ব্রেকিং নিউজ
সিলেটে শিকল বেঁধে তরুণীকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল ওয়ানডে অভিষেকেই ১৫০ রান, বিশ্ব রেকর্ড ছুঁলেন হারমান ক্যাফেতে অসামাজিক কার্যকলাপ, ৪ তরুণ-তরুণীসহ আটক ৫ কথার আঘাতও আত্মহত্যার কারণ হতে পারে, দরকার সহনশীলতা ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে উন্নত তথ্য ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা টাইগারদের সামনে ঠাসা সূচি, পেসারদের নিয়েই যত দুশ্চিন্তা ডনের আচরণে সালমান শাহ হত্যায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিলছে : সিআইডি ট্রাম্পের পোস্টের জেরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করলেন আইসল্যান্ড ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ইবি ছাত্রশক্তির পদযাত্রা কি‌শোর গ্যাং ও মাদক নির্মূলে তা‌লিকা তৈ‌রির নি‌র্দেশ প্রতিমন্ত্রী টুকুর
জাতীয়

ভাদ্র মাসে দিনাজপুরে কমে যায় ফুল বেচাকেনা, কারণ যা জানা গেল

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ভাদ্র মাস, তবে বিয়ের লগ্ন নেই। রাজনৈতিক কর্মসূচিও আগের তুলনায় কমে গেছে। শুধু তাই নয়, শুভেচ্ছা হিসেবে ফুলের ব্যবহার কমিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা। রাত ৮টার মধ্যে সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আড্ডা নেই। এত ‌‘নেই নেই’ কারণে কমেছে ফুলের চাহিদা। সবমিলিয়ে দিনাজপুরে ফুলের ব্যবসায় ধস নেমেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, প্রতিকূল আবহাওয়া, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে সব ধরনের ফুলের দাম বেড়েছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনের বাইরে ফুল কিনতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। সবমিলিয়ে অলস সময় পার করছে ফুল ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুরে কয়েক মাসের ব্যবধানে কাঁচা ফুলের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। তিন মাস আগেও এক হাজার গাঁদা ফুলের ক্রয়মূল্য ছিল ৩০০-৫০০ টাকা। বর্তমানে একই পরিমাণ গাঁদা কিনতে হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকায়। অর্থাৎ ৭০০-৯০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে গাঁদা ফুলের। রজনীগন্ধার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। আগে প্রতি পিস রজনীগন্ধা কেনা যেত ৫-৬ টাকায়। বর্তমানে ১৫-১৭ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি পিস ফুলে দাম বেড়েছে ১০-১১ টাকা। দেশি গোলাপের দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। ছয় মাস আগে যেখানে ১০০ গোলাপের দাম ছিল ২৫০-৩০০ টাকা, বর্তমানে সেই গোলাপ কিনতে হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকায়। অর্থাৎ দাম বেড়েছে ৭৫০-৯০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদেশি ফুলের দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিদেশি গোলাপ প্রতি পিস ১৩০-১৪০ টাকায় কিনতে বিক্রি করতে হচ্ছে ২০০ টাকায়। ১২০ টাকার সূর্যমুখী বিক্রি করতে হচ্ছে ২০০ টাকা। এককেজি জিপসাম ফুল প্রায় তিন হাজার টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতাদের কিনতে হচ্ছে চার হাজার টাকা দরে। এছাড়া প্রতিপিস লাল পদ্ম ৫০ টাকা ও সাদা পদ্ম ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফুল কিনতে আসা রুবেল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আগে একটি দেশি গোলাপের দাম ছিল ৫-১০ টাকা। এখন একটি গোলাপ কিনতে হয় ৩০ টাকায়। বিভিন্ন দিবসে ৩০ টাকার গোলাপ ৫০ টাকাতেও কিনতে হয়। বাজারে ২০ টাকার নিচে কোনো গোলাপ নেই। রজনীগন্ধা প্রতি পিস কিনতে হচ্ছে ২৫ টাকায়।’ আরেক ক্রেতা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুদিন আগেও একটি ফুলের তোড়া ২৫০-৩০০ টাকায় কিনতে পারতাম। এখন হাজার টাকার নিচে ভালো মানের পছন্দের ফুলের ফুলের তোড়া পাওয়াই যায় না।’ একই কথা জানান রিপা মনি। তিনি বলেন, ‘আগে জারবেরা ফুলের দাম ছিল ২০-৩০ টাকার মধ্যে। এখন সেই জারবেরা ফুল কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকা পিস। তাই আগে যে পরিমাণ ফুল কিনতে পারতাম, এখন একই ফুল কিনতে অনেক বেশি টাকা লাগে। তাই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া এখন আর ফুল কেনা হয় না।’ সিয়াম নামের এক ক্রেতার ভাষ্য, ‘প্রিয়জনকে প্রায় ফুল উপহার দিতাম। ফুল উপহার দিতে ভালো লাগে। কিন্তু দাম অনেক বেড়ে গেছে। তাই আজকাল একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ফুল কেনা হয় না।’ বালুবাড়ী থেকে পূজার জন্য গাঁদা ফুল কিনতে এসেছেন মনি দাস। তিনি বলেন, ‘এখন বর্ষার সময় বাড়ির টবে বিভিন্ন ধরনের ফুল হয়েছে। সেই সঙ্গে ফুলের দাম বেড়ে যাওয়ায় টবের ফুল দিয়েই পূঁজা-অর্চনা চালিয়ে নিচ্ছি। ইচ্ছা থাকলেও দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো অনেক ফুল কেনার উপায় নেই।’ ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই ফুলের দাম বেড়েছে। কিন্তু কয়েক মাসের ব্যবধানে ৫-৬ গুণ বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক। সে কারণে বিক্রি কমে গেছে। আরও পড়ুন দামের চাপে ফুল থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন ক্রেতারা জেলা শহরে সবমিলিয়ে ১০টির মতো ফুলের দোকান রয়েছে। সরেজমিন দেখা গেছে, দোকানিরা অলস সময় পার করছেন। পুঁজি ভেঙে কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল, দোকান ভাড়া দিতে হচ্ছে। ফুল বিক্রি না হওয়ায় প্রায়ে প্রতিদিন ফুল পচে যাচ্ছে। এতে লোকসান গুনছেন তারা। শহরের গণেশতলার শুভ ফুল বিতানের মালিক শুভ রায়। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘ফুলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। আগে শহরে ১২-১৩ জন ফুল ব্যবসায়ী সক্রিয় ছিলেন। তবে ব্যবসা মন্দা যাওয়ায় ৩-৪ জন ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। এখন ১০ জনের মতো ব্যবসায়ী রয়েছেন।’ তখন দুপুর ২টা বাজে। তবে তখন পর্যন্ত এক টাকারও বেচাকেনা হয়নি বলে জানান এই ব্যবসায়ী। ব্যবসা মন্দা যাওয়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই জেলায় সনাতন ধর্মের মানুষের বসবাস অন্যান্য অনেক জেলার চেয়ে বেশি। ভাদ্র মাস, তবে সনাতন ধর্মের মধ্যে বিয়ের লগ্ন নেই। জেলায় ভাদ্র মাসে অনেকে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে চান না। পট পরিবর্তনের পর তেমন কোনো অনুষ্ঠান নেই। মন্ত্রী-এমপিরাও অনুষ্ঠানে ফুল বয়কট করছেন। আবার রাত ৮টার মধ্যে সব প্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে ছেলেমেয়ে, পরিবার-পরিজনের আড্ডা কমে যাওয়ায় ফুলের চাহিদা কমেছে।’ আরও পড়ুন কৃত্রিমে চাঙা / তাজা ফুলের বাজার মন্দা, পেশা বদলাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা মালঞ্চ ফুল দোকানের মালিক খুরশিদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘৩৩ বছর ধরে ফুলের ব্যবসা করছি। কখনো ফুলের দাম এত বাড়েনি, এত চাহিদাও কমেনি। আগে একটি ফুলের দোকানে প্রতিদিন ৪০-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ৫- ১০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতেও ফুলের ব্যবহার কমেছে। দোকানভাড়া, বিদ্যুৎ, শ্রমিকের মজুরি ও পরিবহন ব্যয়ে খরচ আগের চেয়ে বেড়েছে। ফলে বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। আবার খরচ কম হওয়ায় মানুষ বিয়েসহ সামাজিক রাজনৈতিক ও অফিসিয়াল অনুষ্ঠানে কৃত্রিম ফুল ব্যবহার করছেন।’ দিনাজপুর ফুলঘরের মালিক মো. রিয়াজ বলেন, ‘দিনাজপুরে এই মৌসুমে কোনো ফুল হয় না। সব ফুল ঢাকা ও যশোরের বাজার থেকে সংগ্রহ করতে হয়। পথেই অনেক ফুল নষ্ট হয়ে যায়। ফুল দ্রুত পচন শীল, বিক্রি না হলে পচে যায়।’ আরও পড়ুন গ্রামীণ পথের নীরব সৌন্দর্য ভাঁটফুল বর্তমানে ফুলের বাজার ক্রেতাশূন্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভাদ্র মাসে দিনাজপুরে বিয়ের রেওয়াজ না থাকায় বিয়ের গাড়ি সাজানোরও কাজ নেই। সবমিলিয়ে পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম। এই ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রতিটি জেলায় ফুল সংরক্ষণের জন্য সরকারিভাবে হিমাগার করার দাবি জানান তিনি। রঙ্গন ফুল দোকানের মালিক দুলাল বলেন, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারের দামে পড়ছে। বাড়তি দামে ফুল কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে গিয়ে ক্রেতা কমে গেছে। ব্যবসায়ীরাও লোকসানে পড়ছেন। এ বিষয়ে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, দিনাজপুরে ফুলের চাষ নেই বললেই চলে। শীতকালে কিছু গাঁদা ও গোলাপ উৎপাদন হয়, যা উল্লেখ করার মতো নয়। দিনাজপুরের ফুলের ব্যবসা পুরোটাই আমদানিনির্ভর। ঢাকা অথবা যশোর থেকে এনে ব্যবসায়ীরা ফুলের ব্যবসা করেন। তাই অন্যান্য জেলার তুলনায় দাম একটু বেশি হওয়াটাই স্বাভাবিক। এএমএইচএম/এসআর/জেআইএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>