বিজ্ঞাপন
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা একজন পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার এখন আর আপিল করার সুযোগও নেই।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে সরকার দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা, আপনি আসবেন না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
শেখ হাসিনার আপিলের সুযোগ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, তার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। ফলে দেশে এসে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও তার নেই।
তিনি বলেন, আইসিটির আমাদের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, তার এখন আর আপিল করার সুযোগ নেই। যে তিনি এসে আপিল করে আবার তিনি তার যে বিচার হয়েছে সেটা পুনর্বিবেচনা করাবেন সেই সুযোগও নেই।
তার মানে ব্যাপারটা টেকনিক্যালি এখন এরকম, তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই, বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
ভারত থেকে শেখ হাসিনার বক্তব্যে অসন্তোষ
সম্প্রতি ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন উল্লেখ করে এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত শেখ হাসিনা যেন এভাবে গণমাধ্যমে কথা বলতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে এমন পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতের প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন এটি বাংলাদেশের জন্য ‘আনএক্সপেক্টেড’। ভারতে তার বর্তমান স্ট্যাটাস কী, তিনি এসব অধিকার ভোগ করতে পারেন কি না, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি ‘স্ট্রং’। তিনি নিজে দেশে আসুন অথবা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক দুই ক্ষেত্রেই তাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো কৌশল নেই।
সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত সরকার চাইলে তাৎক্ষণিক একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা। তারমতে, সেটি হলো শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ঘটনায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ভারতীয় গণমাধ্যমে কথা বলতে দেখা বাংলাদেশের মানুষের জন্য কতটা বিরক্তিকর ও ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয়, তা ভারত সরকারের বোঝা উচিত।
দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ‘আস্থার পরিবেশ’ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে যথেষ্ট সম্পৃক্ত হতে চায় এ বিষয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে আশ্বস্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, একটা এনভায়রনমেন্ট আসলে লাগবে আস্থার এনভায়রনমেন্ট। আমাকে কনভিন্সড হতে হবে আপনি আসলে আমার সঙ্গে যথেষ্ট এনগেজ করতে চাইছেন।
এমএএস/এসএনআর
বিজ্ঞাপন