বিজ্ঞাপন
পাকিস্তানি বিনোদন জগতের জনপ্রিয় মুখ হানিয়া আমির। অভিনয়ের পাশাপাশি প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্ব, হাসিখুশি স্বভাব আর নজরকাড়া উপস্থিতির জন্যও তার আলাদা জনপ্রিয়তা রয়েছে।
তবে ফ্যাশনের দুনিয়ায় হানিয়াকে আরও একটি কারণে আলাদা করে চেনা যায়-গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নিজের পছন্দমতো পোশাক পরেন তিনি। কখনো তার সাজ প্রশংসা কুড়ায়, আবার কখনো সেই সাজ নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা।
সমালোচনা কিংবা কটাক্ষ-কোনোটিকেই খুব একটা গুরুত্ব দেন না হানিয়া। বরং সময়ের সঙ্গে পোশাক নিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেন আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের তুলনামূলক রক্ষণশীল পোশাকের পরিসরে পাশ্চাত্য ধাঁচ, পুরোনো দিনের নতুন রূপ এবং শহুরে সাজকে নিজের মতো করে মিশিয়ে তৈরি করেছেন আলাদা ফ্যাশন পরিচয়।
হানিয়ার আলোচিত লুকগুলোর একটি হলো শোল্ডার-নিট টপ ও উজ্জ্বল লাল স্কার্টের সমন্বয়। সাদামাটা টপের সঙ্গে উজ্জ্বল লাল স্কার্টের কনট্রাস্ট পুরো পোশাকে তৈরি করেছে প্রাণবন্ত আবহ। হাঁটুর ওপর পর্যন্ত নকশা করা মোজা এবং ভারী তলার জুতা লুকটিতে যোগ করেছে তারুণ্য ও স্ট্রিট-স্টাইলের আমেজ।
এই সাজে ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকের ওয়াই২কে ফ্যাশন এবং আধুনিক স্ট্রিটওয়্যারের প্রভাব স্পষ্ট। চাঙ্কি স্নিকার্স ও সানগ্লাসের সঙ্গে হানিয়ার আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি পুরো লুককে করেছে আরও আকর্ষণীয়। ভ্রমণ কিংবা শহরের ব্যস্ত দিনে আরাম ও স্টাইল একসঙ্গে রাখতে চাইলে এমন কম্বিনেশন বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক।
আরেকটি লুকে হানিয়াকে দেখা গেছে হাল্টার-নেক টপে। স্লিভলেস টপটির নেকলাইন ঘাড়ের সঙ্গে বাঁধা, আর সামনের অংশে রয়েছে অ্যাসিমেট্রিক ড্রেপড ডিজাইন। ফলে সাধারণ টপের তুলনায় পোশাকটিতে তৈরি হয়েছে আলাদা একটি ফ্যাশনেবল সিলুয়েট।
এর সঙ্গে ঢিলেঢালা ওয়াইড-লেগ ট্রাউজার্স বেছে নিয়েছেন অভিনেত্রী। ফিটেড টপ ও ফ্লোয়ি প্যান্টের ভারসাম্য পুরো সাজকে করেছে স্বচ্ছন্দ ও আধুনিক।
অ্যাক্সেসরিজেও ছিল মিনিমাল ভাব। ওভারসাইজড সানগ্লাস এবং ছোট দুলেই সাজ সম্পূর্ণ করেন।
হানিয়ার ফ্যাশন সেন্সের আরেকটি দিক ধরা পড়ে তার ভিন্নধর্মী অ্যাক্সেসরিজ ব্যবহারে। কালো ছোট হাতাকাটা পোশাক ও ধূসর ঢিলেঢালা হাঁটুঢাকা পোশাকের সঙ্গে এবার তার পায়ে দেখা গেছে দুই রঙের আলাদা মোজা।
এক পায়ে লাল, অন্য পায়ে নীল মোজায় ছিল আগুনের শিখার নকশা। এর সঙ্গে সামনের অংশ খোলা রুপালি ফিতার জুতা পুরো সাজে তৈরি করেছে অপ্রত্যাশিত একটি স্টাইল স্টেটমেন্ট।
মাঝে মাঝে চুল পেছনে আলতো করে বাঁধা এবং চোখে ধাতব ফ্রেমের চশমা পরে নিজেকে ছিল মজার ও তারুণ্য নির্ভর আবহ তৈরি করেন।
হানিয়ার পোশাক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা কিংবা সমালোচনা নতুন কিছু নয়। তাঁর কোনো কোনো সাজ কারও কাছে সাহসী, আবার কারও কাছে আধুনিক ফ্যাশনের চমৎকার উদাহরণ।
তবে এসব মতামতের মাঝেও নিজের পছন্দের পোশাক পরার ক্ষেত্রে বেশ আত্মবিশ্বাসী হানিয়া। তার ফ্যাশনে যেমন পাশ্চাত্য ধাঁচের পোশাক দেখা যায়, তেমনি ঐতিহ্যবাহী সালোয়ার-কামিজ কিংবা জমকালো বিয়ের পোশাকেও দেখা যায়।
কখনো সাবেকি সৌন্দর্য, কখনো ওয়াই২কে অনুপ্রেরণা, আবার কখনো শহুরে স্ট্রিট স্টাইল-প্রতিটি ধারাকেই নিজের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন অভিনেত্রী।হানিয়া আমিরের ফ্যাশন সেন্সের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক সম্ভবত তার আত্মবিশ্বাস।
একই ধরনের পোশাক বা সাজের মধ্যে আটকে না থেকে তিনি বারবার নতুন কিছু চেষ্টা করেন। কখনো রঙের বৈপরীত্য, কখনো অদ্ভুতুড়ে অ্যাক্সেসরিজ, আবার কখনো সম্পূর্ণ ভিন্ন স্টাইলে নিজস্বতার ছাপ থাকে।
অবশ্য ঐতিহ্যবাহী সালোয়ার-কামিজ কিংবা জমকালো বিয়ের পোশাকেও হানিয়াকে অসাধারণ মানায়। অর্থাৎ সাজপোশাকে তার কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডি নেই। কখনো সাবেকি সৌন্দর্য, কখনো পুরোনো দিনের নতুন রূপ, কখনো শহুরে পোশাক-প্রতিটি ধারাকেই নিজের ব্যক্তিত্বে মিশিয়ে নিতে জানেন তিনি।
হানিয়া আমিরের ফ্যাশন তাই শুধু পোশাকের গল্প নয়; এটি নিজের পছন্দকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রকাশ করার গল্প। কটাক্ষ যতই আসুক, পোশাকের খেলায় নিজের নিয়মেই এগিয়ে চলেছেন এই অভিনেত্রী। আর সেই কারণেই হয়তো প্রতিটি নতুন সাজে তাকে ঘিরে তৈরি হয় নতুন আলোচনা।
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন