বিজ্ঞাপন
প্রায়ই রান্না করতে গিয়ে প্রয়োজনের চেয়ে একটু বেশি ভাত বা তরকারি হয়ে যায়। একা থাকেন কিংবা বাড়ি ও অফিসের কাজ একসঙ্গে সামলান-এমন অনেকের কাছেই তাই ফ্রিজে রান্না করা খাবার রেখে পরদিন খাওয়া বেশ স্বাভাবিক। ছুটির দিনে একটু বেশি রান্না করে কয়েক দিনের জন্য খাবার সংরক্ষণ করাও এখন অনেক পরিবারের রুটিনের অংশ।
তবে ফ্রিজে রাখলেই খাবার অনির্দিষ্টকাল ভালো থাকে-এমন ধারণা ঠিক নয়। খাবার কত দিন নিরাপদে খাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে খাবারের ধরন, রান্নার পদ্ধতি, কত দ্রুত ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং ফ্রিজের তাপমাত্রার ওপর। তাই খাবার নষ্ট হওয়া বা ফুড পয়জনিং এড়াতে সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম জানা জরুরি।
রান্না করা ভাত সংরক্ষণেও নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে
রান্না করা ভাত কত দিন রাখা যায়?
ভাত রান্নার পর দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া ঠিক নয়। রান্না করা ভাত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খেয়ে নেওয়া উচিত। রান্না করার ১ ঘণ্টার মধ্যে ভাত ঠান্ডা করে পরিষ্কার, ঢাকনাযুক্ত পাত্রে ফ্রিজে রাখতে হবে। সাধারণভাবে ফ্রিজে রাখা রান্না করা ভাত ৩-৪ দিনের মধ্যে খেয়ে নেওয়া ভালো। একবার গরম করার সময় যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই বের করুন এবং ভালোভাবে গরম করে খান।
রান্না করা শাকসবজি ও তরকারি
রান্না করা শাকসবজি বা তরকারি সাধারণত ফ্রিজে ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত সতেজ থাকে। তবে সেগুলো ভালো করে ধুয়ে রাখতে হবে। পরিষ্কার, এয়ারটাইট পাত্রে রেখে দ্রুত ফ্রিজে রাখা উচিত।খাবারের গন্ধ, রং বা স্বাদ অস্বাভাবিক মনে হলে তা না খাওয়াই ভালো।
রুটি ও পরোটা
রুটি বা পরোটা ঘরের তাপমাত্রায় বেশি দিন রেখে দিলে দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে এবং সংরক্ষণের পরিবেশ ঠিক না থাকলে নষ্টও হতে পারে। ৩ দিন পর্যন্ত রাখতে চাইলে পরিষ্কার প্যাকেট বা এয়ারটাইট পাত্রে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারবেন। ফ্রিজে রাখলে আরও ২ দিন অর্থাৎ ৫ দিন পর্যন্ত খেতে পারেন।
পাস্তা, কুইনোয়া ও বার্লি
সিদ্ধ করা পাস্তা, কুইনোয়া বা বার্লিও ৩ দিন ফ্রিজে সংরক্ষণ করা যায়। রান্নার পর দ্রুত ঠান্ডা করে ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রাখতে হবে। দীর্ঘ সময়ের জন্য রাখতে চাইলে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা যায়।
মিষ্টি ও ডেজার্ট
সব ধরনের মিষ্টি বা ডেজার্টের সংরক্ষণকাল এক নয়। দুধ, ক্রিম, ডিম বা তাজা ফল দিয়ে তৈরি ডেজার্ট দ্রুত নষ্ট হতে পারে। এ ধরনের খাবার ফ্রিজে রেখে ৩-৪ দিন মধ্যেই খেয়ে নেওয়া উচিত। প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষেত্রে অবশ্যই লেবেলে দেওয়া সংরক্ষণ নির্দেশনা মেনে চলুন।
কোন খাবারে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন?
কাঁচা মাংস, মাছ, কিমা ও মুরগি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা দরকার। কিমা বা গ্রাউন্ড মিট সাধারণত কাঁচা অবস্থায় ফ্রিজে ১-২ দিনের বেশি না রাখাই ভালো। কাঁচা মুরগি বা অন্যান্য মাংসও দ্রুত রান্না করা উচিত। দীর্ঘ সময় রাখতে চাইলে ফ্রিজারে রাখা নিরাপদ।
ডিমের ক্ষেত্রেও সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলতে হবে। শক্ত করে সিদ্ধ করা ডিম সাধারণত ফ্রিজে প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত রাখা যায়। তবে খোসা ছাড়ানো ডিম পরিষ্কার, ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রাখতে হবে।
আরও পড়ুন
সাদা মাখন নাকি হলুদ মাখন, স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি বেশি উপকারী?
টমেটো, শসার মতো বেশি পানি থাকা ফল ও সবজি দ্রুত নরম বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই এগুলো কেনার পর যত দ্রুত সম্ভব খাওয়া ভালো। কেটে রাখা ফল বা সবজি অবশ্যই পরিষ্কার এয়ারটাইট পাত্রে ফ্রিজে রাখতে হবে।
আরও পড়ুন
রান্নাঘরের এই উপাদান খেলেই কমতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি
ফ্রিজ খাবারকে চিরদিন নিরাপদ রাখে না, শুধু নষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর করে। তাই কয়েক দিন পরপর ফ্রিজের পুরোনো খাবার পরীক্ষা করার অভ্যাস করুন। খাবারে অস্বাভাবিক গন্ধ, রং, স্বাদ বা ছত্রাক দেখা দিলে স্বাদ দেখে পরীক্ষা না করে সরাসরি ফেলে দিন। সামান্য অসতর্কতাও কখনো কখনো বড় ধরনের খাদ্যজনিত অসুস্থতার কারণ হতে পারে।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন