বিজ্ঞাপন
দূরপাল্লার ভ্রমণে হাইওয়ে দিয়ে গেলে রাস্তার পাশে বড় বড় সাইনবোর্ড নিশ্চয়ই চোখে পড়ে। কোথায় কত কিলোমিটার দূরে কোন শহর, সামনে কোন পথে গেলে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে সেই তথ্যই থাকে সেই বোর্ডে।
তবে কখনো কি খেয়াল করেছেন, প্রায় সব হাইওয়ের দিকনির্দেশক বোর্ডের রং সবুজ, আর লেখাগুলো সাদা?
এটি কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে বিজ্ঞান, মানুষের দৃষ্টিশক্তি, মনোবিজ্ঞান এবং সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ কিছু কারণ। তাই বিশ্বের অনেক দেশেই একই ধরনের রঙের সাইনবোর্ড ব্যবহার করা হয়।
দূর থেকেই সহজে দেখা যায়
হাইওয়েতে গাড়ি সাধারণত তুলনামূলক বেশি গতিতে চলে। ফলে একটি সাইনবোর্ড দেখার পর চালকের হাতে সেটি পড়া ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য খুব বেশি সময় থাকে না। এই কারণেই সাইনবোর্ড এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে দ্রুত চোখে পড়ে এবং অল্প সময়েই তথ্য বোঝা যায়।
ছবি: এআই
সাদা লেখার গুরুত্বও আছে
শুধু সবুজ রং নয়, সাইনবোর্ডে ব্যবহৃত সাদা অক্ষরেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পটভূমির সঙ্গে ভালো কনট্রাস্ট থাকায় অক্ষর দ্রুত পড়া যায়। বিশেষ করে চলন্ত গাড়ি থেকে ছোট সময়ের মধ্যে তথ্য পড়তে হলে এই বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ।
সড়কের বিভিন্ন ধরনের তথ্য বোঝাতে আবার ভিন্ন ভিন্ন রং ব্যবহার করা হয়। যেমন সতর্কতা বা বিপদের সংকেত বোঝাতে অনেক ক্ষেত্রে হলুদ, লাল বা কমলা রং দেখা যায়। অর্থাৎ রঙের ব্যবহারও চালককে তথ্যের ধরন দ্রুত বুঝতে সাহায্য করে।
চোখের জন্য আরামদায়ক
দীর্ঘ সময় গাড়ি চালালে চোখে ক্লান্তি আসা স্বাভাবিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবুজ রং মানুষের চোখের জন্য তুলনামূলক আরামদায়ক। প্রকৃতির সঙ্গে এই রঙের সম্পর্ক থাকায় এটি চোখে কম চাপ ফেলে এবং দীর্ঘ সময় দেখলেও অস্বস্তি তৈরি করে না।
অন্যদিকে লাল বা উজ্জ্বল হলুদ রং সতর্কবার্তার জন্য ব্যবহার করা হয়। এসব রং দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে চোখে চাপ বাড়তে পারে। তাই পথনির্দেশের জন্য সবুজকেই সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করা হয়।
রাতেও সহজে বোঝা যায়
শুধু দিনের বেলায় নয়, রাতেও এই সাইনবোর্ডগুলো সহজে দেখা যায়। কারণ বেশির ভাগ বোর্ডেই প্রতিফলক (রিফ্লেকটিভ) উপাদান ব্যবহার করা হয়।
গাড়ির হেডলাইটের আলো পড়লেই সাদা লেখাগুলো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ফলে অন্ধকারেও চালকের প্রয়োজনীয় তথ্য বুঝতে অসুবিধা হয় না।
বিশ্বের অনেক দেশেই একই নিয়ম
এক দেশ বা এক অঞ্চলে এক ধরনের, আর অন্য জায়গায় অন্য ধরনের সাইনবোর্ড থাকলে চালকদের বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ কারণে আন্তর্জাতিকভাবে একটি নির্দিষ্ট মান অনুসরণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের অনেক দেশেই হাইওয়ের দিকনির্দেশক বোর্ড সবুজ রঙের এবং লেখাগুলো সাদা। এতে নতুন জায়গায় গাড়ি চালালেও পথ চিনতে সুবিধা হয়।
দূরপাল্লার চালকদের জন্যও কার্যকর
হাইওয়েতে দিন-রাত চলাচল করে অসংখ্য বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহন। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে অনেক চালক শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
এমন অবস্থায় পরিচিত সবুজ সাইনবোর্ড দ্রুত তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সার্ভিস এরিয়া বা গন্তব্য মিস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। এতে যাত্রাও হয় আরও নিরাপদ।
আরও পড়ুন
অভিজাত এলাকায় খেয়া নৌকা, ৫ টাকায় পারাপার
শুধু রং নয়, নিরাপত্তারও অংশ
অনেকেই মনে করেন, সবুজ রং শুধু দেখতে সুন্দর বলেই ব্যবহার করা হয়। বাস্তবে বিষয়টি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এই রং বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে মানুষের দৃষ্টিশক্তি, মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা, দ্রুত তথ্য বোঝার সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক সড়ক নিরাপত্তার মানদণ্ড।
আরও পড়ুন
রাজার অবৈধ সন্তান থেকে সফল শাসক, অবিবাহিত রানির বিতর্কিত জীবন
তাই পরেরবার হাইওয়ে দিয়ে কোথাও যাওয়ার সময় রাস্তার পাশের সবুজ সাইনবোর্ড দেখলে জানবেন, এটি শুধু পথ দেখানোর জন্য নয়; নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন