদের দখলে। অন্য সব রোগী জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। ২০ কোটি মানুষের একটি মাত্র শিশু হাসপাতাল কেন?’ হাসপাতালের ১০ সেপ্টেম্বরের তথ্য বলছে, ভর্তি আছে হামের রোগী ৯৮, ডেঙ্গু ২৭ জন ও ৩৪ জন নিউমোনিয়ার রোগী। শিশু হাসপাতাল/ছবি: জাগো নিউজ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এই হাসপাতালে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, পুরো হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। প্রশাসনিক ওয়ার্ড ছাড়া বেশিরভাগ স্থানে বারান্দায়ও মানুষে গিজ গিজ করছে। বিভিন্ন দেশে বিত্তবানরা দেশের গরিব মানুষের জন্য হাসপাতাল করে। আমাদের দেশেও বিত্তবানরা চাইলে এটা করতে পারেন। সরকারের একার পক্ষে এত রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন। আমাদের আরও অনেক হাসপাতাল প্রয়োজন। এখনই উদ্যোগ না নিলে স্বাস্থ্যসেবার এই ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়বে।-শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বিষয়টি খোদ শিশু হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলামকেও পীড়া দেয়। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আমাদের এখানে শিশুদের নিয়ে আসেন অভিভাবকরা। তারা বেড পায় না। ফিরে যেতে হয়। এটা খুব পীড়াদায়ক। এই রোগীর চাপ সামাল দিতে আমাদের তিনগুণ বেশি বেড প্রয়োজন।’ বর্তমানে ৭২০ বেড আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দুই হাজার বেড করার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। পাশাপাশি হাসপাতালের সামনে জরাজীর্ণ ভবনটির নিচতলা শিশু হাসপাতালের, ওপরের তলা ব্যবহার করে পঙ্গু হাসপাতাল। তাদের কিন্তু এখানে এটার দরকার নেই। এটা আমাদের ছেড়ে দিলে এই জায়গায় একটা ১০ তলা ভবন করে আমরা সেবা দিতে পারি।’ আরও পড়ুন নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভোগান্তির অপর নাম ‘সিট খালি নাই’ তিনি দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে বিত্তবানরা দেশের গরিব মানুষের জন্য হাসপাতাল করে। আমাদের দেশেও বিত্তবানরা চাইলে এটা করতে পারেন। সরকারের একার পক্ষে এত রোগীর চাপ সামাল দেওয়া কঠিন। আমাদের আরও অনেক হাসপাতাল প্রয়োজন। এখনই উদ্যোগ না নিলে স্বাস্থ্যসেবার এই ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়বে।’ বিগত দিনগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আসলেই দেশের স্বাস্থ্যসেবার অবস্থা নাজুক। হাম সামাল দিতে দিতে চলে এসেছে ডেঙ্গু। দুটো মিলিয়ে এখন ভয়ংকর বিপর্যয়ে মুখে স্বাস্থ্যখাত। কী সরকারি কী বেসরকারি কোথাও নেই সিট। বিভিন্ন হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে দৌড়ে হয়রান হচ্ছে অভিভাবক। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে তার কোলের শিশু। বৃহস্পতিবারের (১০ সেপ্টেম্বর) তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ শিশু মারা গেছে। ২৯ জন হাম নিয়ে হাসপাতালে এসেছে। এদিকে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৬ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪শ ৯২ জন। শিশু হাসপাতালের চিত্র অনুযায়ী সিট সংকটে আনুমানিক অন্তত তিনগুণ রোগী হাসপাতালের বাইরে তথা বাসা-বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসইউজে/এএসএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>