ব্রেকিং নিউজ
১০০ বার সুযোগ পেলে প্রতিবারই মেসিকে ভোট দেবো: জিদান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মানুষকে জিম্মি করে ফেলা হয়েছে: শিবির সভাপতি কোচিং বন্ধ, স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ—কিশোরগঞ্জে প্রশাসনের কঠোর সিদ্ধান্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা, তিন মাসের পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাবে সরকার গ্যাস সংকট মোকাবিলায় কূপ খনন ও নতুন এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা মাদ্রাসা নিয়ে কটূক্তিমূলক পোস্টের অভিযোগে স্কুলশিক্ষক আটক  ‘আঙুর ফল টক’—সুনিধিকে নেহার খোঁচা ঢাবির ২১ শিক্ষার্থী পেলেন ট্রাস্ট ফান্ডের বৃত্তি ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে ১৩৩ জন ৩৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার-নগদ টাকা চুরির অভিযোগে স্ত্রী ও স্ত্রীর প্রেমিক গ্রেপ্তার
জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল শিগগিরই, সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা ও রিয়েল টাইম মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ শুরু করেছে পুলিশ। আগে নির্বাচনী দায়িত্বের প্রশিক্ষণ নেননি, এমন সদস্যদের দ্রুত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) অনুরোধের পর প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যেই এ কার্যক্রম শুরু করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে প্রেস ব্রিফিং করেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, শিগগিরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি), সব রেঞ্জের ডিআইজি) উপমহাপরিদর্শক, সব মহানগর পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা, ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও দেশের বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টারের এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ছিলেন। পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের একসঙ্গে পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন সিইসি।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও পূর্ণ প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব হলো সুন্দর নির্বাচন করা। একইভাবে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। ‘ফ্রি, ফেয়ার ও ক্রেডিবল’ নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। কমিশন থেকে নির্বাচনের সময় কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেওয়া হবে না, এমন নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে।

সিইসি বলেন, পুলিশও একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের ইতিবাচক সাড়া থেকেই সেটি বোঝা গেছে। তাঁর মতে, শেষ পর্যন্ত কী ফল হলো, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কে কী কাজ করল, কতটা ভালো বা খারাপ করল, তার প্রমাণ পাওয়া যাবে চূড়ান্ত ফলাফলে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন তার কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে তারা পারে। মানুষের মধ্যে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার ওপর যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, তা পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এখন নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন প্রমাণ করেছে যে তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই সক্ষমতা দেখানোর আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, পেশাদার পুলিশ বাহিনী এ দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরা হয়। গাড়ির সংকট রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের সময়ে পুলিশের অনেক গাড়ি পুড়ে গেছে, যার সব কটির প্রতিস্থাপন এখনো সম্ভব হয়নি। প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় হাজার কোটি টাকা খরচ হবে এবং পুলিশ তাদের বিদ্যমান প্রশিক্ষণ তহবিল থেকেই তা বহন করার কথা জানিয়েছে। তবে এ ব্যয় তাদের জন্য কষ্টকর হওয়ায় কিছু তহবিল চাওয়া হয়েছে।

সিইসি জানান, পর্যায়ক্রমে বিজিবি ও আনসার সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ শুরু হবে। আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যেভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা করেছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। একইভাবে সাংবাদিকদের সহযোগিতাও চান তিনি। সিইসি বলেন, সবাই মিলে চেষ্টা করলে একটি সুন্দর স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া সম্ভব। এ বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী এবং তাঁর বিশ্বাস, নির্বাচন কমিশন তা করতে পারবে। তাঁর ভাষায়, তাদের প্রতিশ্রুতিতে কোনো ভেজাল নেই।

অতীতের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও পরিস্থিতি অনেক খারাপ ছিল। তারপরও নির্বাচন হয়েছে। পুলিশের ওপর তাঁর প্রধান আস্থা রয়েছে। পুলিশ যদি তাঁর সঙ্গে সঠিকভাবে কাজ করে এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা না দেয়, তাহলে তারা পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। অনেক প্রার্থী থাকেন, একই পরিবারের মধ্যেও একাধিক প্রার্থী থাকেন। এ নিয়ে এলাকায়, গ্রামে গ্রামে বিরোধ ও মারামারি হয়। তবে সহিংসতা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের সময় সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা এবং ডিজিটাল ও অনলাইন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। মাঠের পরিস্থিতি রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপ করা যায়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা হতে পারে, এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, শিগগিরই তফসিল ঘোষণা করা হবে। প্রস্তুতির কাজ শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন কমিশন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। তফসিল এভাবে অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা যায় না। নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বা দলীয় পদ থাকবে না। নিষিদ্ধ কার্যক্রমে থাকা আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, এটি দলীয় বা দলভিত্তিক নির্বাচন নয়। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আইনে যাঁরা যোগ্য, তাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। আর আইনের বাধার কারণে যাঁরা যোগ্য নন, তাঁরা পারবেন না। কারা নির্বাচনে যোগ্য আর কারা অযোগ্য, তা আইনেই বলা আছে। আইন অনুযায়ী যোগ্যদের মনোনয়ন বৈধ হবে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন কবে হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। সবকিছু বিবেচনা করে কোনো নির্বাচন কখন হবে, পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সব নির্বাচনের জন্যই প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীন। এখন দলীয় সরকার ক্ষমতায়। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ চাপমুক্তভাবে নির্বাচন করতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, দলীয় সরকার গণতান্ত্রিক সরকার। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে যত ইতিবাচক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, সবই নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>