জাতীয়

লোডশেডিংয়েও মন ভালো থাকবে কীভাবে, জানুন উপায়

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সম্প্রতি গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে দেশে তীব্র আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। কাজের মধ্যে বা সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষেও যদি হঠাৎ কারেন্ট চলে যায় তবে মেজাজ হারানোটা স্বাভাবিক। তবে, কারেন্ট না থাকলেও মন ভালো রাখার চেষ্টা করতে তো ক্ষতি নেই। এতে যেমন সময়ও কেটে যাবে, তেমনি বিরক্তি দূর করে ভালো রাখা যাবে মন, শারীরিক কসরতে সময় দিলে স্বাস্থ্যেরও হবে উন্নতি। স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশ্বখ্যাত অনলাইন সোর্স ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক হেলথ এসেনসিয়ালস। তাদের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ক্রিন বা বিদ্যুৎ ছাড়া কাটানো সময়কে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়-ডাউনটাইম (Downtime)। কারেন্ট চলে গেলে যখন আমরা বাধ্য হয়ে প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকি, তখন মস্তিষ্কের ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক (ডিএমএন) সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই ডিএমএন সক্রিয় হলে মানুষের স্মৃতিশক্তি এবং নতুন কোনো সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বা সৃজনশীলতা বাড়ে। আবার, বই পড়া বা কোনো পাজল মেলানোর মতো অফলাইন কাজগুলো মস্তিষ্কের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। কীভাবে কাটাবেন সময় লোডশেডিংয়ের প্রভাব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ওপর করা একটি গবেষণায় (রিসার্চগেটে প্রকাশিত) দেখা গেছে, বিদ্যুৎ না থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বা ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য গবেষকরা কয়েকটি কার্যকর কোপিং স্ট্র্যাটেজি বা খাপ খাইয়ে নেওয়ার উপায় চিহ্নিত করেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- শারীরিক কসরত বা ব্যায়াম: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড টি এইচ ক্ল্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর একাধিক গবেষণা অনুযায়ী, শারীরিক কসরত কেবল শরীর গঠন নয়, বরং মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা দূর করতে দারুণ কার্যকর। লোডশেডিংয়ের অলস সময়টিকে শারীরিক সুস্থতার জন্য কাজে লাগানো বুদ্ধিমানের কাজ। এ সময় কোনো ডিভাইস বা বিদ্যুৎ ছাড়া মুক্ত বাতাসে হালকা ব্যায়াম, স্ট্রেচিং, কিংবা ইয়োগা (যোগব্যায়াম) করা যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, মাত্র ১৫-২০ মিনিটের শারীরিক কসরত শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ বা ফিল-গুড হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়, যা বিদ্যুতহীন গরমের সময় তৈরি হওয়া মানসিক ক্লান্তি ও বিরক্তি নিমেষেই দূর করে। অ্যানালগ টুলের ব্যবহার: জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর ২০২৩ সালের গ্লোবাল এডুকেশন মনিটরিং রিপোর্ট এবং বিভিন্ন মনস্তাত্ত্বিক জার্নাল অনুসারে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম মানুষের মনোযোগের ক্ষমতা বা ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ কমিয়ে দিচ্ছে। এর বিপরীতে কাগজের বই বা অ্যানালগ টুল মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ডিজিটাল স্ক্রিনের আসক্তি থেকে মুক্ত হয়ে লোডশেডিংয়ের সময়টিকে ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এ সময় স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ দূরে রেখে গল্পের বই পড়া, ডায়েরি বা কবিতা লেখা, কিংবা পরিবারের সবার সঙ্গে লুডু, দাবা বা ক্যারাম খেলার মতো ইনডোর গেমসে মেতে ওঠা যায়। গবেষকদের মতে, এই অ্যানালগ মাধ্যমগুলো স্ক্রিন টাইম কমিয়ে চোখের ক্লান্তি দূর করে এবং গভীর চিন্তাভাবনার ক্ষমতা (কগনিটিভ স্কিল) পুনরুজ্জীবিত করে। আরও পড়ুন ঢাকায় চরম লোডশেডিং, দিনে ও রাতে একাধিকবার থাকছে না বিদ্যুৎ সামাজিক যোগাযোগ: স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং বিভিন্ন সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, সামনাসামনি সামাজিক যোগাযোগ মানুষের একাকীত্ব দূর করে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করে। ভার্চুয়াল দুনিয়ার লাইক-কমেন্টের বাইরে এসে লোডশেডিং আমাদের সামনাসামনি সামাজিক যোগাযোগের চমৎকার সুযোগ তৈরি করে দেয়। আলো চলে গেলে ঘরে বা বারান্দায় বসে পরিবারের প্রবীণ ও নবীন সদস্যরা গল্পে মেতে উঠতে পারেন, যা পারিবারিক বন্ধনকে মজবুত করে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, যান্ত্রিক ব্যস্ততার যুগে এ ধরনের আন্তরিক ও মুখোমুখি আড্ডা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা বাড়ায়। মিউজিক বা গান শোনা: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (এপিএ) এবং নিউরোলজিক্যাল গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সঙ্গীত মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করতে এবং হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। অন্ধকারে মন ভালো রাখার অন্যতম সেরা মাধ্যম হলো মিউজিক বা গান। হেডফোনে পছন্দের কোনো শান্ত সুর বা গান শোনা, কিংবা নিজেই কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজানো বা খালি গলায় গান গাওয়ার মাধ্যমে মনকে প্রফুল্ল রাখা যায়। মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, সুরের মেলোডি মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ হরমোন নিঃসরণ করে, যা লোডশেডিংয়ের কারণে তৈরি হওয়া অসহনীয় পরিবেশেও মনকে নিমেষেই শান্ত ও চাপমুক্ত করতে সাহায্য করে। যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ-এর পিএমসি জার্নালে প্রকাশিত একটি রিভিউ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ চলে গেলে কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই সময় কাটানোর পাশাপাশি এসব বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি। যেমন- খাবারের নিরাপত্তা: কারেন্ট চলে গেলে ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা উচিত নয়। দরজা বন্ধ থাকলে ফ্রিজের খাবার ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নিরাপদ থাকে। বিষাক্ত গ্যাসের ঝুঁকি: আলো বা বাতাসের জন্য ঘরের ভেতরে জেনারেটর বা কয়লা জাতীয় কিছু জ্বালানো একদমই উচিত নয়। এতে বিষাক্ত গ্যাস জমে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। আগুনের ঝুঁকি: অসাবধানতায় আগুন লাগা এড়াতে মোমবাতির চেয়ে রিচার্জেবল লাইট বা হারিকেন ব্যবহার করা বেশি নিরাপদ। এএমএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>