ব্রেকিং নিউজ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ছাত্রদলের দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা সারের ডিলারশিপ পেতে নেতাদের দৌড়ঝাঁপ, বিতরণ ব্যাহত শাহ আবদুল করিমের জীবনের শেষ ১০ দিন বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার বিতর্কে জাকসু ভিপি জিতু ঢাবির কবি জসীম উদ্‌দীন হল মসজিদে ঝাড়বাতি ও এসি স্থাপন চার যুগ পর দখলমুক্ত ফজলুল হক মুসলিম হলের ১০১ নম্বর কক্ষ ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই’ হুথিদের বিরুদ্ধে বড় আগ্রাসনের প্রস্তুতি সৌদির ফরিদপুরে কার্টন থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির ৬ টুকরো মরদেহ উদ্ধার লিপস্টিক লাগিয়েও ঠোঁট থাকবে ন্যাচারাল, জেনে নিন কীভাবে করবেন একের পর এক কারিগরি ত্রুটি, নাশকতা বা ষড়যন্ত্র কি না ভাবতে হবে: রিজভী
জাতীয়

সৌদির তেল স্থাপনায় হামলা, এখন কী করবে তুরস্ক-পাকিস্তান?

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা ও একই সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের বড় ধরনের অগ্রগতি নতুন করে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে- মাত্র এক মাস আগে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এবার বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে? চুক্তির অন্যতম অংশীদার সৌদি আরব যখন ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলার মুখে, তখন অন্য দুই অংশীদার পাকিস্তান ও তুরস্ক কি সামরিকভাবে পাশে দাঁড়াবে, নাকি কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন ঘিরে সাম্প্রতিক হামলার কারণে। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি সৌদির পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পৌঁছে দেয়। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ এটি। হামলার পর সৌদি আরব সাময়িকভাবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছে। ব্রিটিশ রয়টার্স জানিয়েছে, পাইপলাইনটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক অগ্রগতি। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী কৌশলগত মায়ুন বা পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ও এর আগে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দরও দখল করেছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে এই অবস্থান হুথিদের লোহিত সাগর দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর চাপ সৃষ্টির সক্ষমতা বাড়িয়েছে। ফলে সৌদি তেল অবকাঠামোয় হামলা এখন শুধু একটি দেশের নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। মক্কা চুক্তিতে আসলে কী আছে? চলতি বছরের ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। চুক্তির মূল বক্তব্য হলো, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র শক্তিশালী করা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়; বরং বহিঃআক্রমণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার কাঠামো হিসেবে তৈরি হয়েছে। তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। চুক্তিতে হামলা হলে যৌথ প্রতিরক্ষার নীতি থাকলেও কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে হবে, কত দ্রুত নিতে হবে কিংবা কোন বাহিনী কোথায় মোতায়েন হবে- এসবের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশ্য কাঠামো এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে সৌদির ওপর হুথিদের হামলা চুক্তির রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরীক্ষা হলেও এর অর্থ এই নয় যে পাকিস্তান ও তুরস্ক অবিলম্বে ইয়েমেনে সেনা পাঠাবে। বরং ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বৈঠকে চুক্তির কাঠামো আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে যৌথ প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে। সৌদি আরবে চুক্তির একটি সচিবালয়ও গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার প্রথম মহাসচিব হবেন পাকিস্তানের একজন কর্মকর্তা এবং তিনি তিন বছর দায়িত্ব পালন করবেন। পাকিস্তানের সামনে সবচেয়ে কঠিন সমীকরণ সৌদির পাশে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে জটিল অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। একদিকে রিয়াদের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা ও সামরিক সম্পর্ক। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও ইসলামাবাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ওপর পাকিস্তান বর্তমানে সৌদি-ইরান উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। সৌদির সাম্প্রতিক হামলার পর পাকিস্তান এরই মধ্যে ইরানকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে ও তেহরানের কাছে সৌদি বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, মক্কা চুক্তির আওতায় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এখন পর্যন্ত আলোচনা হয়নি। ইসলামাবাদ চুক্তির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেও তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেনি। এখানেই পাকিস্তানের কৌশলটি পরিষ্কার। দেশটি চুক্তির বাধ্যবাধকতা অস্বীকার করতে চাইছে না, কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পথেও যেতে চাইছে না। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অবশ্য এর আগে সতর্ক করেছিলেন, সৌদির ওপর হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় হতে পারে। অর্থাৎ ইসলামাবাদ এখনো কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সামরিক প্রতিশ্রুতির প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে। তুরস্ক কি সামরিকভাবে এগিয়ে আসবে? তুরস্কের অবস্থানও পাকিস্তানের মতো সরাসরি যুদ্ধের দিকে যাওয়ার চেয়ে ধাপে ধাপে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর দিকে বলে মনে হচ্ছে। হুথিদের সৌদি হামলার তুরস্ক কঠোর নিন্দা করেছে এবং সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইয়েমেনে সরাসরি তুর্কি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ঘোষণা আসেনি। তুরস্কের জন্য বিষয়টি আরও বড় আঞ্চলিক কৌশলের অংশ। মক্কা চুক্তির মাধ্যমে আঙ্কারা সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। একই সময়ে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিয়েও তুরস্ক আঞ্চলিক উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে। ফলে আঙ্কারার সম্ভাব্য ভূমিকা প্রথম ধাপে গোয়েন্দা তথ্য, বিমান প্রতিরক্ষা, সামরিক সমন্বয়, নৌ-নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রে বাড়তে পারে- সরাসরি ইয়েমেনে যুদ্ধ করা তার প্রথম পছন্দ নাও হতে পারে। চুক্তির প্রথম বড় পরীক্ষা মক্কা চুক্তির জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আসলে এখানেই। চুক্তির ভাষায় তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা অন্য দুই দেশের ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এখন সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো ও ভূখণ্ডে একের পর এক হামলা সেই নীতিকে বাস্তব পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সম্ভাব্য দৃশ্যপট হলো- পাকিস্তান ও তুরস্ক প্রথমেই সরাসরি ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু করবে না; বরং সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো, গোয়েন্দা ও সামরিক সমন্বয়, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধির মাধ্যমে চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। কিন্তু হুথিদের হামলা যদি আরও বড় আকার নেয় এবং সৌদির গুরুত্বপূর্ণ শহর, তেল স্থাপনা বা বন্দরকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তখন মক্কা চুক্তির যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা বাস্তবে সক্রিয় করার চাপ দ্রুত বাড়বে। আর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, এই সংঘাত শুধু সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ইরান, পাকিস্তান ও তুরস্ককেও সামরিকভাবে টেনে নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মক্কা চুক্তি একদিকে তিন দেশের নিরাপত্তা জোট হিসেবে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পাবে, অন্যদিকে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার ঝুঁকিও তৈরি করবে। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালি যখন ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত ও বাব আল-মান্দেবেও হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে, তখন সৌদি তেল রপ্তানির বিকল্প পথও ঝুঁকিতে পড়ছে। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। ফলে মক্কা চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে এশিয়া, ইউরোপসহ বিশ্বের জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতাও। সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স, জেরুজালেম পোস্ট এসএএইচ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>