ব্রেকিং নিউজ
ছাত্রলীগ পরিচয়ে সোনা ছিনতাই, ছাত্রদলের সভাপতি-সম্পাদকসহ গ্রেফতার ৩ মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম বৈঠক সোমবার আবারও ইরানে আমেরিকার হামলা, প্রতিশোধের প্রতিশ্রুতি আইআরজিসির ফোনালাপে ‘বোঝাপড়া’ নিয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ম্যাচ জিতে এবং ৩ গোল খেয়ে চেলসির জার্সিতে অভিষেক এমি মার্তিনেজের ছেলের ছবি গলায় ঝুলিয়ে ১২ বছর ধরে খুঁজছেন, যুবদল নেতার সন্ধান চান মা ফেসবুকে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, নিরাপত্তা চেয়ে ঢাবি শিক্ষক শেহরীনের জিডি IPL Impact Player: আইপিএল থেকে উঠে যাচ্ছে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারের নিয়ম? দশ দলের মতামত চেয়ে চিঠি ভারতীয় বোর্ডের Vaibhav Sooryavanshi: দলীপ ট্রফিতে বৈভব সূর্যবংশীর 'অধিনায়কত্বের অভিষেকে' ধোনির ছাঁয়া! মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে গবেষণা জোরদার করা হচ্ছে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
জাতীয়

হারানো চুল ফিরল ১০০ শতাংশই, যে ওষুধে মিলল অবিশ্বাস্য ফল!

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
একসময় মাথাভর্তি চুল ছিল। তারপর ধীরে ধীরে ঝরতে শুরু করল। কারও মাথায় তৈরি হলো ছোট ছোট ফাঁকা জায়গা। কারও আবার হারিয়ে গেল মাথার সব চুল, ভ্রু এমনকি শরীরের লোমও। গুরুতর ধরনের এমন চুল পড়া শুধু চেহারায় পরিবর্তন আনে না। অনেকের আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। তবে এবার এমন রোগীদের জন্য নতুন আশার খবর এসেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে ওষুধে এই সাফল্য মিলেছে, সেটি মূলত বাতের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য তৈরি। ওষুধটির নাম আপাডাসিটিনিব (Upadacitinib)। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দুটি বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা (Alopecia Areata) রোগীদের ওপর এই ওষুধ প্রয়োগ করে চমকপ্রদ ফল পাওয়া গেছে। কেন ঝরে যায় চুল? অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা একটি অটোইমিউন রোগ। এ ক্ষেত্রে শরীরের রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা ভুল করে নিজের চুলের গোড়ায় থাকা ফলিকলের ওপর আক্রমণ করে। ফলে চুল পড়ে যেতে থাকে। কখনো মাথার নির্দিষ্ট কিছু অংশে চুল পড়ে যায়। আবার গুরুতর অবস্থায় মাথার প্রায় সব চুলই পড়ে যেতে পারে। ভ্রু ও শরীরের অন্যান্য লোমও হারিয়ে যেতে পারে। এই রোগের গুরুতর পর্যায়ের জন্য এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে কার্যকর চিকিৎসা পাওয়া কঠিন। বাতের ওষুধে চুল গজানোর পরীক্ষা আপাডাসিটিনিব দিনে একবার খাওয়ার ওষুধ। বিভিন্ন ধরনের বাতের রোগে প্রদাহ কমাতে এটি ব্যবহার করা হয়। গবেষকদের ধারণা ছিল, চুলের ফলিকলের ওপর যে অস্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, সেটিও এই ওষুধ কমাতে পারে। এই ধারণা যাচাই করতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দুটি বড় আন্তর্জাতিক তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করেন। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও চীনের বিভিন্ন হাসপাতাল এতে যুক্ত ছিল। গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটায় আক্রান্ত রোগীদের গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা গড়ে মাথার প্রায় ৮৪ শতাংশ চুল হারিয়েছিলেন। কিছু রোগীর অন্তত ছয় মাস ধরে নতুন করে চুলও গজায়নি। ২৪ সপ্তাহেই চমকপ্রদ ফল অংশগ্রহণকারীদের দৈনিক ১৫ মিলিগ্রাম আপাডাসিটিনিব, ৩০ মিলিগ্রাম আপাডাসিটিনিব অথবা প্লাসিবো দেওয়া হয়। ২৪ সপ্তাহ পর দেখা যায়, আপাডাসিটিনিব গ্রহণকারীদের প্রায় অর্ধেকের মাথার অন্তত ৮০ শতাংশ চুল ফিরে এসেছে। ১৫ মিলিগ্রাম ও ৩০ মিলিগ্রাম—দুই ডোজেই এমন ফল পাওয়া গেছে। ১৫ মিলিগ্রাম ডোজ নেওয়া দলের ৩৫ শতাংশের বেশি রোগীর মাথায় ৯০ শতাংশের বেশি চুল ফিরে এসেছে। ৩০ মিলিগ্রাম ডোজ নেওয়া দলের ক্ষেত্রে এই হার ছিল প্রায় ৪৬ শতাংশ। কারও কারও ফিরেছে সব চুল গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলগুলোর একটি হলো, প্রায় ২০ শতাংশ রোগী চুল পড়ার নির্ধারিত মানদণ্ডে শূন্য স্কোরে পৌঁছেছেন। এর অর্থ, তাদের মাথার চুল পুরোপুরি ফিরে এসেছিল। প্লাসিবো নেওয়া রোগীদের মধ্যে এমন উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে প্রায় এক শতাংশের ক্ষেত্রে। গবেষণার ফলাফল গত ১২ আগস্ট JAMA Dermatology-তে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার প্রধান লেখক ও হার্ভার্ডের অধ্যাপক আরাশ মোস্তাঘিম বলেন, আপাডাসিটিনিব ব্যবহারে দ্রুত এবং উল্লেখযোগ্য মাত্রায় চুল ফিরে আসার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, সরাসরি তুলনামূলক পরীক্ষা না হলেও ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত পরীক্ষা করা কার্যকর সিস্টেমিক চিকিৎসাগুলোর মধ্যে আপাডাসিটিনিব অন্যতম হতে পারে। কীভাবে কাজ করে ওষুধটি? আপাডাসিটিনিব শরীরের একটি নির্দিষ্ট কোষীয় সংকেত ব্যবস্থাকে বাধা দেয়। এটি JAK/STAT pathway নামে পরিচিত। প্রদাহ তৈরিতে এই পথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ওষুধটি এই সংকেত কমিয়ে রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থার অতিরিক্ত সক্রিয়তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে। গবেষকদের ধারণা, এর ফলে চুলের ফলিকলের ওপর অটোইমিউন আক্রমণ কমে যায়। চুলের ফলিকল আবার স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সুযোগ পায়। এখনই কি চুল পড়ার স্থায়ী চিকিৎসা? গবেষণার ফল আশাব্যঞ্জক হলেও এটিকে এখনই অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটার স্থায়ী চিকিৎসা বলা যাচ্ছে না। আপাডাসিটিনিব এখনো এই রোগের জন্য নির্দিষ্টভাবে অনুমোদিত চিকিৎসা নয়। গবেষণায় ওষুধটির নিরাপত্তাব্যবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, বাতের চিকিৎসায় ওষুধটির ব্যবহার থেকে আগে যে নিরাপত্তা-তথ্য জানা ছিল, তার সঙ্গে ট্রায়ালে পাওয়া তথ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে যে কোনো ওষুধের মতোই এর ব্যবহার চিকিৎসকের পরামর্শ ও রোগীর ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনা করে করতে হবে। গবেষকদের ভাষায়, গুরুতর অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোরদের ক্ষেত্রে আপাডাসিটিনিব সম্ভাবনাময় চিকিৎসার একটি বিকল্প হতে পারে। চুল হারানো মানুষের জন্য তাই গবেষণার এই ফল নিঃসন্দেহে আশার খবর। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকেএএ/
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>