
সরকারি অফিসে যত কম যেতে হবে, দুর্নীতি তত কম হবে। মানুষেরও সময় নষ্ট হবে না। সেই সঙ্গে সেবার মান ভালো হবে। সে জন্য ডিজিটালাইজেশন ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ট্রাস্ট ব্যাংক আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় গ্রাহকদের লেনদেন আরও সহজ ও ডিজিটাল করতে ‘ডায়নামিক বাংলা কিউআর’ সেবা চালু করেছে ট্রাস্ট ব্যাংক। আজ এই নতুন ডিজিটাল সেবার আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোর্শেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মোহাম্মদ কবির আহাম্মদ, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান, ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান জামান চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সরকারি সেবা সহজীকরণ ও দুর্নীতি রোধে সরাসরি শারীরিক উপস্থিতিমুক্ত সেবাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে টিকে থাকতে হলে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালুর বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।
ব্যবসায়িক খরচ কমানো ও অটোমেশনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বন্দর, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের যত বেশি স্বয়ংক্রিয়করণ করা যাবে, ততই খরচ কমবে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে পারস্পরিক তথ্য আদান–প্রদানের (ইন্টারঅপারেবিলিটি) সক্ষমতা তৈরি করে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সাধারণ অভিযোগ হলো, তাঁরা হয়রানির শিকার হন। তাঁদের কাজে দেরি হয়; কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক হতে হলে এসব সমস্যা দূর করতে হবে। ইন্টারঅপারেবিলিটির মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা গেলে ব্যবসা করা আরও সহজ হবে।’
অনুষ্ঠানে ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোর্শেদ বলেন, এই আয়োজন বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও ডিজিটাল আর্থিক সেবার অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মানুষ কোনো আর্থিক সেবা গ্রহণ করবে কি না, তা অনেকাংশে নির্ভর করে সেবাটি কতটা সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ, তার ওপর।
মোহা. হোসাইন আল মোর্শেদ আরও বলেন, একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত ব্যক্তি কিংবা তরুণ উদ্যোক্তার কাছে প্রতি মাসে পেনশন স্কিমে টাকা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া যদি জটিল মনে হয়, তাহলে তাঁদের নিয়মিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন। সেখানেই ডায়নামিক বাংলা কিউআরের গুরুত্ব। তাঁর আশা, ট্রাস্ট ব্যাংকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে পেনশন এ দেশের মানুষের কাছে আরও সহজ করা সম্ভব।
দেশে বাংলা কিউআরের লেনদেনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মোহাম্মদ কবির আহাম্মদ। বর্তমানে ব্যাংক, এমএফএস ও এমপিএসপির গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রায় ৩২ লাখ ৬১ হাজার মার্চেন্ট হিসেবে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করার সুযোগ পাচ্ছেন। জুনে যেখানে দৈনিক গড়ে ২৮ কোটি টাকা বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পেমেন্ট হতো, তা বর্তমানে ১৩৭ কোটি টাকার বেশি দাঁড়িয়েছে।
কবির আহাম্মদ আরও জানান, আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যক্তিপর্যায়ের লেনদেনে চালু করা হবে। সরকারি পরিষেবা (ইউটিলিটি) বিলের কপিতে ডায়নামিক বাংলা কিউআর চালু করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরগুলো কাজ করছে। এটি হলে যেকোনো অবস্থায়, যেকোনো স্থানে বসে পরিষেবা বিলের পেমেন্ট সম্পন্ন করা যাবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, সেবা, শিক্ষা, যোগাযোগ খাতসহ সর্বজনীন পেনশন স্কিমের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও সামাজিক সুরক্ষা সেবায় বাংলা কিউআর লেনদেন চালু করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, পৃথিবীতে অনেক দেশে এই পেনশন স্কিম প্রচলিত। বাংলাদেশে মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার মডেল চালু করা হচ্ছে। জাতিসংঘ বলছে, ‘২০২৫ সালে আমাদের গড় আয়ু ৭৩ বছর এবং ২০৫০ সালে প্রায় ৮০ বছর হবে। তাহলে ৬০ বছরের পর আমাদের যে বৃহত্তর বয়স্ক জনগোষ্ঠী থাকছে, তাদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে এই পেনশন চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর চিন্তাভাবনা আছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহসান জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকার যে নগদবিহীন লেনদেনের ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, সে ক্ষেত্রে ট্রাস্ট ব্যাংক তার দায়িত্ব, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>