জাতীয়

২০০ কোটি টাকার কলা বিক্রির আশায় বাঁধ সাধছে উচ্ছেদ অভিযান

j
jagonews24 অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার দশ মাইলে উত্তরবঙ্গের বৃহৎ কলার পাইকারি হাটে কলার দাম কমেছে। বিগত বছরের তুলনায় প্রতি কাঁদি কলা প্রকার ভেদে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কম দামে বিক্রি হচ্ছে। কলার দাম কমে যাওয়ায় চাষিদের লোকসানে পড়তে হচ্ছে। মূলত ঢাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানের কারণে ভাসমান দোকানগুলো বসছে না। সে কারণে রাজধানীতে কলা কম বিক্রি হচ্ছে। আর সেই প্রভাব পড়েছে দশ মাইলের কলার হাটে। কলার দাম কমার এটিও একটি কারণ বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঢাকা-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের পাশে কাহারোল উপজেলার দশ মাইল মোড়ে কলার হাটে প্রতিদিন গড়ে কোটি টাকার ওপর কাঁচা কলা বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকাররা এখান থেকে কলা কিনে ট্রাকে করে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যান। জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রতিদিন এই হাটে কলা বেচা কেনা হবে। চার মাসে দিনাজপুরে উৎপাদিত কলা ১২০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য জেলা থেকে আসা কলা ৮০ কোটি টাকায় কেনাবেচা হয়ে থাকে এই হাটে। সব মিলিয়ে মৌসুমে এই হাটে ২০০ কোটি টাকার কলা বিক্রি হয়। আরও পড়ুন রংপুর অঞ্চলে কলা চাষে নীরব বিপ্লব বড় পরিসরের এই কলার হাটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থানের সুযোগও। প্রতিদিন কয়েকশ শ্রমিক কলা বাছাই, পরিবহন ও ট্রাকে ওঠানোর কাজে যুক্ত থেকে আয় করছেন। চলতি বছর দিনাজপুরে ১ হাজার ২৫৯ হেক্টর জমিতে কলা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারে ভালো চাহিদার কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে কলাচাষ হয়েছে। কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৪২ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ৩৩৫ হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ১০৭ হেক্টর জমিতে কলার আবাদ বেড়েছে। তিনি বলেন, এ বছর কাহারোলে কলার বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের মতো দাম পেলে কলা চাষিরা খুশি হতো। অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কলা চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। সরেজমিনে দশমাইল কলার হাটে দেখা যায়, হাটজুড়ে সারি সারি কলার কাঁদি সাজানো রয়েছে। ভোর থেকে দিনাজপুরের ১৩ উপজেলাসহ ঠাঁকুরগাও, পঞ্চগড়, নীলফামারী জেলার কলা চাষি ও ব্যবসায়ীরা ভ্যান ও বিভিন্ন যানবাহনে করে কলা নিয়ে আসছেন। পাইকারদের সঙ্গে দর-কষাকষির পর অনেক ক্ষেত্রেই ভ্যানের ওপর থেকেই কলা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। আরও পড়ুন কলা, আপেল নাকি তরমুজ: উৎপাদনে বিশ্বসেরা কোন ফল? কাহারোল উপজেলার গুড়নুরপুর গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম লাইজু এবার ৫২ শতক জমিতে কলা চাষ করেছেন। তিনি জানান, দশ মাইলের হাটে ১০০টি কলার কাঁদি এনে ৪৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। সব মিলিয়ে তার জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার বেশি কলা বিক্রি হবে বলে আশা করছেন। তবে এবার প্রতিটি কলার কাঁদি প্রকার ভেদে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কম দামে বিক্রি হচ্ছে। একই গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, প্রতিটি কলার কাঁদি ৪৯০ টাকা করে বিক্রি করেছেন। তিনি এবার সাড়ে তিন বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছেন। ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে এ ধরনের দাম অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত তার লাভের অঙ্কটা কত হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ঝালকাঠি জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বাহাদুর বেপারী জানান, প্রতি বছর আমি এ হাটে আসি, আবহাওয়ার কারণে কলার চাষ বেশি, আমদানিও বেশি। ব্যাপক কলার উৎপাদন হওয়ায় কৃষকরা যা দাম পাচ্ছে মোটামুটি ভালো। কিন্তু ব্যাপারীরা এবং বাগান ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। কারণ গত বছর থেকে এ বছর ১০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি কাঁদিতে কম। এই হাটে নেপালি, সাগর, অমৃত সাগর, চিনিচম্পা, সবরি কলাসহ সব ধরনের কলা পাওয়া যায়। ঢাকার ব্যবসায়ী মো. নিয়ামুল ইসলাম জানান, ভালো মানের কলার দাম তুলনামূলক বেশি। তিনি প্রতিদিন দশ মাইলের হাট থেকে তিন থেকে চার ট্রাক কাঁচা কলা কিনে ঢাকায় পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, ঢাকায় ফুটপাত থেকে ভাসমান দোকান উচ্ছেদে অভিযান চলছে। এই দোকানগুলোতে কলা রুটি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। দোকানগুলো না থাকায় রাজধানীতে কলার চাহিদা কমেছে। সেই প্রভাব পড়েছে দিনাজপুরের দশমাইল কলার হাটে। হাটের শ্রমিক মো. সহেন আলী জানান, প্রতিদিন ট্রাকে কলা লোড করে একজন শ্রমিক প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। হাটে প্রতিদিন কয়েকশ শ্রমিক কলা ওঠানোর কাজে নিয়োজিত থাকেন। আরও পড়ুন তিন বিঘা জমির কলা গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা, বিপাকে ছয় কৃষক কলার হাটের শ্রমিক মেহেদী বলেন, প্রতি বছর এখানে মৌসুমী শ্রমিক হিসেবে কলার হাটে কাজ করি। এই হাটে আমরা ৮০-১০০ জন শ্রমিক কাজ করি। দৈনিক আমরা ৬০০-১২০০ টাকা হাজিরা পাই। দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, এবছর দিনাজপুরে ১২৫৯ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। দিনাজপুরের মাটি উঁচু হওয়ায় কলা স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়, সে কারণে দেশজুড়ে দিনাজপুরের কলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে দশমাইল কলার হাটে ৪ মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার কলা কেনাবেচা হবে। এফএ
বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>