বিজ্ঞাপন
জাস্টিন বালডোনির বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির মামলায় দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে বড় অঙ্কের অর্থ চেয়েছিলেন হলিউড অভিনেত্রী ব্লেক লাইভলি। তবে আদালতের রায়ে সেই দাবির তুলনায় অনেক কম অর্থ পেলেন তিনি। বালডোনির বিরুদ্ধে মামলায় আইনি খরচ বাবদ ব্লেক লাইভলিকে প্রায় ৪ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আরও পড়ুন
সিনেমা শেষ না করেই চলে যাচ্ছেন দর্শক, পাঁচ নায়িকা নিয়েও পারছেন না যশ
গেল বুধবার বিচারক লুইস লিমান ব্লেক লাইভলির পক্ষে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ডলার আইনি খরচ এবং আরও ৪৪ হাজার ডলার আদালত-সংক্রান্ত খরচ অনুমোদন করেন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার ডলার পাবেন অভিনেত্রী। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ কোটি টাকারও বেশি।
তবে ব্লেক লাইভলি আদালতের কাছে চেয়েছিলেন ৭৫ লাখ ডলার (৭.৫ মিলিয়ন) আইনি খরচ এবং আরও ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার আদালত-সংক্রান্ত খরচ। সব মিলিয়ে তার দাবি ছিল প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় এর মূল্যমান প্রায় ৯৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমাকে ঘিরে ব্লেক লাইভলি ও জাস্টিন বালডোনির মধ্যে শুরু হওয়া এই আইনি দ্বন্দ্ব প্রায় দেড় বছর ধরে চলেছে। চলতি বছরের মে মাসে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। এর ফলে নির্ধারিত ফেডারেল আদালতের বিচার আর এগোয়নি। তবে বালডোনির করা ব্যর্থ মানহানির মামলার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ব্লেকের যে আইনি খরচ হয়েছে, সেটি নিয়ে শুনানি চলছিল।
রায়ে বিচারক বলেন, মামলার গুরুত্ব ও জটিলতার কারণে আইনজীবীদের নির্ধারিত পারিশ্রমিক অযৌক্তিক ছিল না। তবে ব্লেক লাইভলি যে পরিমাণ সময়ের জন্য আইনি খরচ ফেরত চেয়েছিলেন, সেটি ‘অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বালডোনির আইনজীবী ব্রায়ান ফ্রিডম্যান আদালতের রায়কে নিজের মক্কেলদের জন্য ‘উল্লেখযোগ্য বিজয়’ হিসেবে দেখেছেন। তার দাবি, ব্লেক লাইভলি যে অর্থ চেয়েছিলেন, তার মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ পেয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ব্লেক লাইভলির আইনজীবীরা রায়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে প্রতিশোধমূলক মামলা দায়েরেরও আইনি পরিণতি রয়েছে। তাদের দাবি, ব্লেকের লড়াই অর্থের জন্য নয়, বরং জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য ছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্লেক লাইভলি অভিযোগ করেন, ‘ইট এন্ডস উইথ আস’ সিনেমার শুটিং সেটে যৌন হয়রানির বিষয়ে অভিযোগ তোলার পর বালডোনি ও তার প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে অনলাইন প্রচারণা চালিয়েছিল।
আরও পড়ুন
১০০ বার অডিশন দিয়ে বাদ পড়েও আজ ইউটিউবের আয়ে কিনছেন বাড়ি
পরে বালডোনি পাল্টা মানহানির মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, ব্লেক লাইভলি ও তার স্বামী রায়ান রেনল্ডস মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করে সিনেমাটির সৃজনশীল নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সেই মামলার জেরেই হলিউডে তুমুল আলোচনার জন্ম দেয় দুই তারকার আইনি দ্বন্দ্ব।
এলআইএ
বিজ্ঞাপন