বিজ্ঞাপন
চোখের নিচের কালচে ভাব বা ডার্ক সার্কেল নিয়ে অনেকেই বেশ চিন্তিত থাকেন। বিশেষ করে কোনো উৎসব বা বিশেষ অনুষ্ঠানের আগে মুখের যত্নে বাড়তি মনোযোগ দিলেও চোখের নিচের কালি যেন পুরো সাজটাই ম্লান করে দেয়।
তাই দামি প্রসাধনী বা ফেসিয়ালের পেছনে ছুটে যাওয়ার আগে নজর দিন প্রতিদিনের জীবনযাপনের দিকে। কারণ ডার্ক সার্কেলের পেছনে ঘুমের ঘাটতি, রোদে অতিরিক্ত থাকা, চোখের ক্লান্তি, অ্যালার্জি, ত্বকের স্বাভাবিক গঠন কিংবা বংশগত কারণও থাকতে পারে।
একটি নির্দিষ্ট খাবার বা ঘরোয়া উপায়ে চোখের নিচের কালচে ভাব রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। তবে ২১ দিন নিয়ম মেনে কিছু অভ্যাস চালু করলে চোখের চারপাশের ত্বক ও চোখের সামগ্রিক স্বস্তির জন্য উপকার পেতে পারেন।
খাবারের দিকে নজর দিন
ত্বককে বাইরে থেকে যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি ভেতর থেকেও পুষ্টি জোগানো জরুরি। ত্বক সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ ও তরল প্রয়োজন। ডার্ক সার্কেল দূর করার কোনো ‘ম্যাজিক ফুড’ নেই। তাই প্রতিদিনের খাবারে রাখুন ডাল, দই, বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজের মতো পুষ্টিকর খাবার।
এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস হিসেবে পরিমিত ঘি, বাদাম বা বীজ রাখা যেতে পারে। কোলাজেন তৈরিতে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ, তাই আমলকি, পেয়ারা, লেবু বা অন্যান্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেতে পারেন। সবুজ শাকসবজি ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখুন। তবে আয়রনের ঘাটতি আছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে নিজে থেকে আয়রন সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উচিত নয়।
চোখকে দিন ঠান্ডা আরাম
সারাদিন কাজের পর চোখে ক্লান্তি বা ভারী ভাব আসতেই পারে। তখন বাজারের দামি আই মাস্কের পরিবর্তে সহজ একটি পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। পরিষ্কার তুলো ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে চোখ বন্ধ করে তার ওপর ৫-১০ মিনিট রাখুন। চাইলে পরিষ্কার ঠান্ডা কমপ্রেসও ব্যবহার করা যায়।
এতে চোখের চারপাশে সাময়িক আরাম মিলতে পারে এবং ক্লান্তিভাব কম মনে হতে পারে। তবে চোখের ভেতরে কোনো ধরনের গোলাপজল বা অন্য প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না।
স্ক্রিন থেকে নিয়মিত বিরতি নিন
একটানা মোবাইল, কম্পিউটার বা ট্যাবের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ শুষ্ক ও ক্লান্ত লাগতে পারে। তাই কাজের মাঝখানে নিয়মিত বিরতি নেওয়ার অভ্যাস করুন। ২০ মিনিট পরপর অন্তত ২০ সেকেন্ড দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো যেতে পারে।
চোখের পাতা স্বাভাবিকভাবে বারবার ফেলুন। চোখ বন্ধ করে কয়েক সেকেন্ড বিশ্রাম নিন। দুই হাতের তালু ঘষে হালকা গরম করে বন্ধ চোখের ওপর আলতোভাবে রাখার পদ্ধতি বা ‘পামিং’ও আরাম দিতে পারে। তবে চোখের ওপর চাপ দেওয়া যাবে না। এটি চোখের ক্লান্তি ও অস্থিরতা কমায়।
রোদ থেকে চোখ ও ত্বক বাঁচান
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের পিগমেন্টেশন বাড়াতে পারে। বাইরে বের হওয়ার সময় তাই চোখের চারপাশের ত্বকসহ মুখে উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। পাশাপাশি ইউভি সুরক্ষাযুক্ত সানগ্লাস পরার অভ্যাস করুন। চোখের নিচে সানস্ক্রিন লাগানোর সময় চোখের ভেতরে যেন না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
২১ দিন ঘুমের রুটিন ঠিক করুন
ডার্ক সার্কেল কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলোর একটি হলো পর্যাপ্ত ঘুম। প্রতিদিন রাত জেগে সিরিজ দেখা, মোবাইল স্ক্রল করা বা কাজের কারণে ঘুমের সময় পিছিয়ে দেওয়া চোখের ক্লান্তি আরও বাড়াতে পারে।
তাই টানা ২১ দিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য রাতে প্রায় ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখা ভালো। ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমিয়ে দিন এবং প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠার অভ্যাস করুন।
আরও পড়ুন
ত্বকের যত্নে নিমের সাবান, বাড়িতেই বানাবেন যেভাবে
ডার্ক সার্কেল সবসময় শুধু ঘুমের অভাবের কারণে হয় না। বংশগত কারণ, অ্যালার্জি, ত্বকের পিগমেন্টেশন, বয়সজনিত পরিবর্তনসহ নানা কারণ থাকতে পারে।
আরও পড়ুন
ঝলমলে চুল পেতে মেথি নাকি ডিম, কোনটি বেশি উপকারী
তাই ২১ দিনের যত্নের পরও যদি কালচে ভাব একই থাকে, হঠাৎ বেড়ে যায়, অথবা চোখের চারপাশে চুলকানি, ফোলা কিংবা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে, বি বিউটিফুল, টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসএকেওয়াই
বিজ্ঞাপন