ব্রেকিং নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে রকেট দিয়ে মাইন পাতছে ইরান—এটা কি সম্ভব মিরাজ শেখ নিখোঁজ: বড় প্রশ্ন, তদন্ত করবে কে পর্যটকদের জন্য আজ খুলেছে সুন্দরবন, বেড়াতে যাওয়ার আগে জেনে নিন ১২ তথ্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মা–বাবার কবরে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা বগুড়ায় চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে ও রগ কেটে হত্যা, সড়ক অবরোধ কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট খোলা সত্ত্বেও কমছে না পানি সুন্দরবনের চার জলদস্যুবাহিনীর প্রধানসহ ৫২ জনের আত্মসমর্পণ  রাজশাহীতে ঢালারচর এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত, ট্রেন চলাচল বন্ধ সিট নিয়ে চবিতে ছাত্রদল নেতা-প্রভোস্টের বাগ্‌বিতণ্ডা ফুটপাতে ফের বসলে অভিযান চলবে, প্রয়োজনে গ্রেফতার
জাতীয়

সংসদ কবে হবে জবাবদিহির জায়গা?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
পল্টন ও শাহবাগ বাংলাদেশের মানুষের হয়ে কথা বলে। মানুষ যখন অন্যায়, বৈষম্য, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়েছে, তখন রাজপথ বহুবার সেই ক্ষোভের ভাষা হয়ে উঠেছে। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানটি জনগণের হয়ে কথা বলার জন্য তৈরি, সেই জাতীয় সংসদ কী করে? এই প্রশ্ন এখন আর ভদ্রতার সঙ্গে করার সময় নয়। কারণ জনগণ বহুবার ভোট দিয়েছে, সরকার বদলেছে, সংসদ বদলেছে, ক্ষমতার মুখ বদলেছে, কিন্তু দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি, লুটপাট এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ কেন বারবার ফিরে আসে, সেই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর এখনও প্রয়োজন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ৩৫০ সদস্যের, ৩০০ জন সরাসরি নির্বাচিত এবং ৫০টি নারী সংরক্ষিত আসনের সদস্য। সংসদ শুধু আইন পাস করার জায়গা নয়। এটি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, আইন প্রণয়ন করে এবং সংসদীয় কমিটিসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করে। বর্তমান ১৩তম সংসদের তৃতীয় অধিবেশনও ২৭ আগস্ট ২০২৬ থেকে চলছে। সংসদ ভবন, তোমার দিকে তাকিয়েই আজ এই প্রশ্ন। তুমি জনগণের নামে দাঁড়িয়ে আছো। তোমার ভেতরে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বসেন। জনগণের অর্থে তোমার কার্যক্রম চলে। তাই মনে রেখো, তোমার কোনো চেয়ার জনগণের চেয়ে বড় নয়, কোনো পদ জনগণের ভোটের চেয়ে বড় নয় এবং কোনো সংসদ সদস্য জনগণের ঊর্ধ্বে নন। সংসদ সদস্য হওয়া সম্মান পাওয়ার লাইসেন্স নয়, জনগণের আমানত বহন করার দায়িত্ব। ক্ষমতা ভোগ করার সুযোগ নয়, ক্ষমতার হিসাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্ন এখানেই। জনগণের প্রতিনিধি কি ক্ষমতায় যাওয়ার পরও জনগণের প্রতিনিধি থাকেন, নাকি ধীরে ধীরে দল, পরিবার, গোষ্ঠী এবং নিজের স্বার্থের প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন? দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি অভিযোগ সত্য নয়, আবার প্রতিটি অভিযোগ মিথ্যাও নয়। তাই প্রয়োজন স্বাধীন তদন্ত, প্রমাণ এবং আইনের ভিত্তিতে বিচার। কিন্তু যখন দলীয় পরিচয় সত্য-মিথ্যার চেয়েও বড় হয়ে যায়, তখন গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। নিজের লোক হলে রক্ষা করো, অন্যের লোক হলে ধ্বংস করো। এ কেমন রাজনীতি? এ কেমন গণতন্ত্র? দুর্নীতির কোনো দল নেই। জনগণের সম্পদেরও কোনো দল নেই। রাষ্ট্রের টাকা কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি সম্পদ জনগণের। তাই যে-ই জনগণের সম্পদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, তার পরিচয় নয়, তার কাজ বিচার্য হবে। এখানেই সংসদের আসল পরীক্ষা। সংসদ যদি সত্যিই জনগণের হয়, তাহলে তাকে শুধু বিরোধী দলের অন্যায় দেখতে হবে না, নিজের দলের অন্যায়ও দেখতে হবে। শুধু আগের সরকারের দুর্নীতির হিসাব চাইলে হবে না, বর্তমান সরকারের কাজেরও হিসাব চাইতে হবে। শুধু ক্ষমতাবানকে সমর্থন করলে হবে না, ক্ষমতাবান ভুল করলে তার বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে হবে। কারণ গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো নিজের লোকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস। যে সংসদ এই সাহস দেখাতে পারে না, সে যত আইনই পাস করুক, জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবে না। চোরকে ধর্মের কাহিনি শুনিয়ে সবসময় থামানো যায় না। যে মানুষ ক্ষমতা, অর্থ ও লোভের কাছে নিজের বিবেক বিক্রি করে দিয়েছে, তাকে শুধু নীতিকথা শুনিয়ে রাষ্ট্র পরিষ্কার করা যাবে না। সেখানে দরকার কঠোর আইন, স্বাধীন তদন্ত, কার্যকর বিচার, অবৈধ সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঝাড়ু দিতে হবে। কিন্তু সেই ঝাড়ু প্রতিহিংসার ঝাড়ু নয়। সেটি হবে জনগণের ভোটের ঝাড়ু, আইনের ঝাড়ু, জবাবদিহিতার ঝাড়ু। যে রাজনীতিবিদ জনগণের বিশ্বাসের অপব্যবহার করেছে, তাকে জনগণ ভোটে প্রত্যাখ্যান করবে। যে অপরাধ করেছে, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ প্রমাণিত হলে তা উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষমতা কোনো আজীবন লাইসেন্স নয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিকে একটি কঠিন শিক্ষা দিয়েছে, জনগণের ক্ষোভকে অনন্তকাল উপেক্ষা বা দমন করে রাখা যায় না। এই শিক্ষা কোনো একটি দলের জন্য নয়, সব দলের জন্য। আজ যে ক্ষমতায়, কাল সে ক্ষমতার বাইরে যেতে পারে। তাই বর্তমান ১৩তম সংসদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সে কি পুরোনো ক্ষমতার সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি করবে, নাকি সত্যিই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করবে? আরও পড়ুন মিশরে দুই প্রবাসীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন: ৩ বাংলাদেশির ৫ বছর সাজা বর্তমান সংসদের সামনে সেই সুযোগ আছে। এখন জনগণ দেখতে চায়, সংসদ কি সত্যিই সরকারের ওপর কার্যকর নজরদারি করবে? দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াবে? রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও লুটপাটের হিসাব চাইবে? দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধের বিচার দাবি করবে? নিজের দলের ভুলের বিরুদ্ধেও কথা বলবে? নাকি আবার সেই পুরোনো গল্প? মুখ বদলাবে, চেয়ার বদলাবে, পতাকা বদলাবে, কিন্তু ক্ষমতার চরিত্র একই থাকবে? যদি তাই হয়, তাহলে পল্টন আবার কথা বলবে। শাহবাগ আবার কথা বলবে। বাংলাদেশের মানুষ আবার কথা বলবে। কারণ রাজপথ কোনো রাষ্ট্রের বিকল্প সংসদ নয়। রাজপথ হলো সংসদের জন্য সতর্কবার্তা। যখন প্রতিষ্ঠান জনগণের কথা শুনতে ব্যর্থ হয়, তখন রাজপথ সেই নীরবতা ভেঙে দেয়। কিন্তু আমি এমন বাংলাদেশ চাই না যেখানে প্রতিটি অন্যায়ের বিচার পেতে মানুষকে রাস্তায় নামতে হবে। আমি এমন সংসদ চাই যেখানে জনগণের ক্ষোভ রাজপথে বিস্ফোরিত হওয়ার আগেই সংসদ তার কারণ খুঁজে বের করবে এবং সমাধান করবে। আমি এমন রাজনীতি চাই না যেখানে ক্ষমতায় থাকলে সব অপরাধ ক্ষমাযোগ্য, আর ক্ষমতার বাইরে গেলে সব অপরাধ অমার্জনীয়। আমি এমন বিচার চাই না যেখানে দল দেখে সত্যের সংজ্ঞা বদলে যায়। আমি চাই এক আইন, এক বিচার, এক জবাবদিহিতা। যে-ই অপরাধ করুক। এখানে নীরবতার কথাও বলতে হবে। যে অন্যায় করে সে অপরাধী। কিন্তু যে অন্যায় দেখেও নিজের স্বার্থে মুখ বন্ধ রাখে, অন্যায়কারীকে প্রশ্রয় দেয়, তার ক্ষমতার সুবিধা নেয় অথবা দলীয় পরিচয়ের কারণে তাকে রক্ষা করে, সে অন্যায়ের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখে। নীরবতা সবসময় নিরপেক্ষতা নয়। কখনো কখনো নীরবতাই অন্যায়ের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। তাই মানুষের বিবেকেও আঘাত করতে হবে। যদি এখনও বিবেক বেঁচে থাকে, সত্যের আঘাতে মানুষ জেগে উঠবে। আর যদি কেউ ক্ষমতা, অর্থ ও লোভের কাছে নিজের বিবেক বিক্রি করে থাকে, তাহলে তার হাতে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ছেড়ে দেওয়া যায় না। তাকে জনগণের ভোটে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে, আইনের মুখোমুখি করতে হবে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ লড়াই কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়। এ লড়াই দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এ লড়াই লুটপাটের বিরুদ্ধে। এ লড়াই ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে। এ লড়াই দায়মুক্তির বিরুদ্ধে। এ লড়াই সেই নীরবতার বিরুদ্ধে, যে নীরবতা অন্যায়কে বাঁচিয়ে রাখে। আমি পৃথিবীতে এসেছি শুধু নীরব থাকার জন্য নয়। অন্যায় দেখে মুখ বন্ধ রাখার জন্য নয়। সত্যকে ভয় পাওয়ার জন্য নয়। আমি প্রতিবাদ করতে চাই, ন্যায় ও অন্যায়ের পার্থক্য বুঝতে চাই এবং সেই বোধ দিয়ে একটি পরিবার, একটি সমাজ, একটি দেশ এবং শেষ পর্যন্ত একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে চাই। আমি এমন একটি পরিবার চাই যেখানে সন্তান শিখবে, ক্ষমতা মানে দায়িত্ব। এমন একটি সমাজ চাই যেখানে পরিচয় নয়, সততা মানুষের মূল্য নির্ধারণ করবে। এমন একটি রাষ্ট্র চাই যেখানে কোনো প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আমলা, ব্যবসায়ী বা রাজনৈতিক নেতা আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন না। এমন একটি সংসদ চাই, যেখানে জনগণকে ভয় দেখানো হবে না, জনগণের কাছে জবাব দেওয়া হবে। কারণ বাংলাদেশ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। বাংলাদেশ জনগণের। রাষ্ট্র জনগণের। ক্ষমতার উৎস জনগণ। তাই প্রশ্নটি আবারও, এবার আরও কঠিনভাবে: পল্টন ও শাহবাগ বাংলাদেশের মানুষের হয়ে কথা বলে, কিন্তু সংসদ কী করে? বাংলাদেশের মানুষ আর শুধু বক্তৃতা শুনতে চায় না। তারা কাজ দেখতে চায়। তারা হিসাব চায়। তারা জবাবদিহিতা চায়। আর যারা জনগণের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তাদের কাছে তারা একটি সরল প্রশ্নের উত্তর চায়: জনগণের ক্ষমতা নিয়ে তোমরা জনগণের জন্য কী করেছ? রহমান মৃধাগবেষক ও লেখকসাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন এমআরএম
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>