বিজ্ঞাপন
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে নন। তবে ভবিষ্যতের যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশকে এমনভাবে প্রস্তুত ও সক্ষম করে তুলতে হবে, যাতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ‘ভিন্ন অবস্থান থেকে শত্রুর সঙ্গে আলোচনা করতে বাধ্য’ হতে না হয়।
দেশটির শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধানদের (উপাচার্য) সঙ্গে এক বৈঠকে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ। একই সঙ্গে অর্থনীতি, ব্যবস্থাপনা, সংস্কৃতি, সাহিত্যসহ সব ক্ষেত্রে সরকারকে সহযোগিতা করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা ও সহনশীলতা বাড়ানো জরুরি। তার বক্তব্যে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার বদলে এমন একটি অবস্থান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে ইরানকে দুর্বল অবস্থান থেকে কোনো আলোচনায় বসতে না হয়।
দেশটির তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনারেশন জেড বা জেন জি শিক্ষার্থীদেরও সরকারের কাজে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, তরুণদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে দেশের সমস্যাগুলো সমাধানে যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
পেজেশকিয়ান বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, তারা যেন বিক্ষোভে জড়িত হওয়ার পরিবর্তে সমস্যার সমাধানে যুক্ত হয়। অর্থাৎ তরুণদের অসন্তোষকে সংঘাতের দিকে না নিয়ে দেশের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় কাজে লাগাতে চান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে কারও সঙ্গে তার কোনো রাজনৈতিক বিরোধ নেই। যে ব্যক্তি যে রাজনৈতিক মতাদর্শই ধারণ করুন না কেন, দেশের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করলে তিনি তাকে গ্রহণ করবেন।
তার ভাষায়, যে-ই আমাদের দেশের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে, তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি যা-ই হোক, আমি তাকে গ্রহণ করি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তিনি কারও সঙ্গে সংঘাতে জড়িত নন- বামপন্থি বা ডানপন্থি, ধার্মিক কিংবা অধার্মিক- কারও সঙ্গেই নয়। দেশের সমস্যা সমাধানের বিষয়টি মানুষের বিশ্বাস বা রাজনৈতিক-আদর্শিক অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে সমস্যার সমাধান হওয়ার পরিবর্তে এসব পদক্ষেপ উল্টো নেতিবাচক ফল ও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তার বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণভাবে তরুণদের অসন্তোষ এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সমস্যারও মুখোমুখি। ফলে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার পরিবর্তে দেশের সক্ষমতা বাড়ানো, তরুণদের কাজে যুক্ত করা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর তার জোর দেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এসএএইচ
বিজ্ঞাপন