ব্রেকিং নিউজ
রংপুরে স্কুলশিক্ষকসহ ৪ হত্যাকাণ্ড, ফরেনসিক রিপোর্টে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য মদ-শাড়ি নিয়ে ধরা দুই ভারতীয়কে কারাগারে পাঠালেন আদালত তিন সাংবাদিককে মারধরের পর বিএনপি নেতা বললেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা পিডামু’ বিকিনি পরে রাখি পরাবেন কেন, কঙ্গনার প্রশ্নে কড়া জবাব কৃতির হুমায়ুন কবিরের নিয়োগ সাংবিধানিক: আইনমন্ত্রী ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজনে কত টাকা লাগবে শওকত আলীর ২৫ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান চেয়ে করা আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ প্রথম পারিশ্রমিক হাতে পেয়ে যা করেছিলেন দীপা খন্দকার তথ্য লুকিয়ে ফের আবেদন সুপার পেট্রোকেমিক্যালের, বিপিসির কমিটি গঠন রংপুরে স্কুলশিক্ষকসহ ৪ হত্যাকাণ্ড, ময়নাতদন্তে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
জাতীয়

লুটপাটের ছক কষা হয় ডিপিপিতেই

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দেশে প্রতিবছর গড়ে ১১-১৩শ সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকে। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) নতুন অনুমোদিত প্রকল্প যুক্ত হয় আরও ৮০০ থেকে ৯২৫টির মতো। প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে একটি রূপরেখা তৈরি করে নেওয়া হয়, যাকে বলা হয় উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি। এই ডিপিপি তৈরির নির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা রয়েছে। সরকারের যে বিভাগের কাজ, সেই বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৭ থেকে ১০টি বিভাগের কর্মকর্তা মিলে দফায় দফায় আলোচনা করে ডিপিপি তৈরি করেন। কয়েকটি স্তর পার হয়ে সেই ডিপিপি চূড়ান্ত অনুমোদন হয় পরিকল্পনা কমিশনে। তারপর পাস হয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক)। এরপর বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় ধাপে ধাপে। আরও পড়ুন ৮ বছরেও শেষ হয়নি ১৮ কিলোমিটার সড়কের কাজ এসব উন্নয়ন কাজে যাতে রাষ্ট্রীয় তথা জনগণের টাকার কোনো অপচয় বা লুটপাট না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে ডিপিপি তৈরির নীতিমালায় বেশকিছু নিয়ম-কানুন বেঁধে দেওয়া আছে। যেমন- একই কাজের পুনরাবৃত্তি (ডুপ্লিকেশন) যাতে না থাকে; অহেতুক কোনো ব্যয় যেন না রাখা হয় ইত্যাদি। অর্থাৎ, নীতিমালার উদ্দেশ্যই হলো সরকারি উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি-অনিয়মের সুযোগ যেন না থাকে। কিন্তু জাগো নিউজ দেশে চলমান এবং শেষ হওয়া ৬০টি উন্নয়ন প্রকল্পের ডিপিপি অনুসন্ধান করে দেখেছে, ওই নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে পদে পদে এবং অনেকগুলো ধাপ পেরিয়েই সেই ডিপিপি অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন হয়ে চলেছে। অনুসন্ধানে স্পষ্ট হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা যেন মিলেমিশে টাকা তছরুফের উদ্দেশ্যেই বিস্ময়কর সব ডিপিপি অনুমোদন করেছেন, যেখানে খরচের খাত নিয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন। এই প্রতিবেদনে সেরকমই কয়েকটি প্রশ্নবিদ্ধ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল- ডিপিপি) অনুসন্ধান তুলে ধরা হলো। কাজ দুটি, ধরন একই, বরাদ্দ দ্বিগুণ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে দেশের সব পৌরসভায় ছয় হাজার ৩৪৫ কোটি আট লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প চলমান। এর মাধ্যমে দেশের পৌরসভাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং মৌলিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো উন্নত করা ছিল উদ্দেশ্য। এই প্রকল্পের ডিপিপি ঘেঁটে দেখা যায়, ম্যানেজমেন্ট ডিজাইন সুপারভিশন পরামর্শক খাতে ১১৯ কোটি টাকা ব্যয় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কাজে ডিপিপিতে রাখা হয়েছে ১১৩ কোটি টাকা। তবে মজার বিষয়, দুটি কাজের ধরন একই। এর মধ্যে যে কোনো একটি খাত রাখলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা হতো না বলে মত দিয়েছে খোদ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের অধীন বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) চলতি বছরের নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনেই এ কথা বলা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে জুন ২০২৬ সময়ের মধ্যে প্রকল্পের নিবিড় পরিবীক্ষণ করে সরকারি সংস্থাটি। আরও পড়ুন গাবতলী থেকে হাতিরঝিলের নিচ দিয়ে দাশেরকান্দি যাবে মেট্রোরেল বিষয়টি জানতে সরাসরি দেখা করা হয় প্রকল্পের পরিচালক তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে। তার দাবি, প্রকল্পের প্রয়োজনেই ডিপিপিতে ওই দুটি খাতে টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর বাইরে আর কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি তিনি। অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, এই প্রকল্পে ৬৬ ধরনের ব্যয়ের ছক কষা হয়েছে। প্রকল্পের পানি কেনায় ছয় লাখ, বদলির জন্য পাঁচ লাখ ও অন্যান্য ভাতা খাতে ৪৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা বিল ধরা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের জন্য এক কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয় করে রিসেটেলমেন্ট/সোশ্যাল সেফগার্ড বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জুনিয়র রিসেটেলমেন্ট/সোশ্যাল সেফগার্ড বিশেষজ্ঞ-১, জুনিয়র রিসেটেলমেন্ট/সোশ্যাল সেফগার্ড বিশেষজ্ঞ-২ জুনিয়র, রিসেটেলমেন্ট/সোশ্যাল সেফগার্ড বিশেষজ্ঞ-৩, জুনিয়র রিসেটেলমেন্ট/সোশ্যাল সেফগার্ড বিশেষজ্ঞ-৪ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে এখনো কোনো ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। অথচ পুরো টাকাই তুলে নেওয়া হয়েছে বলে আইএমইডির নিবিড় পরিবীক্ষণে অভিযোগ তোলা হয়েছে। আবার প্রকল্পের চুক্তি মোতাবেক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করছে। অথচ অফিস ভাড়া বাবদ চার লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা খরচ করা কেন হয়েছে, সে প্রশ্নও তুলেছে আইএমইডি। সরেজমিনে প্রকল্পের কাজে অনেক অনিয়ম পাওয়া যায়। মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভায় একটি কাজে দেখা যায়, সঠিকভাবে রড দেওয়া হয়নি। এমনকি ঢালাইয়ের আস্তরণ দেখা যাচ্ছে, যা নিম্নমানের কাজ প্রকাশ করে। গাংনী পৌরসভার চৌগাছা গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ডাস্টবিন স্থাপন কবে হলো আর কবে নষ্ট হলো টেরই পেলাম না। আমার মনে হয় ডাস্টবিনগুলো এক মাসও টেকেনি।’ সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করেও অফিস ভাড়া বাবদ চার লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ টাকা কেন প্রকল্পের আওতায় খরচ হলো- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রকল্প পরিচালক তোফায়েল আহমদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ওরা (ঠিকাদার) এটা ব্যবহার করছে আলাদাভাবে। এই টাকা নিলাম এবং জমা দিয়ে দিলাম। আয়ের ঘরে দেখাচ্ছি না, আবার ব্যয়ও দেখাচ্ছি না।’ আরও পড়ুন দাশেরকান্দি শোধনাগারের সুফল পেতে আরও ১০৪৫ কোটি ব্যয়ের ছক তাহলে প্রকল্পের ডিপিপিতে বাড়িভাড়া ব্যয় খাত কেন রাখলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। শুধু বলেন, ‘ডিপিপি আমি অনুমোদন করিনি। পরিকল্পনা কমিশন এটা অনুমোদন করেছে। এর পরে একনেকে এটা পাস হয়েছে।’ একইভাবে বদলির জন্য পাঁচ লাখ, পানি কেনার ছয় লাখ ও অন্যান্য ভাতা প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ টাকার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক নিশ্চুপ থাকেন। আসল কাজ নেই, চলছে ৬০ রকমের ব্যয় একাধিক চেকপয়েন্ট পেরিয়ে সবশেষ একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে আরেকটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প- ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’। এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ, মাজার, গির্জা ও প্যাগোডার মতো উপাসনালয় সংস্কার ও উন্নয়ন করার কথা। ১ জুলাই ২০২২ শুরু হয়ে প্রকল্পটি শেষ হবে ৩০ জুন ২০২৭। স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে এলজিইডির এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা আছে এক হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। বিস্ময়কর তথ্য হলো, পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পের চার বছর পেরিয়ে গেলেও আসল যে কাজ- দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর সংস্কার, সেটার জন্য এক টাকাও এখন পর্যন্ত বরাদ্দ আসেনি। কিন্তু ডিপিপি অনুযায়ী কর্মকর্তাদের বেতন, উৎসব, বিনোদন ভাতাসহ ৬০ ধরনের ব্যয় ঠিকই চলছে। এ তথ্যও আইএমইডির নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ প্রকল্পের ডিপিপি ঘেঁটে দেখা যায়, এতে যে ৬০ ধরনের ব্যয় খাত ধরা আছে, তার মাধ্যমে নিয়মিত চলছে প্রকল্প কর্মকর্তার মূল বেতন, অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন, দায়িত্ব ভাতা, যাতায়াত ভাতা, শিক্ষা ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মোবাইল ভাতা, আবাসিক টেলিফোন ভাতা, টিফিন ভাতা, উৎসব ভাতা, শ্রান্তি ভাতা, বিনোদন ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, অন্যান্য ভাতা, বিশেষ সুবিধা ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা ইত্যাদি। আরও পড়ুন জনগণের অর্থ লোপাট যেন বন্ধ করা যায় সর্বাত্মক চেষ্টা করছি এছাড়া এ প্রকল্পের জন্য একটি চার চাকার জিপ, একটি চার চাকার পিকআপ, আইন সংক্রান্ত ব্যয়, আউটসোর্সিং খাত, বিদ্যুৎ, কুরিয়ার, ইন্টারনেট, ফ্যাক্স, ট্যালেক্স, ডাক ও টেলিফোন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। ব্যয়ের আছে আরও বাহারি খাত। যেমন- প্রচার ও বিজ্ঞাপন, অডিও-ভিডিও/চলচ্চিত্র নির্মাণ, বইপত্র ও সাময়িকী ক্রয়, নিবন্ধন ফি, আগের প্রকল্পের ৬৪টি মোটরসাইকেল ও অন্য প্রকল্পের পাঁচটি মোটরযান কেনা, টেস্টিং ফি, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ (দেশীয়), পেট্রোল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট, গ্যাস ও জ্বালানি, ভ্রমণ ব্যয়, কম্পিউটার সামগ্রী, মুদ্রণ ও বাঁধাই, স্ট্যাম্প ও সিল, অন্যান্য মনিহারি, কনসালট্যান্সি দুজন- ইমারত ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার একজন ও আর্কিটেক্ট একজন এবং ড্রইং ডিজাইন প্রস্তুতকরণ ব্যয়। এছাড়া আছে ব্যবস্থাপনা ব্যয় (সফটওয়্যার ক্রয়), সার্ভে (টপোগ্রাফিক্যাল বা ভূ-সংক্রান্ত), সম্মানী (পিএসসি, পিআইসি, টিওসি, টিইসি), সম্মানী (মধ্যবর্তী মূল্যায়ন), ৬৬টি মোটরযান কেনা, আসবাবপত্র, কম্পিউটার, অফিস সরঞ্জামাদি উপখাতে ব্যয়। এসব উপখাতে মোট ৫৬ কোটি ৫৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয় রাখা হয়েছে। এতসব খাত-উপখাতে সমানে ব্যয় করা হলেও যে উন্নয়ন কাজের জন্য টাকা বরাদ্দের কথা ডিপিপিতে বলা আছে, সেই টাকা এখন পর্যন্ত আসেইনি। ফলে কোনো ধরনের পূর্ত বা নির্মাণকাজ চলছেই না। পূর্ত কাজের টাকা পাইনি। তাই পূর্ত কাজ হয়নি। কর্মীদের বেতন-ভাতা ও অন্যসব খাতে টাকা পেয়েছি, তাই খরচ করছি।-পিডি মো. আশরাফুজজ্জামান জানতে চাইলে সে কথা অবলীলায় বলে দেন প্রকল্প কর্মকর্তা বা পিডি স্বয়ং। ‘একটি প্রকল্পের ব্যয়ে কীভাবে সাড়ে ৫৬ কোটি টাকার উপখাত ডিপিপিতে রাখা হলো’- প্রশ্ন করলে পিডি মো. আশরাফুজজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আপনি শুধু সেটা দেখলেন, পূর্ত কাজ দেখলেন না!’ পূর্ত কাজ কেন এখনো শুরুই হয়নি- প্রশ্ন করলে পিডির সাফ জবাব- ‘পূর্ত কাজের টাকা পাইনি। তাই পূর্ত কাজ হয়নি। কর্মীদের বেতন-ভাতা ও অন্যসব খাতে টাকা পেয়েছি, তাই খরচ করছি।’ আরও পড়ুন ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা / ৬৮ ধরনের অনিয়ম, হিসাব মিলছে না ৪ হাজার কোটি টাকার ‘কীভাবে অহেতুক ব্যয় ডিপিপিতে অনুমোদন হলো?’ এমন প্রশ্নের জবাবে পিডি আশরাফুজজ্জামান বলেন, ‘আমার কথায় কেউ এই ডিপিপি অনুমোদন করেনি। কয়েকটি স্তর পার হয়েই অনুমোদন হয়েছে। চার স্তরের যাচাই-বাছাই কমিটি এই ডিপিপি অনুমোদন করেছে।’ জানা যায়, এলজিইডির এ প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ অনুমোদন করে। পরে অন্যসব প্রকল্পের মতোই প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় পরিকল্পনা কমিশনের সচিবের সভাপতিত্বেই ডিপিপি অনুমোদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্পে অনেক কর্মকর্তা ডেপুটেশনে (প্রেষণ) থাকেন। তাদেরও আমাদের মতো নানা ধরনের ভাতা দরকার। এজন্যই ডিপিপিতে ভাতাগুলো রাখা হয়েছে।-পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকল্পে অনেক কর্মকর্তা ডেপুটেশনে (প্রেষণ) থাকেন। তাদেরও আমাদের মতো নানা ধরনের ভাতা দরকার। এজন্যই ডিপিপিতে ভাতাগুলো রাখা হয়েছে।’ ডিপিপি থেকে অনেক অহেতুক ব্যয় বাদ দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে এই সচিব বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা কমিশনে রাখা হয়েছে যাচাই-বাছাই করার জন্য। প্রতিটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করি। পরামর্শক কেন লাগবে জানতে চাই। প্রতিটি প্রকল্পে ব্যয় কমানো হচ্ছে। একটি প্রকল্পে ২০০ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। কোনো জায়গায় অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে না। একটি প্রকল্পে ৭০ মোটরসাইকেল কেটে ১০টি করেছি। যে উপজেলায় নেই, সেখানে দেওয়া হয়েছে। অযৌক্তিক ব্যয় কমানো হচ্ছে। পরামর্শক, গাড়ি, পেট্রোলে কমানো হচ্ছে।’ ব্যয়ের নাম ‘শ্রান্তি ও বিনোদন’ ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের ডিপিপিতে ৮৬ ধরনের ব্যয় রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৮ থেকে ১০টি ব্যয় খাত কোনোভাবেই প্রকল্পের সঙ্গে যায় না বলে দাবি আইএমইডির। সার উৎপাদনের এ প্রকল্পে ‘শ্রান্তি ও বিনোদন’ খাতে ৯৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয় রাখা হয়েছে। আরও পড়ুন ঢাকা-সিলেট চার লেন / মাটির নিচে পরীক্ষায় ‘ফাঁকি’, ‘গলার কাঁটা’ ইউটিলিটি আবার রংপুরে নভোথিয়েটার নির্মাণ প্রকল্পে ১৪ ধরনের ভাতা খাতে ব্যয় রাখার পরও ‘শ্রান্তি-বিনোদন’র নামে ব্যয় রাখা হয়েছে। এ প্রকল্পে আরও আছে দায়িত্বভার ভাতা, যাতায়াত ভাতা, শিক্ষা ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, মোবাইল ভাতা, আবাসিক টেলিফোন নগদায়ন ভাতা, টিফিন ভাতা, উৎসব ভাতা, অতিরিক্ত কাজের ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, নববর্ষ ভাতা, শিক্ষা সফর ভাতা, মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা ও অন্যান্য ভাতা। একটি নভোথিয়েটার নির্মাণে এই ‘ভাতা-মচ্ছব’র পরও চলছে শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা। রেলে ২ পরামর্শকে ৫০ কোটি টাকা! বাংলাদেশ রেলওয়েতেও পরামর্শক খাতে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেশের পুরোনো ও জরাজীর্ণ রেল ইঞ্জিন বদলে নতুন লোকোমোটিভ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে প্রকল্পের একটি ব্যয় প্রস্তাব ঘিরে উঠেছে প্রশ্ন। ৩০টি মিটার গেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাত্র দুই বিদেশি প্রকৌশলী নিয়োগে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে রেলওয়ে। এই বিপুল ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের মতে, বিদেশি প্রকৌশলীর পেছনে এত অর্থ খরচ না করে দেশীয় প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দিলে দীর্ঘমেয়াদে রেলখাত আরও দক্ষ ও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে দুই প্রকৌশলীর জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাবের যৌক্তিকতা খুঁজে না পেয়ে অযৌক্তিক ব্যয়ের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, এই প্রকল্পের ডিপিপিতে পরামর্শক বাবদ এত বেশি ব্যয় না রাখলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা হতো না। আমরা দুজন প্রকৌশলীর ব্যয় ৫০ কোটি টাকা ধরেছি। তবে এটা চাওয়া হয়েছে, রাখার দায়িত্ব পরিকল্পনা কমিশনের। কমিশন যেভাবে বলবে আমরাও সেভাবে ডিপিপি প্রস্তুত করবো। এটা নিয়ে সামনে সভা হবে, সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে।-বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (লোকোমেটিভ) মো. বোরহান উদ্দিন ‘কী কারণে দুজন পরামর্শকের জন্য ৫০ কোটি টাকা ব্যয় রাখা হলো?’ এই প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (লোকোমেটিভ) মো. বোরহান উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা দুজন প্রকৌশলীর ব্যয় ৫০ কোটি টাকা ধরেছি। তবে এটা চাওয়া হয়েছে, রাখার দায়িত্ব পরিকল্পনা কমিশনের। কমিশন যেভাবে বলবে আমরাও সেভাবে ডিপিপি প্রস্তুত করবো। এটা নিয়ে সামনে সভা হবে, সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে।’ আরও পড়ুন ৩৩৭০ কোটি টাকা খরচের পরও পানিতে দুর্গন্ধ, নতুন ব্যয়ের ছক কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্মপ্রধান (রেল পরিবহন উইং) মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুই প্রকৌশলীর জন্য ৫০ কোটি টাকা ব্যয় চাওয়ার বিষয়টি আমাদের পর্যবেক্ষণে আছে। এতদিন এটা চলে আসছে। এটা আমরা ধরেছি। তবে রেলের মেইনটেন্যান্স করার লোকবলও নেই।’ তিনি বলেন, ‘দরকার হয় বিদেশে ট্রেনিং দিয়ে রেল মেরামতের প্রকৌশলী তৈরি করতে হবে। আমি ২০ জনকে ২০ দিন জার্মানিতে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করলে এত টাকা খরচ হবে না। এতে দেশীয় প্রকৌশলী আমাদের অ্যাসেট হবে। এই অ্যাসেট ৩০ বছর দেশকে সাপোর্ট দেবে। এরাই আবার দেশের অন্যদের শেখাবো।’ আজব আজব ভ্রমণ ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এক হাজার সরকারি কর্মকর্তাকে খিচুড়ি রান্না শিখতে বা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব করেছিল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণের জন্য তাদের বিদেশ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ খাতে পাঁচ কোটি টাকা রাখা হয়েছিল, যদিও সমালোচনার মুখে পরে বাতিল করা হয় প্রকল্পটি। একইভাবে দেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুহার কমাতে স্কুলের শিশুদের সাঁতার শেখাতে ২৭১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রকল্পের আওতায় সাঁতার শিখতে দুটি দলে বিদেশ যান ১৬ কর্মকর্তা। ব্যয় ধরা হয় ৫০ লাখ টাকা। আরও পড়ুন খাদ্য গুদাম সংস্কারের আড়ালে ভবনবিলাসের ছক, টার্গেট ৪৩১ কোটি  ইংরেজি ভাষা শিখতে সচিবদের থাইল্যান্ডে পাঠানোর প্রকল্প হাতে নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। উপ-সচিব থেকে সিনিয়র সচিব পর্যায়ের প্রায় ৩৫০ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণের জন্য থাইল্যান্ডে যাবেন। জানা যায়, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পর্যটন শহর পাতায়া থেকে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে জানা যায়, দেশে প্রশিক্ষণে কর্মকর্তাদের আগ্রহ কম থাকায় এ উদ্যোগ নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, যার বাস্তবায়ন করবে বিয়াম ফাউন্ডেশন। প্রকল্পের ব্যয় ডিপিপিতে আছে, অথচ মাঠে সংশ্লিষ্ট কাজের কিছুই মেলেনি। আমরা দেখেছি, ডিপিপিতে এমন অহেতুক ব্যয় রাখা হয় যার প্রয়োজন নাই। প্রকল্পের মধ্যে অহেতুক বিদেশ ভ্রমণ, আনুষঙ্গিক উপকরণ ধরা হয়। ফলে বড় অর্থ অপচয় হয়।-টিআইবি পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম  প্রকল্পের ডিপিপি তৈরিতে তদারকি করলে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় কমানো সম্ভব দাবি করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকল্পের ব্যয় ডিপিপিতে আছে, অথচ মাঠে সংশ্লিষ্ট কাজের কিছুই মেলেনি। আমরা দেখেছি, ডিপিপিতে এমন অহেতুক ব্যয় রাখা হয় যার প্রয়োজন নাই। প্রকল্পের মধ্যে অহেতুক বিদেশ ভ্রমণ, আনুষঙ্গিক উপকরণ ধরা হয়। ফলে বড় অর্থ অপচয় হয়।’ দেশে নতুন সরকার, অর্থ সংস্থানে সমস্যা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডিপিপি সঠিকভাবে প্রণয়ন করলে অর্থ অপচয় কমানো যায়। কিছু প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় বিষয় কারও পকেট ভরার জন্য রাখা হচ্ছে কি না দেখতে হবে। প্রকল্পের ডিপিপি ধাপে ধাপে যাচাই করতে হবে। এ জায়গায় বাড়াতে হবে নজরদারি।’ পিডি-ঠিকাদার যোগসাজশ ‘দেশের ৩০টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের’ প্রধান কাজ পৌরসভায় নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং সঠিক-মানসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাজনিত জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি কমানো। প্রকল্পটি জুলাই ২০১৯ সালে শুরু হয়ে জুন ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। মেয়াদ বাড়ানো হবে বলে জানা যায়। প্রকল্পের মোট ব্যয় এক হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা। আরও পড়ুন ঢাকায় তিন মেট্রোরেলে বড় বরাদ্দ, ঝুলে গেল তিনটি আইএমইডির প্রতিবেদন ও জাগো নিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়, যোগসাজশের মাধ্যমে পরামর্শককে ৫২ লাখ ৮০ হাজার টাকার কাজ দেওয়া হয়েছে। চলমান প্রকল্পে অযোগ্য একটি ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছে ১৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকার কাজ। সেই ঠিকাদারের বিল থেকে ৩০ লাখ ৮৭০ টাকা জামানত বাবদ কেটে নেওয়ার কথা, কিন্তু কাটা হয়নি। সাধারণত কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার জন্য এ টাকা কেটে রাখা হয়। এটি না করায় প্রকল্পের কারিগরি ঝুঁকি ও আর্থিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আইএমইডির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রকল্পে অনুমোদন নেই, অথচ মাটি ভরাটের জন্য ঠিকাদারকে এক কোটি ৩১ লাখ ৫৫ হাজার ৬শ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে যোগসাজশের মাধ্যমে। একইভাবে এক পরামর্শককে দেওয়া হয়েছে ৫২ লাখ ৮০ হাজার টাকার কাজ। কোনো কাজ না করলেও ঠিকাদারকে ২৫ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫০ টাকার আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ছয় কোটি ৯৪ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬২ টাকা অতিরিক্ত মূল্যের চুক্তি ঠিকাদারের সঙ্গে করা হয়েছে, কিন্তু কোন কাজের কারণে এই চুক্তি তা ডিপিপিতে নেই- এমন তথ্য আইএমইডির প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। শুরু থেকেই প্রকল্পটি অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ২০১৯-২০২০ অর্থবছর থেকে কেনাকাটায় অনিয়ম শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বড় অনিয়ম হয়েছে ১৮ কোটি ৮৩ লাখ ৫১ হাজার ১৪১ টাকার। দরপত্রের শর্ত পূরণ না করা সত্ত্বেও একটি প্রতিষ্ঠানকে এই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে, যা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮-এর লঙ্ঘন। আরও পড়ুন ইঞ্জিন মেরামতে দুই প্রকৌশলী নিয়োগেই ৫০ কোটি টাকা চায় রেলওয়ে ২০২০-২০২১ অর্থবছরেও অনুমোদিত নকশা বা ড্রয়িং উপেক্ষা করে ৫৩ কোটি ৬৭ লাখ ৪শ টাকা অনিয়মিতভাবে ব্যয় করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়াই পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য নন-রেন্টাল অফিস সরঞ্জাম বাবদ বিল পরিশোধ করায় রাষ্ট্রের ৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি আএমইডির। কয়েক ধাপে ডিপিপি, তবু অনিয়ম ‘টেকসই জীবিকা ও সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনমানের উন্নয়ন’ প্রকল্প তৈরি করবে সরকার। প্রকল্পটির ডিপিপি প্রথমে তৈরি করে সমাজসেবা অধিদপ্তর। ডিপিপি চূড়ান্ত করতে হলে তার আগে অবশ্যই সার্ভে বা ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি বাধ্যতামূলক হতে হবে। ডিপিপিতে থাকবে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য, সময়সীমা, ব্যয়, সুবিধাভোগীদের নাম ও এলাকার চিত্র। এর পরে সমাজসেবা অধিদপ্তর প্রকল্পটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। প্রকল্পটি প্রাসঙ্গিক হলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালের সচিবের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সভা হয়। সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার প্রধান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ডিজি, অধিদপ্তরের পরিকল্পনা শাখার প্রধান, পরিকল্পনা কমিশন, আইএমইডি, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি), বৈদেশিক সহায়তা প্রকল্প হলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগসহ (ইআরডি) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকেন। সবার মতামতের ভিত্তিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলে তখন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য। এটি করার আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বাজেট আছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখবে পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ। এর পরেই প্রকল্পটি সবুজ পাতায় নেওয়া হয়। এর পরে প্রকল্পটি একনেক সভায় পাস করানোর জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। আরও পড়ুন সচিবালয় স্থানান্তরে নতুন নকশায় গুরুত্ব পাচ্ছে যানজট পরে দিন-তারিখ ঠিক রেখে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক বিভাগ প্রথমে পিইসি সভার আয়োজন করে। প্রকল্পের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়। সুপারিশ করা হয় প্রকল্পের ডিপিপির ব্যয় নিয়ে নানা আপত্তি বা ব্যয় কমানোর। কয়েক ধাপে পিইসি সভা করেই প্রকল্প একনেক সভায় পাস করানো হয়। এত কিছুর পরও প্রকল্পের ডিপিপিতে থেকে যাচ্ছে ইচ্ছামতো ব্যয়ের খাত তথা অর্থ লুটপাটের ছক। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যখন আমাদের কাছে ডিপিপি পাঠায়, তখন সবাই সুন্দর সুন্দর কথা বলে। প্রস্তাবগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়, দেখলে যে কারও মন গলে যাবে। কিন্তু প্রকল্প পাসের পরে আর সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। সেই মোতাবেক অনেক প্রকল্পে কাজও করা হয় না।-পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার  পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জাগো নিউজকে বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যখন আমাদের কাছে ডিপিপি পাঠায়, তখন সবাই সুন্দর সুন্দর কথা বলে। প্রস্তাবগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়, দেখলে যে কারও মন গলে যাবে। কিন্তু প্রকল্প পাসের পরে আর সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। সেই মোতাবেক অনেক প্রকল্পে কাজও করা হয় না।’ প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়নও করা হয় না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যে কারণে অধিকাংশ প্রকল্পে সময় ও ব্যয় বাড়ে। প্রকল্পের ডিপিপি তৈরির আগে সার্ভে ও ফিজিবিলিটি স্ট্যাডিও করা হয় না। এগুলো করা হলে প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হতো।’ প্রকল্পের পিডি নিয়োগেও ঝামেলা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন সচিব। কয়েকটি সুপারিশ ডিপিপিতে যে কোনো নতুন বা অতিরিক্ত খাত (যেমন- ভ্রমণ, পরামর্শক, আপ্যায়ন, শ্রান্তি-বিনোদন বা গাড়ি কেনা) অন্তর্ভুক্ত করার সময় তার বিপরীতে লিখিত যৌক্তিক ব্যাখ্যা ও গাণিতিক হিসাব যুক্ত করার বাধ্যবাধকতা থাকার সুপারিশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। ডিপিপির খাতগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। লাইন মিনিস্ট্রিকে সঠিকভাবে ডিপিপি তৈরি করতে হবে। এর পরে পরিকল্পনা কমিশনে যাবে, তাদেরও সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। ডিপিপি অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপ আছে, এগুলো স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করতে হবে। ডিপিপি তৈরির অনিয়মের শিকড়টা তুলে ফেলতে হবে। নইলে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় কমবে না।-অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি  প্রকল্পের ডিপিপি সঠিকভাবে প্রণয়নে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় রোধ সম্ভব দাবি করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিভিন্ন প্রকল্পের যে খাতগুলো আছে, তাদের মধ্যে আসলে পার্থক্য কী? ডিপিপিতে যে গল্পের কথা বলা হচ্ছে, তা পরিষ্কার করতে হবে। নানা আজেবাজে কাজের গল্প দেখিয়ে টাকা অপচয় করা হয়। এই অপসংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে।’ আরও পড়ুন স্বাস্থ্যে বরাদ্দে লাফ / তিন লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন ব্যয়ে বৈদেশিক ঋণ লাখ কোটিরও বেশি একটি প্রকল্প এক হাজার কোটি টাকায় বাস্তবায়ন সম্ভব অথচ জেনে-বুঝে ডিপিপি ভুলভাল করার কারণে সাত হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডিপিপির খাতগুলো সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। লাইন মিনিস্ট্রিকে সঠিকভাবে ডিপিপি তৈরি করতে হবে। এর পরে পরিকল্পনা কমিশনে যাবে, তাদেরও সঠিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। ডিপিপি অনুমোদনের বিভিন্ন ধাপ আছে, এগুলো স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করতে হবে। ডিপিপি তৈরির অনিয়মের শিকড়টা তুলে ফেলতে হবে। নইলে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় কমবে না।’ এআই দিয়ে ডিপিপি পরীক্ষার আশ্বাস প্রতিমন্ত্রীর ডিপিপির অনিয়ম ও প্রকল্প পরিচালকদের দুর্নীতি প্রতিরোধ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে রেট শিডিউল ও কাজের গুণগত মান পরীক্ষার উদ্যোগ নিচ্ছে।’ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন- প্রকল্পের অর্থ অপচয় ও অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। মূল প্রকল্প অনুমোদনের আগে সার্বিক প্রাক-সমীক্ষা ও ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি বাধ্যতামূলক করতে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।’ এমওএস/এএসএ/ এমএফএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>