ব্রেকিং নিউজ
গোলাপগঞ্জে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদি জনতা’র বিক্ষোভ দেশে ফিরলেন বিএসএফের হাতে আটক ৫ বাংলাদেশি  যে শহরে বিনা মূল্যে খাবার পাওয়া যায় এশিয়ান গেমসের অব্যবস্থাপনা: ৬ ঘণ্টা বিমানবন্দরে আটকা চীন-ভারতের অ্যাথলেটরা, কোরিয়ার ক্ষোভ ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসির ঘটনা তদন্তে কমিটি, তবে তাঁর অবস্থান জানা যাচ্ছে না জুড়ীতে পরকিয়ার জেরে সিএনজি চালককে হত্যা: মা-মেয়ে গ্রেপ্তার বাউফলে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার পদ্মায় তীব্র স্রোত: জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ রুটে ১২ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ ‘যে কোনো মানদণ্ডেই ইরান যুদ্ধে হেরে যাচ্ছে আমেরিকা’ মিয়ানমারে মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তার অভিযোগে তদন্তের মুখে টেলিনর
জাতীয়

২৮ বছর পর বাবার ঋণ শোধ করতে পাওনাদারের খোঁজে সন্তান

P
Prothom Alo অনলাইন ডেস্ক
1 বার পঠিত
বিজ্ঞাপন Ad

১৯৯৮ সালে পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলেন পিরোজপুরের আবদুল খালেক শিকদার। সেই ঋণ শোধ করে যেতে পারেননি তিনি। মারা গেছেন ২০১১ সালে। ২৮ বছর পর বাবার ঋণ শোধ করতে পাওনাদারকে খুঁজছেন খালেক শিকদারের জ্যেষ্ঠ সন্তান কাঞ্চন শিকদার। তবে খোঁজ মিলছে না পাওনাদারের।

‘বঙ্গভিটা’ নামের একটি ফেসবুক পেজে এমন একটি পোস্ট করা হয় ১৪ সেপ্টেম্বর। পোস্টের সূত্র ধরে প্রথম আলো যোগাযোগ করে কাঞ্চন শিকদারের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে জানান, মৃত্যুর আগে ঋণের কথা তাঁকে বলে যান বাবা খালেক শিকদার। তবে সে সময় তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা সচ্ছল না থাকায় ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ নিতে পারেননি। এখন সেই ঋণ শোধ করতে চান তিনি।

কাঞ্চন শিকদারের বয়স এখন ৪৫ বছর। তিনি পিরোজপুর সদরে খামারে গরু লালন–পালন করেন। এলাকায় মাছের ব্যবসাও রয়েছে তাঁর। একসময় তাঁর বাবা পিরোজপুর থেকে কাঁচা–পাকা ফল এনে পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটের আড়তে বিক্রি করতেন। সেখানকার একজন আড়তদার ছিলেন রণজিত ঘোষ। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম ছিল ‘প্রদীপ ভান্ডার’।

নব্বইয়ের দশকে যখন খালেক শিকদার প্রথম ঢাকায় ব্যবসা করতে আসেন, তখনই রণজিত ঘোষের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সে সময়েই রণজিত ঘোষের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাদন নিয়েছিলেন তিনি। কথা ছিল ব্যবসা করে সেই টাকা শোধ করবেন। তবে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ব্যবসা করেও টাকা শোধ করতে পারেননি। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে গ্রামে ফিরে যান। ২০১১ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

খালেক শিকদার যখন ব্যবসা করতেন, সে সময় পিরোজপুর থেকে লঞ্চে করে মালামাল কাঞ্চনই ঢাকায় আনতেন। সেই সূত্রে রণজিত ঘোষের সেই সময়কার বাসস্থান শাঁখারীবাজারে কয়েকবার গিয়েছেন তিনি।

২৮ বছর আগের সেই স্মৃতিকে সম্বল করে পাওনাদারের খোঁজে মাস তিনেক আগে ঢাকায় এসেছিলেন কাঞ্চন শিকদার। তবে খোঁজ পাননি। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘৯৮ সালে যে বাসাবাড়ি দ্যাখছি, বর্তমানের লগে তো হ্যার কোনো মিল নাই। হ্যার বাসার এক পাশে মন্দির, এক পাশে মসজিদ ছেলো। মসজিদ–মন্দির ওই জায়গায় আছে কিন্তু হেই বাসা নাই। হেইখানে ওহন বড় বড় বাসাবাড়ি।’

কাঞ্চন শিকদারের কাছে সেই সময়কার একটি রসিদ রয়েছে। যেখানে ঠিকানা লেখা ‘আহসান উল্লাহ রোড, আল ফেসানী মার্কেট, লোতনাল, ওয়াইজঘাট, ঢাকা-১১০০’। রণজিত ঘোষের আড়তের খোঁজে গত বুধবার সরেজমিনে যাই পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে। তবে প্রদীপ ভান্ডার নামে কোনো আড়তের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

‘প্রদীপ ভান্ডার’ নামের আড়ত থেকে দেওয়া এই রসিদ রয়েছে পিরোজপুরের ব্যবসায়ী কাঞ্চন শিকদারের কাছে, যিনি বাবার ঋণ পরিশোধের জন্য ওই আড়তের মালিককে খুঁজছেন

ওই এলাকার বেশ পুরোনো একজন ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একসময় রণজিত ঘোষ সেখানে ব্যবসা করতেন। প্রায় ১০ বছর আগে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে চলে গেছেন। বর্তমানে তাঁরা কোথায় থাকেন, সেই খোঁজ তাঁর কাছে নেই।

২৮ বছর আগে নেওয়া এই ঋণকে বাবার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত দায় হিসেবে দেখেন কাঞ্চন শিকদার। বিভিন্ন মাধ্যমে খুঁজে যাচ্ছেন পাওনাদারকে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘একসময় আমরা অভাবগ্রস্ত ছিলাম। দেনা শোধ করতে পারি নাই। অহন আল্লায় সুযোগ দিছে। বাবার দায়ডা শোধ করবার চাই।’

বিজ্ঞাপন Ad
পাঠকের মতামত
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন Ad
বিজ্ঞাপন Ad

সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b> | নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>