ব্রেকিং নিউজ
খেলার নিয়ম বদলে গেছে: ইরান ব্যাংকখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: অর্থমন্ত্রী Vaibhav Sooryavanshi: মাত্র ১৫ বছর বয়সে এই দাপট! সিরাজ়ের এক ওভারে ৪,৬,৪! দলীপ ট্রফির ফাইনালে বৈভবের প্রলয় INDW vs PAKW: এশিয়া কাপেও ভারতের বিরুদ্ধে হার, ফের পাকিস্তান দলকে খোঁচা, সোশ্য়াল মিডিয়ায় কী লিখলেন পাঠান? Virat Kohli: ক্রিকেট থেকে বিরতিতে রয়েছেন, এবার রোডিজ় শো-তে বিরাট? ক্লিপ ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজশাহীর পদ্মায় ১০ বছরে দুই শতাধিক মৃত্যু, নেপথ্যে কী? হাবিপ্রবিতে স্নাতক প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৪ জানুয়ারি গুমের শিকার পরিবারের নিরাপত্তা বাড়ান দরকার: চিফ প্রসিকিউটর নিজেই নিজেকে কোণঠাসা করে ফেলেছেন ট্রাম্প অক্টোবরে ডেঙ্গুর বড় ধাক্কা সামলাতে এখনই নামতে হবে
জাতীয়

শিক্ষার্থী বা পেশাজীবীর গবেষণার ১০টি মৌলিক ধাপ

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
ফয়সাল হাবিব অনেক শিক্ষার্থী গবেষণার নাম শুনলেই ভয় পান। মনে হয়, গবেষণা শুধু বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বিজ্ঞানী বা পরিসংখ্যানবিদদের কাজ। কেউ কেউ ভাবেন, গবেষণা শুরু করতে হলে প্রথম দিন থেকেই এসপিএসএস, রিগ্রেশন, এএনওভিএ, পি-ভেল্যু কিংবা জটিল সূত্র জানতে হবে। কিন্তু বাস্তবে গবেষণার শুরু এত কঠিন নয়। গবেষণা শুরু হয় একটি ভালো প্রশ্ন থেকে। এরপর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, বিশ্লেষণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়। একজন নতুন গবেষকের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে কৌতূহল। কেন একটি সমস্যা হচ্ছে, কারা এতে প্রভাবিত হচ্ছে, আগের গবেষণায় কী বলা হয়েছে এবং নতুনভাবে কী জানা সম্ভব, এসব প্রশ্ন থেকেই গবেষণার যাত্রা শুরু হয়। তবে দৈনন্দিন কৌতূহলকে গবেষণায় রূপ দিতে হলে সেটিকে হতে হবে পরিকল্পিত, পদ্ধতিগত, যুক্তিনির্ভর এবং নৈতিক। নতুন গবেষকদের জন্য গবেষণা শুরু করার দশটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নিচে তুলে ধরা হলো। রিসার্চ কোয়েশ্চেন (গবেষণা প্রশ্ন) গবেষণার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো গবেষণা প্রশ্ন নির্ধারণ করা। গবেষণা প্রশ্ন হলো সেই মূল প্রশ্ন, যার উত্তর খুঁজে বের করার জন্য পুরো গবেষণাটি পরিচালিত হবে। প্রশ্নটি স্পষ্ট না হলে তথ্য সংগ্রহ, নমুনা নির্বাচন, বিশ্লেষণ বা উপসংহার, কোনো কিছুই সঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। ধরা যাক, একজন শিক্ষার্থী জানতে চান, ‘মোবাইল ফোন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় কী প্রভাব ফেলে?’ এটি একটি সাধারণ প্রশ্ন। কিন্তু গবেষণার জন্য প্রশ্নটিকে আরও নির্দিষ্ট করা দরকার। যেমন, ‘ঢাকা শহরের কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দৈনিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় এবং পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে কী সম্পর্ক রয়েছে?’ এই প্রশ্নে কারা গবেষণার অংশ হবে, কোন বিষয় দেখা হবে এবং কী ধরনের তথ্য লাগবে, তা অনেক বেশি পরিষ্কার করা। একটি ভালো গবেষণা প্রশ্নের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য থাকে। প্রশ্নটি হতে হবে নির্দিষ্ট, বাস্তবসম্মত, গবেষণাযোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ। এমন প্রশ্ন করা উচিত নয় যার উত্তর শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিয়ে শেষ হয়ে যায়। বরং এমন প্রশ্ন করা উচিত, যার উত্তর খুঁজতে তথ্য, পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন হয়। নতুন গবেষকদের উচিত একটি বৃহৎ বিষয় বেছে নিয়ে সেটিকে ছোট ও নির্দিষ্ট করা। ‘শিক্ষা’, ‘স্বাস্থ্য’, ‘দারিদ্র্য’ বা ‘প্রযুক্তি’ বড় বিষয়। এগুলোকে সময়, স্থান, মানুষ এবং নির্দিষ্ট সমস্যার ভিত্তিতে সীমিত করলে গবেষণা সহজ হয়। আরও পড়ুন নার্স হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে লিটারেচার সার্চ (পূর্ববর্তী গবেষণা ও তথ্য অনুসন্ধান) গবেষণা প্রশ্ন নির্ধারণের পরের ধাপ হলো ওই বিষয়ে আগে কী কাজ হয়েছে তা খুঁজে দেখা। একে বলা হয় লিটারেচার সার্চ। এখানে ‘লিটারেচার’ বলতে শুধু গল্প, উপন্যাস বা কবিতা বোঝায় না। বরং গবেষণা নিবন্ধ, বই, প্রতিবেদন, থিসিস, সরকারি নথি, নীতিমালা এবং নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যানকে বোঝানো হয়। নতুন গবেষককে আগে জানতে হবে, এই বিষয়ে ইতিমধ্যে অন্য গবেষকেরা কী বলেছেন। উদাহরণ হিসেবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শিক্ষার সম্পর্ক নিয়ে কাজ করতে চাইলে আগে দেখতে হবে আগের গবেষণাগুলোতে কী ধরনের প্রভাব পাওয়া গেছে, কোন বয়সের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ হয়েছে, কী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে এবং কোন বিষয়গুলো নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে। এই ধাপ গবেষককে তিনভাবে সাহায্য করে। প্রথমত, একই গবেষণা অপ্রয়োজনে আবার করার ঝুঁকি কমায়। দ্বিতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, তত্ত্ব এবং গবেষণাপদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেয়। তৃতীয়ত, নতুন গবেষণার জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। তথ্য অনুসন্ধানের সময় শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা অজানা ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। গবেষণা নিবন্ধ, বই, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, সরকারি পরিসংখ্যান, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন এবং স্বীকৃত জার্নালকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তথ্য ব্যবহারের সময় উৎসের নাম, লেখকের নাম, প্রকাশের বছর এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠাসংখ্যা নোট করে রাখলে পরে রেফারেন্স দিতে সুবিধা হয়। রিসার্চ গ্যাপ (গবেষণার শূন্যতা বা জ্ঞানের ঘাটতি) পূর্ববর্তী গবেষণা পড়ার পর নতুন গবেষককে খুঁজে বের করতে হবে, কোন প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কারভাবে পাওয়া যায়নি। এই অনুত্তরিত জায়গাটিই হলো রিসার্চ গ্যাপ বা গবেষণার শূন্যতা। গবেষণার শূন্যতা মানে এই নয় যে, আগে কেউ ওই বিষয়ে কোনো গবেষণাই করেনি। বরং এর অর্থ হতে পারে, আগের গবেষণাগুলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল নিয়ে হয়েছে কিন্তু অন্য অঞ্চলের তথ্য নেই। একটি বয়সের মানুষ নিয়ে গবেষণা হয়েছে, কিন্তু অন্য বয়সের মানুষ নিয়ে হয়নি। অথবা বিষয়টি নিয়ে গবেষণা হয়েছে, কিন্তু ভিন্ন পদ্ধতিতে যাচাই করা দরকার। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর অনেক গবেষণা থাকতে পারে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের কলেজশিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা নাও থাকতে পারে। সেই ক্ষেত্রে নতুন গবেষণার বিষয় হতে পারে, ‘গ্রামীণ কলেজশিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রভাব।’ রিসার্চ গ্যাপ খুঁজে পাওয়ার জন্য গবেষককে আগের গবেষণার সীমাবদ্ধতার অংশ, ভবিষ্যৎ গবেষণার সুপারিশ, তথ্যের ঘাটতি এবং ভিন্ন মতামতগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। এই ধাপটি গবেষণাকে নতুনত্ব দেয় এবং প্রমাণ করে যে, গবেষণাটি বাস্তবেই প্রয়োজনীয়। আরও পড়ুন আয়কর আইনজীবী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়বেন যেভাবে পপুলেশন অ্যান্ড স্যাম্পল (সমগ্রক ও নমুনা নির্বাচন) গবেষণায় যাদের সম্পর্কে জানা বা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চাওয়া হয়, তাদের পুরো দলকে বলা হয় পপুলেশন বা সমগ্রক। আর সেই বড় দলের মধ্য থেকে গবেষণার জন্য যাদের নির্বাচন করা হয়, তাদের বলা হয় স্যাম্পল বা নমুনা। ধরা যাক, একজন গবেষক বাংলাদেশের সব কলেজশিক্ষার্থীর মোবাইল ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করতে চান। এখানে বাংলাদেশের সব কলেজশিক্ষার্থী হলো পপুলেশন। কিন্তু সময়, অর্থ ও জনবলের সীমাবদ্ধতার কারণে সবার কাছ থেকে তথ্য নেওয়া সম্ভব নয়। তাই কয়েকটি কলেজ বা নির্দিষ্টসংখ্যক শিক্ষার্থী বেছে নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। এই নির্বাচিত শিক্ষার্থীরাই স্যাম্পল। নমুনা নির্বাচনের সময় সতর্ক থাকা জরুরি। শুধু নিজের বন্ধু, পরিচিত মানুষ বা সুবিধামতো পাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে গবেষণা করলে ফলাফল সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। গবেষণার উদ্দেশ্য অনুযায়ী নমুনা নির্বাচন করতে হয়। যেমন, এলোমেলোভাবে নমুনা নির্বাচন, নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষ নির্বাচন, অঞ্চলভিত্তিক নির্বাচন বা বয়সভিত্তিক নির্বাচন করা যেতে পারে। একজন নতুন গবেষককে আগে ঠিক করতে হবে, গবেষণাটি কাদের নিয়ে হবে, কতজনের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হবে এবং কেন তাদের নির্বাচন করা হলো। নমুনা নির্বাচন সঠিক না হলে ভালো তথ্য সংগ্রহ করলেও গবেষণার ফল প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। ডাটা কালেকশন (তথ্য সংগ্রহ) গবেষণার মূল উপাদান হলো তথ্য বা ডাটা। গবেষণা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে ডাটা কালেকশন বলা হয়। তথ্য হতে পারে সংখ্যাভিত্তিক, মতামতভিত্তিক, পর্যবেক্ষণভিত্তিক বা নথিভিত্তিক। তথ্য সংগ্রহের কয়েকটি সাধারণ পদ্ধতি হলো প্রশ্নমালা, সাক্ষাৎকার, পর্যবেক্ষণ, ফোকাস গ্রুপ আলোচনা, কেস স্টাডি, নথি বিশ্লেষণ এবং বিদ্যমান পরিসংখ্যান ব্যবহার। কোন পদ্ধতি ব্যবহার হবে, তা নির্ভর করে গবেষণা প্রশ্নের ওপর। যদি গবেষক জানতে চান কতজন শিক্ষার্থী প্রতিদিন কত ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে, তাহলে প্রশ্নমালা কার্যকর হতে পারে। কিন্তু যদি জানতে চান মোবাইল ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীরা কী ধরনের মানসিক চাপ অনুভব করে, তাহলে সাক্ষাৎকার বা দলীয় আলোচনা বেশি উপযোগী হতে পারে। তথ্য সংগ্রহের আগে প্রশ্নমালা বা সাক্ষাৎকারের প্রশ্ন পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকজনের ওপর প্রয়োগ করা ভালো। এতে বোঝা যায় প্রশ্নগুলো সহজবোধ্য কি না, কোনো প্রশ্ন বিভ্রান্তিকর কি না, কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় বাদ পড়েছে কি না।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গবেষণার নৈতিকতা। অংশগ্রহণকারীর অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়া যাবে না। কারও নাম, ছবি, ফোন নম্বর, ব্যক্তিগত বক্তব্য বা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করার আগে স্পষ্ট সম্মতি নিতে হবে। গবেষণার জন্য সংগৃহীত তথ্য কখনো অপমান, হয়রানি বা ব্যক্তিগত ক্ষতির কাজে ব্যবহার করা যাবে না। আরও পড়ুন কর্মী নেওয়াই শেষ কাজ নয়, তার উদ্দীপনাও ধরে রাখতে হয় ডাটা ভেরিফিকেশন (তথ্য যাচাই) তথ্য সংগ্রহ করলেই গবেষণা শেষ নয়। সংগৃহীত তথ্য সঠিক, সম্পূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য কি না, তা যাচাই করা জরুরি। এই প্রক্রিয়াকে ডাটা ভেরিফিকেশন বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে, কোনো শিক্ষার্থী যদি বলে যে সে প্রতিদিন মাত্র আধা ঘণ্টা মোবাইল ব্যবহার করে, কিন্তু তার অন্য তথ্য বা পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সেটি না মেলে, তাহলে গবেষককে তথ্যটি সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করতে হবে। তবে যাচাই করতে গিয়ে অংশগ্রহণকারীর গোপনীয়তা ভঙ্গ করা যাবে না। তথ্য যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো একই বিষয় সম্পর্কে একাধিক উৎস থেকে তথ্য নেওয়া। যেমন, প্রশ্নমালার তথ্যের সঙ্গে সাক্ষাৎকার, পর্যবেক্ষণ বা সরকারি নথির তথ্য মিলিয়ে দেখা যেতে পারে। একে অনেক ক্ষেত্রে ট্রায়াঙ্গুলেশন বলা হয়। নতুন গবেষকের উচিত প্রশ্নমালা পূরণে কোনো উত্তর বাদ পড়েছে কি না, একই ব্যক্তি পরস্পরবিরোধী উত্তর দিয়েছেন কি না, তথ্য প্রবেশের সময় ভুল হয়েছে কি না এবং উৎসটি নির্ভরযোগ্য কি না, এসব বিষয় পরীক্ষা করা। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর বিশ্লেষণ করলে পুরো গবেষণার ফল ভুল হতে পারে। ডাটা অ্যানালাইসিস (তথ্য বিশ্লেষণ) তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ডাটা অ্যানালাইসিস বা তথ্য বিশ্লেষণ। এর অর্থ হলো সংগৃহীত তথ্যকে সাজানো, তুলনা করা, সম্পর্ক খোঁজা এবং গবেষণা প্রশ্নের আলোকে অর্থপূর্ণ ব্যাখ্যা দাঁড় করানো। সংখ্যাভিত্তিক গবেষণায় তথ্যকে টেবিল, শতকরা হার, গড়, চার্ট বা গ্রাফের মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায়। যেমন- কত শতাংশ শিক্ষার্থী দিনে তিন ঘণ্টার বেশি মোবাইল ব্যবহার করে, কতজনের ফলাফল কমেছে অথবা ছেলে ও মেয়েদের ব্যবহারে কোনো পার্থক্য আছে কি না, এসব বিশ্লেষণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, সাক্ষাৎকারভিত্তিক গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অভিজ্ঞতা ও পুনরাবৃত্ত ধারণা খুঁজে বের করা হয়। যেমন- অনেক শিক্ষার্থী যদি একইভাবে বলে যে নোটিফিকেশনের কারণে পড়ার সময় মনোযোগ নষ্ট হয়, তাহলে সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ থিম বা বিষয় হিসেবে উঠে আসতে পারে। তবে বিশ্লেষণের সময় একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। দুটি ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক দেখা গেলেই একটিকে অন্যটির কারণ বলা যায় না। একে বলা হয় কোরিলেশন ডাজ নট নেসেসারিলি মিন কাউসেশন। অর্থাৎ যারা বেশি মোবাইল ব্যবহার করে তাদের ফল কম হতে পারে, কিন্তু শুধু মোবাইল ব্যবহারের কারণেই ফল কমেছে, এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলে আরও শক্ত প্রমাণ দরকার। ঘুম, পারিবারিক পরিবেশ, পড়ার অভ্যাস, আর্থিক অবস্থা বা মানসিক চাপও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। আরও পড়ুন তরুণ বয়সেই গড়ে উঠুক ভবিষ্যতের ভিত্তি হাইপোথিসিস টেস্টিং (অনুমান যাচাই) হাইপোথিসিস বা অনুমান হলো গবেষণার শুরুতে তৈরি করা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা বা পূর্বধারণা, যা তথ্যের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। সব গবেষণায় অনুমান থাকা বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু পরিমাণগত গবেষণায় এটি খুবই কার্যকর। উদাহরণ হিসেবে গবেষক বলতে পারেন, ‌‘যেসব শিক্ষার্থী প্রতিদিন বেশি সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে, তাদের পরীক্ষার ফল তুলনামূলক কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ এটি একটি গবেষণা অনুমান। অনুমান যাচাইয়ের সময় গবেষককে নিজের পছন্দের ফল প্রমাণ করার চেষ্টা করা যাবে না। তথ্য যা বলবে, গবেষণার ফলও তাই হবে। গবেষণায় সাধারণত একটি শূন্য অনুমান এবং একটি বিকল্প অনুমান ব্যবহার করা হয়। শূন্য অনুমান বলে যে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক বা পার্থক্য নেই। বিকল্প অনুমান বলে যে সম্পর্ক বা পার্থক্য আছে। পরিসংখ্যানগত পরীক্ষা ব্যবহার করলে সেই পরীক্ষার নিয়ম, তথ্যের ধরন এবং সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে। শুধু কোনো সফটওয়্যার থেকে ফল বের করলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া যাবে না। একজন নতুন গবেষকের জন্য প্রয়োজন হলে শিক্ষক, পরিসংখ্যানবিদ বা অভিজ্ঞ গবেষকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কনক্লুশন (উপসংহার) সব তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গবেষক যে সংক্ষিপ্ত, যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তাকে কনক্লুশন বা উপসংহার বলা হয়। উপসংহার গবেষণা প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেবে এবং তা অবশ্যই সংগৃহীত প্রমাণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।উপসংহারে নতুন কোনো তথ্য যোগ করা উচিত নয়। গবেষণায় যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে, সিদ্ধান্তও ততটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। ছোট নমুনার ওপর গবেষণা করে পুরো দেশের সব মানুষ সম্পর্কে বড় সিদ্ধান্ত দেওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। একটি ভালো উপসংহারে সাধারণত গবেষণার প্রধান ফল, ফলের অর্থ, সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনে করণীয় তুলে ধরা হয়। যেমন- গবেষণায় দেখা গেল যে শিক্ষার্থীদের অনিয়ন্ত্রিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার মনোযোগ কমার সঙ্গে সম্পর্কিত। তখন উপসংহারে বলা যেতে পারে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল সচেতনতার দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। গবেষকের সততা সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা হয় এই ধাপে। নিজের ধারণার সঙ্গে ফল না মিললেও সত্য ফল প্রকাশ করতে হবে। গবেষণায় প্রমাণের চেয়ে বড় কোনো ব্যক্তিগত মতামত হতে পারে না। আরও পড়ুন নীলক্ষেত থেকে নয়, নিজের সিভি নিজে তৈরি করতে হবে ফিউচার রিসার্চ (ভবিষ্যৎ গবেষণার ক্ষেত্র) প্রতিটি গবেষণারই কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে। সময়, অর্থ, নমুনার আকার, তথ্যের প্রাপ্যতা বা গবেষণার ক্ষেত্র সীমিত হওয়ার কারণে সব প্রশ্নের উত্তর এক গবেষণায় পাওয়া সম্ভব নয়। যে প্রশ্নগুলো রয়ে যায় বা নতুনভাবে সামনে আসে, সেগুলোই ফিউচার রিসার্চ বা ভবিষ্যৎ গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করে। উদাহরণ হিসেবে, একটি গবেষণা যদি শুধু শহরের কলেজশিক্ষার্থীদের নিয়ে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের নিয়ে একই গবেষণা করা যেতে পারে। আবার একটি গবেষণায় শুধু মোবাইল ব্যবহারের সময় দেখা হলে ভবিষ্যতে মোবাইলে কী ধরনের কনটেন্ট দেখা হয়, পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কেমন, ঘুমের ওপর প্রভাব কী বা মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্ক আছে কি না, এসব বিষয় নিয়ে কাজ করা যেতে পারে। ভবিষ্যৎ গবেষণার পরামর্শ কোনো দুর্বলতা নয়। বরং এটি প্রমাণ করে যে, গবেষক নিজের কাজের সীমা সম্পর্কে সচেতন এবং জ্ঞানের নতুন দরজা খুলে দিতে আগ্রহী। শেষ কথা, গবেষণা কোনো ভয়ের বিষয় নয়। এটি সঠিক প্রশ্ন করার, প্রমাণ খোঁজার এবং যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ পদ্ধতি। একজন নতুন গবেষককে একদিনে সব জানতে হবে না। প্রথমে ভালো প্রশ্ন করতে শিখতে হবে। এরপর পূর্ববর্তী গবেষণা পড়তে হবে, তথ্যের ঘাটতি খুঁজে বের করতে হবে, সঠিক মানুষ বা তথ্যের উৎস বেছে নিতে হবে এবং নৈতিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। গবেষণার দশটি ধাপ অনুসরণ করলে গবেষণা ধীরে ধীরে জটিল বিষয় থেকে শেখার একটি আনন্দদায়ক ও অর্থবহ অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে। লেখক: প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাঞ্ছারামপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মনবাড়িয়া। এমআইএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>