ব্রেকিং নিউজ
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা, তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবে সরকার গ্যাস সংকট মোকাবিলায় কূপ খনন ও নতুন এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা মাদ্রাসা নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্টের অভিযোগে স্কুলশিক্ষক আটক  ‘আঙুর ফল টক’—সুনিধিকে নেহার খোঁচা ঢাবির ২১ শিক্ষার্থী পেলেন ট্রাস্ট ফান্ডের বৃত্তি ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ১৩৩ জন ৩৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার-নগদ টাকা চুরির অভিযোগে স্ত্রী ও স্ত্রীর প্রেমিক গ্রেপ্তার চাঁদাবাজি অপহরণের দায়ে কৃষক দল সভাপতি বহিষ্কার যে বর্জ্য ছিল রাজধানীর বোঝা, তা এখন শিক্ষা উপকরণ: সেলিম উদ্দিন সরকার উদ্যোগ নিলে ক্যানসার চিকিৎসা সহজলভ্য করা সম্ভব—রেজা সেলিম
জাতীয়

মাদক স্পটের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বে খুন হন ইমরান

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে ইমরান হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মূল হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, শুটার লিটন গ্রেফতার হওয়ার পর এবং খাকি বাবু জেলে যাওয়ার পর ওই জায়গা দখল করার জন্য তাদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। উপগ্রুপ ও গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। গ্রেফতাররা হলেন- রিয়াজুল ইসলাম ওরফে রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজ, কামরুল হাসান, মোহাম্মদ সাইফুল হোসেন, জামিল মিয়া ওরফে দোলন এবং মিঠু ওরফে ডোবার মিঠু। ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে ইমরান হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় মূল হোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি, ছয়টি ককটেল, তিনটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু ও একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আরও পড়ুন যাত্রাবাড়ীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবক নিহত মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে বাদল সরদার গলির শরীফের গ্যারেজে বসে থাকা ইমরান ও সাদ্দামকে লক্ষ্য করে তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা হেলমেট ও মাস্ক পরিহিত একদল দুর্বৃত্ত এলোপাতাড়ি গুলি করে। এসময় ধারালো অস্ত্র দিয়েও তাদের ওপর হামলা করা হয়। হামলায় ঘটনাস্থলেই ইমরান নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত ইমরানের স্ত্রী বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় গত ৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পার গেণ্ডারিয়া এলাকা থেকে মামলার মূল হোতা রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচ রাউন্ড তাজা গুলি এবং একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পিস্তলটি ঘটনাস্থলে ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বিছানার নিচ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। রিয়াজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে ডেমরা থানাধীন পাঠানগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কামরুল হাসান ও মোহাম্মদ সাইফুল হোসেন নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ছয়টি ককটেল, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি এবং দুটি সুইচ চাকু উদ্ধার করা হয়। পরে ৮ সেপ্টেম্বর একই ঘটনায় জড়িত মিঠু ওরফে ডোবার মিঠুকে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ ৭০টি ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। এছাড়া ৯ সেপ্টেম্বর অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোহাম্মদ জামিল মিয়া দোলনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার অস্ত্রের ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে এবং ককটেল ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের ঘটনায় ডেমরা থানায় পৃথক মামলা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মিঠু ওরফে ডোবার মিঠুর বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা হয়েছে। অর্থাৎ এই ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে জানিয়ে সামী বলেন, রিয়াজুল ইসলাম ওরফে কালিয়া রিয়াজের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। মিঠু ওরফে ডোবার মিঠুর বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতি সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত পাঁচজন ছাড়াও অন্যদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, গ্রুপটি মূলত বিগত আওয়ামী লীগ আমলে শুটার লিটন নামে একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী ছিল তার আন্ডারে কাজ করতেন। তিনি বর্তমানে জেলহাজতে আছেন। তার নেতৃত্বে ওই মাদকের স্পটগুলো চলত। তাকে গ্রেফতার করার পর তার সহযোগী খাকি বাবুকেও আমরা গ্রেফতার করি। গুলিতে নিহত ইমরান খাকি বাবুর আপন ভাই। শুটার লিটন গ্রেফতার হওয়ার পর এবং খাকি বাবু জেলে যাওয়ার পর ওই জায়গা দখল করার জন্য তাদের মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। উপগ্রুপ ও গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। কেআর/এমআইএইচএস
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>