ব্রেকিং নিউজ
ব্যক্তিস্বার্থ বাদ দিয়ে দেশের ও মানবতার জন্য কাজ করার লোকের বড়ই অভাব নটর ডেম কলেজের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কবে, যা জানা গেলো ঢাবি কক্সবাজার স্টুডেন্টস ফোরামের নতুন নেতৃত্বে এমরান-তারেক দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই সেঞ্চুরি তরুণ ব্যাটারের, বিশাল জয়ে সিরিজ প্রোটিয়াদের ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু মাদক কারবারিকে আশ্রয়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার পদ স্থগিত ময়মনসিংহ ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ২ অর্থনীতি ফোকলা করে স্বৈরাচার বিদেশে পালিয়েছে: জাহিদ ৩৯ বছরের শিক্ষকতা শেষে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায় মুমূর্ষু স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে স্বামী, মৃত ঘোষণার পর পালানোর চেষ্টা
জাতীয়

ম্যাগি থেকে থামস আপ, সস্তা প্যাকেটজাত খাবারে কীভাবে নির্ভরশীল হলো ভারত

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

কিছু খাদ্যপণ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কতামূলক লেবেল ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে ভারত। এ নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একই ব্র্যান্ডের তুলনামূলক পুষ্টিকর সংস্করণ বিশ্বের অন্য বাজারে বিক্রি হলেও ভারত কীভাবে সস্তা প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভারতে পারিবারিক আয় বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক কম। ফলে নেসলে মালিকানাধীন ম্যাগি ইনস্ট্যান্ট নুডলস এবং কোকাকোলা কোম্পানির থামস আপের মতো সস্তা খাবারের বড় ভোক্তা ভারতীয়রা। এর ফলে বড় খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিশাল একটি বাজার পেয়েছে। একই সঙ্গে অন্য অনেক দেশে তারা যেসব খাদ্যমান অনুসরণ করে, ভারতে সেগুলো প্রয়োগের চাপও তুলনামূলক কম ছিল। তবে পরিস্থিতি এখন বদলাতে শুরু করেছে।

ভারতের খাদ্যনিরাপত্তা ও মান কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই) গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, কোনো খাদ্যপণ্যে সরকারের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি যোগ করা চিনি, লবণ বা সম্পৃক্ত চর্বি থাকলে প্যাকেটে আরও কঠোর লাল সতর্কতামূলক লেবেল চালু করা হতে পারে। এর আগে ধাপে ধাপে এই লেবেল চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনা নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা প্রশ্ন তোলার পর এফএসএসএআই এই অবস্থান জানিয়েছে।

ভারতে অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। তার কারণ বিশ্বে মোট ডায়াবেটিস রোগীর প্রায় এক-চতুর্থাংশই ভারতে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এর জন্য প্রক্রিয়াজাত খাবারের ব্যবহারকেও আংশিকভাবে দায়ী করেছেন। ডেনমার্কের ওষুধ কোম্পানি নোভো নরডিস্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ১০ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আর প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১৩ কোটি ৬০ লাখ।

দ্রুত বাড়ছে বাজার
ভারতে প্যাকেটজাত খাবারের বাজার দ্রুত বড় হচ্ছে। গত বছর দেশটিতে প্যাকেটজাত খাবারের বাজার ছিল ১২৯ দশমিক ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। চলতি বছর সেটি বেড়ে ১৩৭ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইএমএআরসি গ্রুপের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৪ সালে এই বাজার ২৩৮ দশমিক ৮৩ বিলয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

ভারতের পরিবারগুলো ও রাস্তার ধারের দোকানগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ৬০০ কোটি বার ম্যাগির দুই মিনিটে তৈরি করা যায় এমন মসলাযুক্ত নুডলস খাওয়া হয়। সুইজারল্যান্ডের খাদ্যপণ্য প্রতিষ্ঠান নেসলে এই নুডলস তৈরি করে।

ভারতে প্রথম ইনস্ট্যান্ট নুডলসের ব্র্যান্ড হিসেবে ম্যাগি বাজারে আসে ১৯৮৩ সালে। তখন সদ্য কর্মজীবনে প্রবেশ করা মা ও শিশুদের লক্ষ্য করে পণ্যটির প্রচার চালানো হয়। বিজ্ঞাপনে স্কুল বা খেলাধুলা শেষে শিশুরা ম্যাগি নুডলস খাচ্ছে—এমন চিত্র তুলে ধরা হতো। বিজ্ঞাপনের বার্তা ছিল, ‘মা, আমার ক্ষুধা লেগেছে।’

সুপারশপে প্যাকেটজাত খাবারের রাজ্যত্ব।

ম্যাগির সাফল্য ভারতে নেসলের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। বর্তমানে ভারত নেসলের সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকা অঞ্চল। ভারতে ম্যাগির সব ধরনের নুডলসেই পাম তেল ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে বিক্রি হওয়া ম্যাগির অনেক সংস্করণে তুলনামূলক বেশি দামের সূর্যমুখী তেল ব্যবহার করা হয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ায় বিক্রি হওয়া কিটক্যাটের তুলনায় ভারতের কিটক্যাটে কোকোর পরিমাণ কম।

ইউনিলিভারের ভারতের সাবেক বিপণন কর্মকর্তা শশাঙ্ক মেহতা বলেন, ‘এটি জাতীয় গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে—কেন ভারতকে কম দেওয়া হবে? প্রতিষ্ঠানগুলো কেন আমার হয়ে সিদ্ধান্ত নেবে যে আমি ভালো উপাদান কিনতে পারব না?’

উন্নত মানের উপাদান ব্যবহার করলে খরচও বাড়ে। এতে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে, যা দাম নিয়ে সচেতন বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে—নেসলের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কথা বলেন।

নেসলে এক বিবৃতিতে বলেছে, ভোক্তাদের প্রত্যাশা, স্থানীয় স্বাদের পছন্দ, খাদ্যসংস্কৃতি, উপাদানের প্রাপ্যতা ও আবহাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের পণ্যের উপাদান ও রেসিপি নির্ধারণ করা হয়।

নেসলে বলেছে, রেসিপিতে ভিন্নতা থাকলেও পণ্যের মানে তার প্রভাব পড়ে না। বিশ্বজুড়ে কিটক্যাটের ১০টির বেশি আঞ্চলিক রেসিপি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, তারা ভারতের সব খাদ্যনিরাপত্তা আইন মেনে চলে এবং প্যাকেটে উপাদানগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।

জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে
চিনি, লবণ ও চর্বির মাত্রা বেশি হলে তা বোঝাতে খাবারের প্যাকেটের সামনের অংশে সতর্কতামূলক লেবেল দেওয়ার বিষয়টি ভারতে কয়েক বছর ধরেই আলোচিত হচ্ছে। চিলি ও মেক্সিকোর মতো দেশে এমন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরোধিতার কারণে ভারতে বিষয়টি এগোয়নি। বিশেষ করে অনেক প্রচলিত ভারতীয় খাবারে চিনি বা চর্বির পরিমাণ বেশি থাকায় ব্যবসায়ীরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন।

চিলিতে ২০১৬ সালে খাদ্যপণ্যের লেবেল দেওয়ার আইন চালু হয়। এতে কোনো পণ্যে নির্দিষ্ট উপাদানের মাত্রা বেশি হলে প্যাকেটের সামনে আলাদা কালো অষ্টভুজ চিহ্ন দেওয়া হয়। গবেষকদের মতে, এই আইন চালুর পর দেশটিতে চিনিযুক্ত পানীয়ের বিক্রি ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যায়।

অল ইন্ডিয়া ফুড প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, প্রস্তাবিত লেবেল ব্যবস্থা চালু হলে ভারতে প্যাকেটজাত খাবারের ৮০ শতাংশেই অতিরিক্ত চর্বি, চিনি বা লবণ রয়েছে বলে সতর্কতামূলক চিহ্ন দিতে হতে পারে। যদিও স্বাস্থ্য অধিকারকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাম্প্রতিক প্রচারের কারণে ভারতে আরও কঠোর লেবেল ব্যবস্থার দাবি জোরালো হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই প্রস্তাব এসেছে। এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খাদ্য ও পানীয়ের প্যাকেটের সামনে সতর্কতামূলক লেবেল দেওয়ার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল কোকাকোলা এবং নেসলে ও পেপসিকোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন সংগঠন। শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর তদবিরের মুখে মার্চে ভারত সরকার এ বিষয়ে পিছিয়ে যায় বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।

ব্র্যান্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি
ভারতে পশ্চিমা প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে প্রায় এক শতাব্দী আগে। ১৯১২ সালে নেসলে তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারতে চিনিযুক্ত ঘন দুধ বিক্রি শুরু করে। তখন দেশটির স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বড় অংশই ছিল অত্যন্ত দরিদ্র।

ইউনিলিভার ১৯৩৭ সালে ভারতে ‘ডালডা’ বিক্রি শুরু করে। এটি ছিল হাইড্রোজেনেটেড উদ্ভিজ্জ তেলের তৈরি একটি পণ্য। দামি ঐতিহ্যবাহী ঘির সস্তা বিকল্প হিসেবে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। নিম্ন আয়ের পরিবারের রান্নাঘর, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানেও এটির ব্যবহার শুরু হয়। দাম কম রাখতে বিদেশি কোম্পানিগুলো দ্রুত স্থানীয়ভাবে পণ্য উৎপাদনে যায়।

মন্ডেলেজের ভারতীয় ইউনিটের সাবেক কর্মকর্তা পারুল শর্মা বলেন, ‘ভারতে অনেক পণ্যের রেসিপি কয়েক দশক আগে এমন ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল, যাঁরা দাম নিয়ে খুবই সচেতন। সেই রেসিপিগুলোই পরবর্তী সময়ে চালু রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় ভোক্তারা এসব ব্র্যান্ড নিয়ে প্রশ্নই তোলেননি।’

কোকাকোলা কোম্পানির থামস আপও স্থানীয় স্বাদের সঙ্গে মানিয়ে কয়েক দশকে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ভারতে থামস আপের বার্ষিক বিক্রি ১০০ কোটি ডলারের বেশি। ভারতীয় প্রবাসীদের জন্য বিদেশেও এটি রপ্তানি করা হয়।

থামস আপ দেখতে পেপসি ও কোকাকোলার মতো হলেও এর স্বাদ আলাদা। ১৯৯৩ সালে প্রায় ৬ কোটি ডলারে কোকাকোলা ব্র্যান্ডটি কিনে নেয়। তখন ধীরে ধীরে থামস আপ বন্ধ করে নিজেদের প্রধান কোমল পানীয় বাজারজাত করার পরিকল্পনা ছিল কোকাকোলার। তবে ভারতীয় ক্রেতারা থামস আপের স্বাদের প্রতি এতটাই অনুগত ছিলেন যে কোকাকোলা শেষ পর্যন্ত ব্র্যান্ডটি চালু রাখে। কোকাকোলার নিজস্ব কোমল পানীয়ও ভারতে সাংস্কৃতিকভাবে জনপ্রিয়। রাস্তার পাশের দোকানে মসলা দিয়ে ‘মসালা কোক’ হিসেবেও এটি বিক্রি হয়।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য কোকাকোলার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।

ইউনিলিভারের এক মুখপাত্র বলেন, গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিভিন্ন পণ্যে চিনি ও লবণের পরিমাণ কমাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের প্রতি সমর্থনের অংশ হিসেবেই এটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কঠোর বৈজ্ঞানিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে আমাদের পুষ্টি উন্নয়নের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার রয়েছে।’

মন্ডেলেজের সাবেক কর্মকর্তা পারুল শর্মার মতে, স্বাদের সঙ্গে ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের অভ্যস্ততা বড় কোম্পানিগুলোর পণ্যের রেসিপি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা। তিনি বলেন, ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের আনুগত্য হারানোর ঝুঁকি না নিয়ে এক রাতের মধ্যে কোনো পণ্যের রেসিপি বদলে ফেলা যায় না।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>