ভারতের এররামাত্তি মাঙ্গাম্মার বয়স তখন ৭৪ বছর। ২০১৯ সালে তিনি যমজ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁকেই সবচেয়ে বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দেওয়া নারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ পদ্ধতিতে মা হয়েছিলেন তিনি। এর মানে, অন্য নারীর দান করা ডিম্বাণু ব্যবহার করে তিনি গর্ভধারণ করেছিলেন। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ সন্তানের জন্ম দেন।
মাঙ্গাম্মার ঘটনা থেকে দেখা যায়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে মেনোপজ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও গর্ভধারণ সম্ভব। আইভিএফের মাধ্যমে মেনোপজের পরও গর্ভধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এত বেশি বয়সে গর্ভধারণ ও সন্তান জন্ম দিলে মায়ের জন্য নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে।
মাঙ্গাম্মার ঘটনা থেকে দেখা যায়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে মেনোপজ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও গর্ভধারণ সম্ভব। আইভিএফের মাধ্যমে মেনোপজের পরও গর্ভধারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতে সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মাঙ্গাম্মার বয়স ৭৪ বছর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বহু বছর ধরে বিবাহিত থাকার পরও তাঁর ও তাঁর স্বামীর কোনো সন্তান ছিল না। পরে তাঁরা আইভিএফের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
চিকিৎসকেরা অন্য নারীর দান করা ডিম্বাণু ব্যবহার করে তৈরি ভ্রূণ মাঙ্গাম্মার জরায়ুতে স্থাপন করেন। এরপর তিনি যমজ সন্তান গর্ভে ধারণ করেন। শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুই কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
মাঙ্গাম্মার আগে ৫০, ৬০ এমনকি ৭০ বছর বয়সী নারীদের সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছিল। ভারতের দলজিন্দর কৌর ২০১৬ সালে সন্তানের জন্ম দেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৭২ বছর।
স্পেনের মারিয়া দেল কারমেন বুসাদা দে লারা ২০০৬ সালে আইভিএফের মাধ্যমে যমজ ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৬৬ বছর। বেশি বয়সে সন্তান নেওয়ার কারণে তাঁর ঘটনাটি পরে চিকিৎসা ও নৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে। সন্তান জন্মের কয়েক বছর পরই তিনি মারা যান।
মাঙ্গাম্মার আগে ৫০, ৬০ এমনকি ৭০ বছর বয়সী নারীদের সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছিল। ভারতের দলজিন্দর কৌর ২০১৬ সালে সন্তানের জন্ম দেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ৭২ বছর।
ব্রিটিশ ক্রাউন ডিপেনডেন্সি গার্নসির ডন ব্রুক ১৯৯৭ সালে ৫৯ বছর বয়সে একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। তাঁর ঘটনাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, তিনি আইভিএফের মাধ্যমে নয়, বরং স্বাভাবিকভাবেই গর্ভধারণ করেছিলেন বলে জানা যায়। সে সময় তিনি অবশ্য হরমোনের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
তবে সবচেয়ে বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো ঘটনায় মায়ের প্রকৃত বয়স নিয়ে অনেক সময় সন্দেহ থেকে যায়। বয়সের রেকর্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন বা অন্য নির্ভরযোগ্য নথির প্রয়োজন হয়। হিসাবের ক্ষেত্রে সব সময় একই ধরনের তথ্য-প্রমাণ ব্যবহার করা হয় না। ফলে কে সবচেয়ে বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, এমন রেকর্ডের ক্ষেত্রে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকতেই পারে।
সবচেয়ে বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দেওয়ার মতো ঘটনায় মায়ের প্রকৃত বয়স নিয়ে অনেক সময় সন্দেহ থেকে যায়। বয়সের রেকর্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন বা অন্য নির্ভরযোগ্য নথির প্রয়োজন হয়।
মেনোপজ সাধারণত নারীর স্বাভাবিক প্রজননক্ষমতার সমাপ্তি বোঝায়। এ সময় ডিম্বাশয় নিয়মিতভাবে ডিম্বাণু ছাড়ে না। ফলে বেশি বয়সে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ অত্যন্ত বিরল। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়, ৫২ বছর বয়সের পর স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
আইভিএফ এই জায়গায় কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। এ পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। এরপর সেই ভ্রূণ স্থাপন করা হয় জরায়ুতে। মেনোপজের পর কোনো নারীর নিজের ডিম্বাণু কার্যকর না থাকলে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী অন্য কোনো নারীর দান করা ডিম্বাণু ব্যবহার করা যায়।
হরমোনের চিকিৎসার মাধ্যমে জরায়ুকে ভ্রূণ ধারণের উপযোগী করে তোলা সম্ভব। তাই মেনোপজ হয়ে যাওয়ার মানে এই নয় যে একজন নারী কোনোভাবেই গর্ভধারণ করে সন্তান ধারণ করতে পারবেন না। তবে এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক প্রজননক্ষমতা আর থাকে না, চিকিৎসা নিতে হয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সে গর্ভধারণকে অ্যাডভান্সড ম্যাটারনাল এজ গর্ভধারণ বলা হয়। তাই ৫০, ৬০ বা ৭০ বছর বয়সে গর্ভধারণ এমনিতেই চিকিৎসকদের বিশেষ নজরে পড়ে।
৫০ বছরের বেশি বয়সে গর্ভধারণ এখনো খুবই বিরল। যুক্তরাজ্যে বছরে ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ২০টির বেশি সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী মায়েদের ৫৩৯টি সন্তান জন্মের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল।
অবশ্য এসব ঘটনা মাতৃত্বের একটি বড় পরিবর্তনের অংশ। অনেক নারী আগের তুলনায় বেশি বয়সে মা হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৮ সালে প্রথমবার মা হওয়ার গড় বয়স বেড়ে ২৬ দশমিক ৯ বছরে দাঁড়িয়েছিল।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সে গর্ভধারণকে অ্যাডভান্সড ম্যাটারনাল এজ বা বেশি বয়সে গর্ভধারণ বলা হয়। তাই ৫০, ৬০ বা ৭০ বছর বয়সে গর্ভধারণ এমনিতেই চিকিৎসকদের বিশেষ নজরে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী মায়েদের ৫৩৯টি সন্তান জন্মের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। অবশ্য এসব ঘটনা মাতৃত্বের একটি বড় পরিবর্তনের অংশ।
বয়স বেশি হলেও একজন নারী সুস্থ থাকতে পারেন। কিন্তু শুধু বয়সের কারণেই গর্ভাবস্থায় কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এ ধরনের গর্ভাবস্থায় সাধারণত নিয়মিত ও নিবিড়ভাবে মায়ের স্বাস্থ্য এবং গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করতে হয়।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। গর্ভাবস্থায় মায়ের মৃত্যুর ঝুঁকিও বয়সের সঙ্গে বাড়তে পারে।
ঝুঁকি শুধু মায়ের জন্য নয়, শিশুর জন্যও রয়েছে। বেশি বয়সে গর্ভধারণের ফলে সময়ের আগেই সন্তান জন্মদান এবং কম ওজন নিয়ে শিশু জন্মানোর ঝুঁকি বাড়তে পারে। ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ সালের যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় দেখা যায়, ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের কম ওজনের শিশু জন্ম দেওয়ার ঝুঁকি ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি ছিল।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। গর্ভাবস্থায় মায়ের মৃত্যুর ঝুঁকিও বয়সের সঙ্গে বাড়তে পারে। ঝুঁকি শুধু মায়ের জন্য নয়, শিশুর জন্যও রয়েছে।
গর্ভাবস্থায় মৃত সন্তান জন্ম দেওয়ার ঝুঁকিও মায়ের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কম বয়সী মায়েদের তুলনায় এই ঝুঁকির সম্ভাবনা বয়স্ক মায়েদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি।
যখন গর্ভধারণে মায়ের নিজের ডিম্বাণু ব্যবহার করা হয়, তখন মায়ের বয়স বাড়ার সঙ্গে শিশুর ক্রোমোজোমে অস্বাভাবিকতার ঝুঁকিও বাড়ে। এর একটি কারণ হলো, শরীরের অন্যান্য কোষের মতো ডিম্বাণুতেও বয়সের প্রভাব পড়ে। তবে অন্য কারও দান করা ডিম্বাণু ব্যবহার করলে এই নির্দিষ্ট ঝুঁকির হিসাব বদলে যায়। কারণ, তখন ডিম্বাণুর জিনগত ঝুঁকি মূলত যে নারী ডিম্বাণু দান করেছেন, তাঁর বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে।
সন্তান জন্ম দেওয়ার সময়ও কিছু বাড়তি সমস্যা দেখা দিতে পারে। ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে সিজারিয়ান বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ার হার অনেক বেশি। মাঙ্গাম্মার যমজ সন্তানকেও স্বাভাবিক প্রসবের বদলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই পৃথিবীতে আনা হয়েছিল।
সম্পাদক ও প্রকাশক: <b>ডি. হাসান. খান</b>
|
নির্বাহী সম্পাদক: <b>এ. এইচ. সুমন</b>
<div><b>বেলভিউ টাওয়ার ৭১ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, হাতিরপুল, ঢাকা-১২০৫</b></div>