ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশ থেকে ‘চুরি’ হওয়া লেমুর এখন আম্বানির চিড়িয়াখানায় বাঁধনের ওপর হামলা প্রমাণ করে তাদের খুনে মানসিকতা বিন্দুমাত্র বদলায়নি অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ, বিচারের দাবি এনসিপির ঢাকাতেও কিছুটা লোডশেডিং মেনে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আসিফ-পাটোয়ারীর ভোটার বদল—আদীব বললেন, ‘রাজনীতি সমীকরণের খেলা’ পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজায় আমিষ বন্ধের ডাক বাগেশ্বর বাবার, প্রতিক্রিয়া রাজ্যজুড়ে স্ত্রীকে কখনো নিজের মেয়ে, আবার কখনো ভাতিজি বলে বিয়ে দিতেন স্বামী যে ৪ কারণে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা, বললেন দীপ্তি চৌধুরী স্ত্রীকে কখনো নিজের মেয়ে, আবার কখনো ভাতিজি বলে বিয়ে দিতেন বৃদ্ধ ‘তারা আমার গায়েও হাত তুলেছে, কানে বাড়ি মেরেছে’
জাতীয়

মানুষ ছাড়াও কি প্রকৃতিতে শিল্পী আছে

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

অনলাইন বিশ্বকোষ ব্রিটানিকার মতে, নিজের দক্ষতা বা কল্পনাশক্তি কাজে লাগিয়ে সচেতনভাবে কিছু তৈরি করার নামই শিল্প। অন্যদিকে উইকিপিডিয়া শিল্পকে কেবল মানুষের কাজ হিসেবেই দেখে। কিন্তু সত্যি বলতে, মানুষই কি পৃথিবীর একমাত্র শিল্পী প্রজাতি? শিল্প যদি সুন্দর ও সচেতনভাবে তৈরি কোনো বস্তুই হয়, তবে প্রাণীদের তৈরি দারুণ সব কাজকে কেন শিল্প বলা যাবে না? ফরাসি শিল্পী এদগার দেগাসের মতে, ‘শিল্প হলো তা-ই, যা আপনি অন্যকে দেখাতে চান।’ বাস্তব জীবনে প্রাণীজগতের দিকে তাকালে আমরা এমন নানা সুন্দর সৃষ্টি দেখতে পাই। যেমন ধরুন, বাবুই পাখির বাসা। মানুষের চোখে তো বটেই, অন্য পাখির চোখেও এটি এক অনন্য শিল্পকর্ম। পশুপাখির এসব কাজের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে টিকে থাকা, খাবার সংগ্রহ করা কিংবা সঙ্গী খুঁজে নেওয়া। উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, এদের তৈরি নকশা ও বর্ণিল রূপ সেগুলোকে অনন্য এক শিল্পের মর্যাদা দেয়। চলুন, প্রাণীদের তৈরি এমন চমৎকার কিছু শিল্পের নিদর্শন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

বাস্তব জীবনে প্রাণীজগতের দিকে তাকালে আমরা এমন নানা সুন্দর সৃষ্টি দেখতে পাই। যেমন ধরুন, বাবুই পাখির বাসা। মানুষের চোখে তো বটেই, অন্য পাখির চোখেও এটি এক অনন্য শিল্পকর্ম।

শামুকজাতীয় প্রাণী

সমুদ্রসৈকতে হাঁটার সময় বালুর ওপর ছড়িয়ে থাকা ঝিনুকের খোলসের সুন্দর নকশাগুলো সহজেই আমাদের চোখে পড়ে। সামুদ্রিক ও ডাঙার শামুকের মতো প্রাণীদের শরীর বেশ নরম ও কোমল হয়। তাই নিজেদের রক্ষা করার জন্য এদের শক্ত খোলসের প্রয়োজন। এরা শরীর থেকে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট-জাতীয় একধরনের বিশেষ রস বের করে এই খোলস তৈরি করে।

সামুদ্রিক ও ডাঙার শামুকের মতো প্রাণীদের শরীর বেশ নরম ও কোমল হয়

এই রস শরীর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসার পর ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে যায়। এই প্যাঁচানো সর্পিল খোলসগুলোতে নানা ধরনের ডোরাকাটা দাগ, প্যাঁচ ও তির্যক রেখা দেখা যায়। এসব চমৎকার জিনিস দেখলে মনে হয়, এ যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা সুন্দর কোনো জ্যামিতিক নকশা!

নিজেদের রক্ষা করার জন্য সামুদ্রিক ও ডাঙার শামুকদের শক্ত খোলসের প্রয়োজন। এরা শরীর থেকে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট-জাতীয় একধরনের বিশেষ রস বের করে এই খোলস তৈরি করে।

পাফারফিশের জ্যামিতি

১৯৯৫ সালে জাপানের উপকূলে কিছু ডুবুরি সমুদ্রের তলদেশে অদ্ভুত সুন্দর ও জটিল কিছু বৃত্তাকার নকশা দেখতে পান। পানির নিচের এই রহস্যময় জ্যামিতিক নকশাগুলো প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিজ্ঞানীদের কাছে এক বড় ধাঁধা হয়ে ছিল। অবশেষে ২০১১ সালে জানা যায়, ‘সাদা দাগযুক্ত পাফারফিশ’ নামে এক বিশেষ প্রজাতির মাছ সমুদ্রের নিচে এই অপূর্ব নকশা তৈরি করে! পুরুষ পাফারফিশ টানা কয়েক দিন ধরে সাঁতার কেটে ও নিজের পাখনা দিয়ে বালু সরিয়ে এই বৃত্তগুলো আঁকে। এসব বৃত্ত তৈরি করার পেছনে প্রধান দুটি কারণ থাকে।

পুরুষ পাফারফিশ টানা কয়েক দিন ধরে সাঁতার কেটে ও নিজের পাখনা দিয়ে বালু সরিয়ে এই বৃত্তগুলো আঁকে

প্রথমত, এটি নারী মাছকে আকর্ষণ করার উপায়। যে মাছ যত নিখুঁত বৃত্ত আঁকতে পারে, সঙ্গীকে আকর্ষণ করার সুযোগ তার তত বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত, বৃত্তের কেন্দ্রটি এদের ডিম পাড়ার নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জাপানের পাশাপাশি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলেও সমুদ্রের তলদেশে এমন চমৎকার জ্যামিতিক নকশা খুঁজে পাওয়া গেছে।

পুরুষ পাফারফিশ টানা কয়েক দিন ধরে সাঁতার কেটে ও নিজের পাখনা দিয়ে বালু সরিয়ে এই বৃত্তগুলো আঁকে। এসব বৃত্ত তৈরি করার পেছনে প্রধান দুটি কারণ থাকে।

বোয়ারবার্ডের নীল সংসার

বোয়ারবার্ড পাখির দেখা মেলে প্রধানত অস্ট্রেলিয়া ও পাপুয়া নিউগিনিতে। মানুষের প্লাস্টিক আবিষ্কারের আগে এদের বাসাগুলো দেখতে কেমন ছিল, তা এখন পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে বর্তমানে এদের বাসা প্রায়ই নানা ধরনের নীল রঙের প্লাস্টিক বা বস্তু দিয়ে সাজানো থাকতে দেখা যায়। পুরুষ বোয়ারবার্ডগুলো চারপাশ থেকে নীল রঙের যেকোনো জিনিস খুঁজে বা চুরি করে নিজের আস্তানায় নিয়ে আসে! এরপর বাঁকানো দুটি লাঠির দেয়াল তৈরি করে এর চারপাশে এই রঙিন জিনিসপত্র বেশ যত্ন করে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে সাজিয়ে রাখে। কার চোখে কোনটা সুন্দর, তা বলা কঠিন হলেও বাসা সাজানোর এই শৈল্পিক দক্ষতার ওপরই এদের সঙ্গী খুঁজে পাওয়া নির্ভর করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যে পুরুষ পাখি যত সুন্দর করে বাসা সাজাতে পারে, নারী পাখিকে আকৃষ্ট করার দৌড়ে সে ততটাই এগিয়ে থাকে।

আশপাশে সহজে পাওয়া যায় এমন ডালপালা বা উদ্ভিদের পাতা দিয়েই বাবুই পাখিরা কাজ সারে। একেকটি বাসা তৈরিতে প্রায় ১ হাজারটিরও বেশি ঘাসের আঁশ প্রয়োজন হয়!

অপূর্ব পাখির বাসা

বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এমন কিছু বাসা তৈরি করে, যা নিরাপত্তার পাশাপাশি দেখতেও দারুণ সুন্দর। হামিংবার্ড প্রায়ই সবুজ ও সাদা রঙের শ্যাওলা আর লাইকেন ব্যবহার করে চমৎকার বাসা বানায়। ধারণা করা হয়, শত্রুর হাত থেকে ডিম ও ছানাদের আড়াল রাখতে বা ছদ্মবেশ তৈরি করতেই এরা এমন রং বেছে নেয়।

আমাদের পরিচিত বাবুই পাখি খড়কুটো দিয়ে জটিল বুননের অপূর্ব সব বাসা তৈরি করে

আবার যুক্তরাষ্ট্রে দেখা মেলা রুফাস হামিংবার্ড মাকড়সার জাল ও শৈবাল দিয়ে বেশ মজবুত বাসা বানায়। অন্যদিকে আমাদের পরিচিত বাবুই পাখি খড়কুটো দিয়ে জটিল বুননের অপূর্ব সব বাসা তৈরি করে। আশপাশে সহজে পাওয়া যায় এমন ডালপালা বা উদ্ভিদের পাতা দিয়েই এরা কাজ সারে। একেকটি বাসা তৈরিতে প্রায় ১ হাজারটিরও বেশি ঘাসের আঁশ প্রয়োজন হয়!

যুক্তরাষ্ট্রে দেখা মেলা রুফাস হামিংবার্ড মাকড়সার জাল ও শৈবাল দিয়ে বেশ মজবুত বাসা বানায়। অন্যদিকে আমাদের পরিচিত বাবুই পাখি খড়কুটো দিয়ে জটিল বুননের অপূর্ব সব বাসা তৈরি করে।

তিমির বুদবুদ-জাল

একটি হাম্পব্যাক তিমি দিনে এক টন পর্যন্ত মাছ খেতে পারে। এর মধ্যে হেরিং ও ম্যাকেরেলের মতো ঝাঁক বেঁধে থাকা মাছও রয়েছে। এরা মূলত ‘বাবল নেট’ বা বুদবুদের জাল তৈরি করে শিকার ধরে। এই কাজে দুই বা ততোধিক তিমি দল বেঁধে মাছের ঝাঁকের গভীরে ডুব দেয়। এরপর শ্বাসছিদ্র দিয়ে বুদবুদ ছেড়ে পানির ওপরের দিকের মাছগুলোকে ভড়কে দেয়।

হাম্পব্যাক তিমি মূলত বাবল নেট বা বুদবুদের জাল তৈরি করে শিকার ধরে

এক তিমি যখন বুদবুদের বলয় তৈরি করে, তখন অন্য তিমিগুলো প্যাঁচানো সর্পিল গতিতে পানির ওপরে এসে মাছগুলোকে ঘিরে ফেলে। এই বুদবুদের জালের নকশাগুলো দেখতে অপূর্ব লাগে। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান জিওগ্রাফিক নেচার ফোটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার প্রতিযোগিতায় হাম্পব্যাক তিমির এই বাবল নেট ফিডিংয়ের একটি ছবি প্রথম পুরস্কারও জিতে নিয়েছে।

একটি হাম্পব্যাক তিমি দিনে এক টন পর্যন্ত মাছ খেতে পারে। এর মধ্যে হেরিং ও ম্যাকেরেলের মতো ঝাঁক বেঁধে থাকা মাছও রয়েছে। এরা মূলত বাবল নেট বা বুদবুদের জাল তৈরি করে শিকার ধরে।

পাকা কারিগর বিভার

গাছ, পাথর কিংবা কাঠ কেটে নদীতে বাঁধ তৈরিতে বিভাররা একদম পাকা কারিগর। এরা নিজেদের ধারালো সামনের দাঁত দিয়ে বড় বড় গাছ কেটে ফেলে। এরপর ডালপালা, কাদা ও পাথর জমা করে নদীর গতিপথে শক্ত বাঁধ তৈরি করে। এই বাঁধের কারণে নদীর তীব্র স্রোত থমকে গিয়ে তৈরি হয় শান্ত হ্রদ। এই হ্রদই বিভারদের ডাঙার হিংস্র শিকারি প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা করে।

গাছ, পাথর কিংবা কাঠ কেটে নদীতে বাঁধ তৈরিতে বিভাররা একদম পাকা কারিগর

সব মিলিয়ে, প্রাণীদের এসব সৃষ্টিকে শিল্প বলা যাবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে প্রকৃতিজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এদের এই অনন্য ও সুন্দর নির্মাণগুলোকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

লেখক: প্রদায়ক, বিজ্ঞানচিন্তা

সূত্র: আইএফএল সায়েন্স ও দ্য কনভারসেশন

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>