বিজ্ঞাপন
একদিকে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের আধুনিক যন্ত্রপাতি, অন্যদিকে নানা ধরনের খাদ্য প্রস্তুতের উপকরণ ও প্যাকেজিং প্রযুক্তি। কোথাও মেশিন ভিশন ও রোবোটিকস, কোথাও আবার সাজানো দেশি-বিদেশি খাদ্যপণ্যের সারি। সব মিলিয়ে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) জমে উঠেছে ১১তম বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া তিনদিনের এ প্রদর্শনীতে একই আঙিনায় দেখা মিলছে খাদ্যপণ্য তৈরির প্রায় পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রযুক্তি ও সেবার। কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করা থেকে শুরু করে ফিলিং, প্যাকেজিং, কোডিং-মার্কিং, লেবেলিং, মান পরীক্ষা, গুদামজাতকরণ, কোল্ড চেইন ও লজিস্টিকস— প্রতিটি ধাপের জন্যই রয়েছে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান।
আরও পড়ুন
শুরু হলো বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো
এবারের ফুডপ্রোতে অংশ নিয়েছে ২৭টি দেশের দুই শতাধিক ব্র্যান্ড ও কোম্পানিপ্রদর্শনীতে গুরুত্ব পাচ্ছে মেশিন ভিশন, রোবোটিকস, স্মার্ট ফ্যাক্টরি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি। পাশাপাশি রয়েছে আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ যন্ত্রপাতি এবং টেকসই প্যাকেজিংয়ের নানা উপকরণ ও নকশা। আয়োজকদের হিসাবে, এবার চার হাজারের বেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতিভিত্তিক সমাধান উপস্থাপন করা হচ্ছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিনে সরেজমিনে দেখা যায়, সেখানে ছোট-বড় উদ্যোক্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নানা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
আবু হোসেন নামের একজন উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা হয় প্রদর্শনীতে। তিনি ছোট পরিসরে বাড্ডা এলাকায় বেকারি পণ্য তৈরি করেন। তিনি বলেন, খাদ্যপণ্য তৈরি ও প্যাকেজিংয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় এখন কত ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে, এখানে এসে সেটা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন মেশিন ও অটোমেশন প্রযুক্তিগুলো ব্যবসার জন্য বেশ আগ্রহ তৈরি করছে।
তিনি বলেন, আমরা ছোট পরিসরে খাদ্যপণ্য তৈরি করি। এতদিন বিদেশি মেশিন ও প্রযুক্তি সম্পর্কে শুধু অনলাইনে দেখেছি। এখানে এসে সরাসরি মেশিন দেখে এবং প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা নেওয়া সহজ হচ্ছে।
সিরাজুল ইসলাম নামের একজন উদ্যোক্তা এসেছেন রাজশাহী থেকে। তিনি আমসহ বিভিন্ন ফল প্রক্রিয়াকরণ করে অনলাইনে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, এক জায়গায় এত ধরনের খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি দেখতে পারাটা ভালো লাগছে। কাঁচামাল থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও সংরক্ষণ— পুরো বিষয়টা বোঝা যাচ্ছে।
শুধু উদ্যোক্তা নয়, প্রদর্শনীতে এসেছেন সাধারণ ভোক্তাও। বিপুল রায় নামের একজন এসেছেন সপরিবারে। তিনি বলেন, আমরা দোকান থেকে প্যাকেটজাত খাবার কিনে খাই, কিন্তু সেটা কীভাবে তৈরি ও প্যাকেটজাত হয়, সে সম্পর্কে খুব বেশি জানি না। এখানে সেটা দেখছি।
খাদ্যপণ্যের স্বাদ ও সুগন্ধ তৈরির উপকরণ নিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান আইএফএফ। প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সাইফুল হক বলেন, কয়েক বছর ধরে তারা নিয়মিত ফুডপ্রোতে অংশ নিচ্ছেন। তার মতে, এ ধরনের প্রদর্শনী পুরোনো ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন ক্রেতা তৈরির সুযোগ করে দেয়।
প্রযুক্তির পাশাপাশি মেলায় রয়েছে দেশীয় খাদ্যপণ্যের বড় সমাহার। দেশের বড় বড় খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পরিচিত ব্র্যান্ডের পাশাপাশি নতুন পণ্যও তুলে ধরছে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের স্টলে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ও পানীয়, টেস্টিট্রিটের বেকারি ও ফাস্টফুড এবং মিঠাইয়ের বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। সেখানে এক শিক্ষার্থী মনিকা বলেন, মেলা উপলক্ষে প্রাণের স্টলে দর্শনার্থীদের জন্য ১৫ শতাংশ ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। কিছু পণ্য কিনছি। আবার অনেক খাবার সম্পর্কে জানছি।
দর্শনার্থীদের অভিমত, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের কাঁচামাল, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, প্যাকেজিং, প্রস্তুত খাদ্যপণ্য ও অর্থায়ন— শিল্পটির প্রায় পুরো চিত্রই পাওয়া যাচ্ছে এবারের ফুডপ্রোতে। তাই শুধু পণ্যের প্রদর্শনী নয়, দেশের খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনেরও একটি চিত্র তুলে ধরছে এ আয়োজন।
তিন দিনের এ প্রদর্শনী আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলবে। শেষ দিন ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
এনএইচ/এমএএইচ/
বিজ্ঞাপন